উন্নয়নের নামে রুয়েটে কাটা হচ্ছে অর্ধশতবর্ষী গাছ

রাজশাহী ব্যুরো, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৬:৪৩

রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (রুয়েট) উন্নয়নের নামে কাটা হচ্ছে ৫০টি গাছ। এই গাছগুলোর বয়স ৫০ বছরেরও বেশি বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্টরা।

শুক্রবার সকালে গিয়ে দেখা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের পেছনে এবং মেজারমেন্ট ল্যাবের পেছনে শ্রমিকদের দিয়ে গাছ কাটা হচ্ছে। এরই মধ্যে প্রশাসনিক ভবনের পেছনের গাছগুলো কাটা হয়েছে।

পরিকল্পনা ও উন্নয়নের দপ্তরের তদারকিতে চলছে এই গাছ কাটার কাজ। প্রায় ২০টি কৃষ্ণচূড়া ও মিনজিরি গাছ কাটা হয়েছে। আরও কাটা পড়বে আম, লিচু, মেহগনি, কড়ইসহ কয়েকটি গাছ।

তবে গাছ কাটার বিষয়ে কিছুই জানে না বন বিভাগ। রাজশাহী বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আহমেদ নিয়ামুর রহমান বলেন, সরকারি গাছ কাটার জন্য কর্তৃপক্ষের বাধ্যতামূলকভাবে অনুমোদন নেওয়া উচিত এবং বন বিভাগের উচিত গাছের দাম মূল্যায়ন করা। তিনি দাবি করেন, রুয়েট কর্তৃপক্ষ গাছ কাটার বিষয়ে বন বিভাগকেও জানানো হয়নি।

রুয়েটের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক সেলিম হোসেন বলেন, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করতেই এসব গাছ কাটা হচ্ছে। সম্প্রতি সরকার ছয়শ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে। সে প্রকল্পের আওতায় আছে ১০টি দশতলা ভবন নির্মাণসহ ১৩টি ভবন নির্মাণ।

ইতোমধ্যে তিনটি ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। ভবন নির্মাণ করতে যেসব এলাকায় গাছ পড়বে সেসব এলাকার গাছ কাটা হবে। এজন্য গত আগস্টের প্রথম সপ্তাহে রুয়েটের পক্ষ থেকে এক হাজার গাছও লাগানো হয়েছে ক্যাম্পাসে।

রুয়েট কর্তৃপক্ষের দাবি, নতুন প্রশাসনিক ও অ্যাকাডেমিক ভবন নির্মাণের জায়গা তৈরির জন্য এসব গাছ বিক্রি করা হয়েছে। রুয়েটের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক সেলিম হোসেন বলেন, আশির দশক থেকে ক্যাম্পাসে কোনো উন্নয়ন কর্মকাণ্ড হয়নি। সম্প্রতি সরকার ৬০০ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে, যার আওতায় আছে ১০টি ১০তলা ভবন নির্মাণ। এজন্য মোট ৫০টি গাছ কাটা হবে।

পরিবেশের ক্ষতি ও রিকভারি প্লান সম্পর্কে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলাম শেখ বলেন, রুয়েটের শিক্ষা ও গবেষণার পরিবেশ তৈরিতে অ্যাকাডেমিকভবনগুলো নির্মাণ প্রয়োজন। এরই মধ্যে বরাদ্দ পেয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টি। অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য দুটি স্থানের গাছ কাটা পড়ছে। তবে সেটি সীমিত। একইসঙ্গে আমরা পরিবেশ অধিদপ্তরকে চিঠি দিয়ে জানিয়েছি।

এছাড়া কম মূল্যে গাছ বিক্রির অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে উপাচার্য বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন দপ্তর এবং সিন্ডিকেটের অনুমোদনের পর গাছগুলো কাটা হচ্ছে। স্বচ্ছতা এবং সঠিক দাম পাওয়ার জন্য আমাদের তিনবার টেন্ডার দিতে হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭ সালে রুয়েটের অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য একনেকে পাশ হওয়া ৩৪০ কোটি ১৩ লাখ টাকার বরাদ্দ ২০২০ সালে ৫৯৯ কোটি ৩০ লাখ টাকাতে উন্নীত করা হয়। এই বরাদ্দের অনুকূলে ১৪ টি ভবন নির্মাণ করা হবে। যার মধ্যে আছে তিনটি অ্যাকাডেমিক ভবন, একটি প্রশাসনিক ভবন, একটি ইনস্টিটিউট ভবন, একটি ছাত্র হল ও একটি ছাত্রী হল, একটি শিক্ষক কোয়ার্টার, একটি শিক্ষক ডরমেটরি, একটি অফিসার্স কোয়ার্টার, একটি স্টাফ কোয়ার্টার, মেডিক্যাল সেন্টার ভবন এবং ভিসির বাসভবন নির্মাণ করা হবে। সেই ভবন নির্মাণের জায়গা নির্ধারণ হওয়ায় দুইটি স্থানের প্রায় ৫০ টি গাছ কাটা পড়বে বলে জানান তারা। এরই মধ্যে ১৫ টি গাছ বিক্রি করা হয়েছে।

অন্যদিকে ক্ষতি পোষাতে এরই মধ্যে এক হাজারের বেশি গাছ ক্যাম্পাসে লাগিয়েছেন বলে দাবি করেন উপাচার্য। ১৯৬৪ সালে বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার পর থেকে এই গাছগুলোর অধিকাংশই রুয়েট ক্যাম্পাসে লাগানো হয়েছিল।

(ঢাকাটাইমস/১৭সেপ্টেম্বর/কেএম)

সংবাদটি শেয়ার করুন

শিক্ষা বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :