অমির সঙ্গে পরীমনির কী সম্পর্ক?

বিনোদন প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ২২ জুন ২০২১, ১০:৪১ | প্রকাশিত : ২২ জুন ২০২১, ১০:৩২

সাভারের বোট ক্লাবে চিত্রনায়িকা পরীমনিকে যৌন হেনস্তা ও মারধরের ঘটনা প্রকাশ হওয়ার পর থেকে সরগরম ঢালিউড ও আদালত পাড়া। গত ১৩ জুন রাতে বনানীতে নিজ বাসায় সংবাদ সম্মেলন করে অভিনেত্রী জানান, নাসির উদ্দিন মাহমুদ নামে এক ব্যবসায়ী তার সঙ্গে এমন অশালীন আচরণ করেছেন। তাকে সহায়তা করেছেন তুহিন সিদ্দিকী অমি নামে আরেক ব্যবসায়ী।

ওই ঘটনায় গত ১৪ জুন সকালে সাভার মডেল থানায় ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদ ও তুহিন সিদ্দিকী অমিকে যথাক্রমে এক ও দুই নম্বর আসামি করে মোট ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন পরীমনি। ওইদিনই তাদের গ্রেপ্তার করে ঢাকার ডিবি পুলিশ। বর্তমানে তারা জেলে রয়েছেন।

অথচ এই অমির সঙ্গেই গত ৯ জুন মধ্যরাতে বোট ক্লাবে গিয়েছিলেন পরীমনি। তাই স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠছে, অমির সঙ্গে তাহলে নায়িকার কী সম্পর্ক? যে অতো রাতে তার সঙ্গে ক্লাবে চলে গেলেন! এই প্রশ্নের উত্তরে ইতোমধ্যে অমির বাবা তোফাজ্জল হোসেন গণমাধ্যমের কাছে দাবি করেছেন, অমি এবং পরীমনি স্কুলজীবন থেকেই বন্ধু। এর বাইরে তাদের মধ্যে পারিবারিক বা কোনো আত্মীয়তার সম্পর্ক নেই।

কিন্তু অমির বাবার এই দাবি মানতে নারাজ নেটবাসী। তারা দুটি প্রশ্ন তুলেছেন। প্রথমত, ২৮ বছর বয়সী পরীমনির সঙ্গে ব্যবসায়ী তুহিনের বয়সের বিস্তর ফারাক। তাহলে তারা স্কুলজীবনের বন্ধু কীভাবে হয়? দ্বিতীয়ত, ছোটবেলায় মা হারানোর পর পিরোজপুরে নানাবাড়িতে শৈশব কেটেছে পরীমনির। সেখান থেকেই মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পাস করেছেন। অন্যদিকে, অমি বেড়ে উঠেছেন ঢাকার আশকোনায়। এই হিসেবও তো মেলে না।

এদিকে অমির বাবার করা দাবির সঙ্গে পরীমনির দেয়া বক্তব্যও পরস্পরবিরোধী। গত ১৩ জুন রাতে নিজ বাসায় সংবাদ সম্মেলন করে নায়িকা জানিয়েছিলেন, ‘আমার কস্টিউম ডিজাইনার জিমির কলেজ জীবনের বন্ধু অমি। সেই সূত্রে আমার সঙ্গে তার দুই বছর ধরে ‘হ্যাই হ্যালো’। জিমির সঙ্গে অমি আমার বাসায়ও আসতেন মাঝে মাঝে। তবে তিনি আমার ওই রকম কাছের কেউ নন।’

সংবাদ সম্মেলনে নায়িকা আরও বলেন, ‘সিঙ্গাপুর ট্রেইনিং সেন্টার নামে একটি প্রতিষ্ঠান চালান অমি। এর চেয়ে বেশি কিছু জানি না তার সম্পর্কে। আসামিদের মধ্যে কেবল অমিই আমার পূর্ব পরিচিত। তার উপর বিশ্বাস রেখেই ৯ জুন রাতে বোট ক্লাবে গিয়েছিলাম। সেখানে যাওয়ার পর অমির ভিন্ন চেহারা দেখে আমি নির্বাক ও বিস্মিত হই। নাসির উদ্দিন মাহমুদের সঙ্গে তার আগে থেকেই পরিচয় ছিল।’

অন্যদিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও একাধিক সূত্র মারফত জানা গেছে, ক্লাব পাড়ায় অমি বেশ পরিচিত নাম। তিনি ঢাকা বোট ক্লাবের সদস্য। পরীমনি দাবি করেন, সেদিন রাতে অমিই তাকে সুকৌশলে ওই ক্লাবে নিয়ে গিয়েছিলেন। সেখানে ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদ যখন তাকে যৌন হেনস্তা ও মারধর করছিলেন, অমিই তাকে সেই কাজে সহায়তা করছিলেন। বোট ক্লাবে নিয়ে যাওয়া অমির পূর্বপরিকল্পিত ছিল বলেও দাবি করেন নায়িকা।

চিত্রনায়িকা পরীমনির জন্মস্থান যশোরের নড়াইল। তার জন্মনাম শামসুন্নাহার স্মৃতি। মাত্র তিন বছর বয়সে মাকে হারানোর পর পিরোজপুরে নানাবাড়িতে রাখা হয় পরীমনিকে। সেখানে বেড়ে ওঠেন এবং স্কুল ও কলেজের পড়াশোনা শেষ করেন। এরপর বাংলা বিভাগে বিএ-তে (সম্মান) ভর্তি হন সাতক্ষীরা সরকারি কলেজে। সেখানে পড়াকালীন ২০১১ সালে চলে আসেন ঢাকায়। এরপর কালক্রমে তিনি হয়ে যান সিনেমার নায়িকা।

অন্যদিকে, অমির গ্রামের বাড়ি সিরাজগঞ্জ। জন্ম ও বেড়ে ওঠা ঢাকার আশকোনায়। তার বাবা তোফাজ্জল হোসেন এক সময় বিদেশে ছোট একটা চাকরি করতেন। দেশে ফিরে শুরু করেন ব্যবসা। তবে সংসারে ভাগ্য ফেরে যখন অমি আশকোনায় তাদের সিঙ্গাপুর ট্রেনিং সেন্টারের হাল ধরেন। এই প্রতিষ্ঠানের আড়ালে নারী পাচার করে প্রচুর টাকা কামান। উত্তরা ও আশকোনায় তাদের একাধিক বাড়ি ও প্লট রয়েছে। ওই এলাকায় অমিকে সবাই এক নামে চেনে।

গুঞ্জন রয়েছে, এর আগে ঢালিউডের আরও দুই নায়িকা অমির ফাঁদে পড়ে হেনস্থার শিকার হয়েছিলেন। তাদের অন্তরঙ্গ ছবি ধারণ করে ব্ল্যাকমেইল করার চেষ্টা করেছিলেন অমি। এছাড়া ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের যোগসাজসেও তিনি বহু নারীর সঙ্গে ব্ল্যাকমেইল করেছেন বলে তাদের গ্রেপ্তারের পর জানায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। অবশেষে পরীমনির ঘটনার মাধ্যমে অমির সেই মুখোশ উন্মোচিত হলো।

ঢাকাটাইমস/২২জুন/এএইচ

সংবাদটি শেয়ার করুন

বিনোদন বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :