সরকারি-বেসরকারি সব মেডিকেল কলেজে রিউমাটোলজি বিভাগ চালুর দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ১২ অক্টোবর ২০২১, ১৯:৪৩ | প্রকাশিত : ১২ অক্টোবর ২০২১, ১৩:৫৩

দেশে নানা বয়সী বিপুল সংখ্যক মানুষ বিভিন্ন ধরণের বাতব্যথা রোগে ভুগলেও সেই তুলনায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অনেক কম। ফলে অনেকে ভুল চিকিৎসার স্বীকার হচ্ছেন। তাই বাতের কষ্টে ভোগা রোগীদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে দেশের সব সরকারি ও বেসরকারি মেডিকেল কলেজে রিউমাটোলজি বিভাগ চালু করার দাবি করেছেন চিকিৎসকরা।

মঙ্গলবার দুপুরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) মিলনায়তনে বিশ্ব অর্থ্রাইটিস দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও বৈজ্ঞানিক সেমিনারে এই দাবি করেন রিউমাটোলজি বিশেষজ্ঞরা।

বাত রোগের চিকিৎসা ও জটিলতা নিয়ে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে ১৯৯৬ সাল থেকে প্রতি বছর ১২ই অক্টোবর বিশ্ব আর্থ্রাইটিস ২০২১ দিবস বিশ্বব্যাপী পালিত হয়ে আসছে।

বিএসএমএমইউর রিউমাটোলজি বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এই রোগে চিকিৎসায় জড়িত চিকিৎসকরা বলেন, বয়সের সাথে সাথে বাতের ব্যথার প্রকোপ ও ব্যথা বাড়তে থাকে। শতাধিক ধরনের আর্থ্রাইটিস রোগে বিভিন্ন বয়সী মানুষ ভোগেন। বিশেষ করে বয়স্ক মানুষরা বেশি সমস্যায় পড়ছেন। যথাযথ চিকিৎসা না হওয়ার কারণে এই রোগে আক্রান্ত হয়ে অনেকেই অসহায় এবং অক্ষমতার জীবন যাপন করেন। তাই সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো নিজে সচেতন হওয়া পাশাপাশি সঠিকভাবে রোগটি শনাক্ত করা।

বেশিরভাগ মানুষ হাঁটুব্যথা বাত, কোমরব্যথা ও গিরাব্যথায় ভোগেন বলেও জানান চিকিৎসকরা।

বৈজ্ঞানিক সেমিনারে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশে মোট কত বাত রোগী জাতীয়ভাবে তার পরিসংখ্যান নেই। তবে সমগ্র বিশ্বে প্রায় ২২.৭% ( ৫৪.৪ মিলিয়ন) প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষ আর্থ্রাইটিস বা বাত রোগে আক্রান্ত। এর মধ্যে ২৩.৫% পুরুষ এবং ১৮.১ % মহিলা বাত রোগ অন্য সাধারণ রোগের মত শুধু ওষুধ দিয়ে চিকিৎসা করে এর ভয়াবহতা এড়ানো সম্ভব নয়। এটা শুধু শারীরিকভাবেই পঙ্গুত্ব তৈরি করে না বরং মানসিকভাবে ও সামাজিকভাবেও রোগীকে হীনমন্যতায় ফেলে দেয়।

বিএসএমএমইউর ফিজিক্যাল মেডিসিন এন্ড রিহ্যাবিলিটেশন বিভাগে বাতরোগ আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা, পূনর্বাসন ও জীবন যাত্রার সঙ্গে অভিযোজনের জন্য ডা. মশিউর রহমান খসরুর তত্ত্বাবধানে রিউম্যাটোলজি রিহ্যাবিলিটেশন ক্লিনিকের কার‌্যক্রম শুরু হয়। এখন পর‌্যন্ত তিন হাজার রোগীকে সেবাদান করা হয়েছে। এই ক্লিনিক থেকে এখন পর্যন্ত ছয়টি গবেষণা সম্পন্ন করা হয়েছে এবং আরো ছয়টি চলমান আছে।

অনুষ্ঠানে বাতের সুচিকিৎসার পাশাপাশি রোগীদের সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়ে বিএসএমএমইউর উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. সরফুদ্দিন আহমেদ বলেন, মানুষের শরীরে জয়েন্টে ব্যাথা এখন সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে ভালো হচ্ছে। এটি একটি ক্রনিক বা দীর্ঘমেয়াদী রোগ যা থেকে পৃথিবীতে কোটি কোটি মানুষ অসুস্থ থাকায় অর্থনৈতিক কার্যক্রমে বিশাল ক্ষতির কারণ হচ্ছে। এসব বিষয়ে চিকিৎসা ও গবেষণা বাড়াতে হবে।

বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণায় জোর দিচ্ছে এমনটা জানিয়ে বিএসএমএমইউ উপাচার্য বলেন, রিউমাটোলজি বিভাগ নানা ধরণের সংকটের মধ্যে আছে। তারপরও বিভাগের পক্ষ মানুষকে সচেতন করতে সবসময় কাজ করছে। আমরা এখন গবেষণায় বরাদ্দ বাড়াচ্ছি। এই বিভাগের জন্য আরও বরাদ্দ বাড়ানোর ব্যবস্থা করব।

অনুষ্ঠানে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. কাজী দীন মোহাম্মদ বলেন, আমাদের চিকিৎসকদের মেধা আছে। এখন ইচ্ছাশক্তি বাড়াতে হবে। বিশেষ করে ডেডিকেশন বাড়াতে হবে। তরুণ চিকিৎসকদের অনুরোধ করব আপনাদের শিখতে হবে। আপনার শেখা আপনাকেই শিখতে হবে। ভালো শেখার প্রশিক্ষণ নিতে হবে। সেক্ষেত্রে আপনার বস হবে মূল প্রশিক্ষক।

দীন মোহাম্মদ আরও বলেন, ভালো ডাক্তার হন। দেশ বিদেশে কদর আছে৷ কিন্তু যদি ফাঁকি দেন বুঝতে হবে সেই ফাঁকি নিজেকে দিচ্ছেন। কারণ রোগীরা বুদ্ধিমান তারা কিন্তু আপনাকে ধরে ফেলবে৷

চিকিৎসকদের মানসম্মত প্রশিক্ষণের অভাববোধ করছেন জানিয়ে প্রখ্যাত এই চিকিৎসক বলেন, আমরা আসলে মানসম্মত ট্রেনিংয়ের জায়গায় আটকে আছি।

চিকিৎসকদের ইন্টারনাল মেডিসিনের উপর দক্ষতা বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছেন তিনি।

অনুষ্ঠানে আলোচনায় উঠে আসে, দেশে বাতব্যথা রোগের ওপর শিক্ষা কার্যক্রম অপ্রতুল। বর্তমানে বাতব্যথা রোগের চিকিৎসকের (রিউমাটোলজিস্ট) সংখ্যা দেশের জনসংখ্যার তুলনায় অত্যন্ত কম। তবে ২০২০ সালে দেশের পুরাতন আটটি মেডিকেল কলেজে ও হাসপাতালে ৩৩টি রিউমাটোলজিস্টের পদ সৃষ্টি হয়েছে। বেসরকারি পর্যায়ে শুধু সাভারের এনাম মেডিক্যাল কলেজ ছাড়া আর কোথাও এই বিভাগ অদ্যাবধি চালু নেই।

বিএসএমএমইউর রিউমাটোলজি বিভাগের কোর্স কোর্ডিনেটর ও রিউমোটলিস্টদের আন্তর্জাতিক সংগঠন (APLAR) এর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম বলেন, বিএসএমএমইউ এবং এখানকার রিউমাটোলজি বিভাগ এখন পর্যন্ত ৬০ জন বিশেষজ্ঞ রিউমাটোলজিস্ট তৈরিতে সক্ষম হয়েছে। আরও ৩০ জন রিউমাটোলজিস্ট এই বিষয়ে দেশে চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসছেন। তবে বাত রোগীদের দোরগোড়ায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সেবা পৌঁছানো সময়ের দাবি। এজন্য পর্যাপ্ত বিশেষজ্ঞ সমভাবে যেমন দরকার, তেমনি পাস করা রিউমাটোলজিস্টদের যথাযথ পদায়নের ব্যবস্থা করতে হবে।

রিউমাটোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মিনহাজ রহিম চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন মেডিসিন ও রিউমাটোলজি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. সৈয়দ আতিকুল হক, ঢাকা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. টিটু মিয়া প্রমুখ।

বৈজ্ঞানিক সেমিনারে বাত রোগের ডায়াগনসিস ও চিকিৎসায় সাধারণ ভুল নিয়ে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ডা. নাহিদুজ্জামান সাজ্জাদ ও জয়েন্টে ইনজেকশন ব্যবহারের ওপর প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অধ্যাপক ডা. মো. নজরুল ইসলাম।

ঢাকাটাইমস/১২অক্টোবর/বিইউ/এমআর

সংবাদটি শেয়ার করুন

স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :