ভার্চুয়াল মাধ্যমে যৌনবৃত্তি, বাড়াচ্ছে ধর্ষণঝুঁকি

নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ২১ জানুয়ারি ২০২২, ০৮:৪১ | প্রকাশিত : ২০ জানুয়ারি ২০২২, ২১:৪৪

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে চলছে অসামাজিক যৌনবৃত্তির রমরমা বাণিজ্য। বাংলাদেশে সবার চোখের সামনে ঘটছে এই অবৈধ কর্মযজ্ঞ। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এ ধরনের কার্যক্রম একদিকে যেমন সামাজিকতা নষ্ট করছে, পাশাপাশি সমাজে ধর্ষণের ঝুঁকিও বাড়াচ্ছে।

এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পদপেক্ষও যথেষ্ট হচ্ছে না। আর নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি বলছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী থেকে নির্দেশনা পেলে তারা এ ধরনের অ্যাকাউন্টের বিষয়ে ব্যবস্থা নিয়ে থাকেন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ইনস্টাগ্রামে সম্প্রতি মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছে যৌনব্যবসার কয়েকটি প্রতিষ্ঠান। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমটি ঘুরে দেখা যায়, ‘বিডি গার্লস সার্ভিস’, ‘রিয়েল গার্লস সার্ভিস ঢাকা’, ‘ঢাকা রিয়েল গার্লস সার্ভিস’, ‘রিয়েল সার্ভিস ঢাকা’ নামে বেশ কিছু অ্যাকাউন্ট সক্রিয়। সেখানে উন্মুক্তভাবে যৌনকর্মের বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছে। রয়েছে হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর। সেই নম্বরে মেসেজ পাঠালে ওপাশ থেকে জানানো হয় বিস্তারিত।

এর মধ্যে ‘ঢাকা রিয়েল গার্লস সার্ভিস’ নামের একটি অ্যাকাউন্টে দেওয়া হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে খদ্দের হিসেবে যোগাযোগ করলে পতিতাদের ছবি পেতে রেজিস্ট্রেশন করতে বলা হয়। আর বিকাশের মাধ্যমে ৫১০ টাকা পাঠাতে বলা হয়। টাকা পাঠানোর কিছুক্ষণ পর ওপাশ থেকে পাঠানো হয় ছবি।

ছবি থেকে পছন্দ জানালে ওই পাশ থেকে খরচের পরিমাণ জানানো হয়। এ ক্ষেত্রে প্রতি রাতের জন্য খরচ দেখানো হয়েছে সর্বনিম্ন ১২ হাজার টাকা। আবার নারীভেদে খরচের তারতম্য আছে।

তারা জানায়, তাদের পাঠানো ছবির নারীরা পেশাদার বা নিয়মিত যৌনকর্মী নয়। তারা বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও নামজাদা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত। রয়েছে বিমানবালা, অভিনেত্রী ও গৃহবধূ।

একই ধরনের তথ্য মিলেছে ইনস্টাগ্রামে বিজ্ঞাপন দেওয়া এসব অবৈধ প্রতিষ্ঠান থেকে। সবার ক্ষেত্রে যৌনকর্মীদের চেহারা দেখতে ৫১০ টাকা দিয়ে একটি রেজিস্ট্রেশন নম্বর নিতে হয়। এরপর তাদের পাঠানো ছবি থেকে বেছে নেওয়া যায় কোনো নারীকে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অপব্যবহারকে সামাজের জন্য হুমকি হিসেবে দেখছেন বিষেজ্ঞরা। এর মাধ্যমে তরুণসমাজ বিপদগামী হচ্ছে, নানান অপরাধ বাড়ছে বলেও মনে করেন তারা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক তৌহিদুল হক ঢাকা টাইমসকে জানান, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ওপর সংশ্লিষ্টদের নিয়ন্ত্রণ না থাকায় এ ধরনের অসামাজিক কার্যক্রম চলছে, যা দিন দিন বাড়ছে। আর এই অবৈধ কর্মযজ্ঞ সমাজে ধর্ষণের উৎসাহ বাড়ায়।

তৌহিদুল হক বলেন, ‘আমাদের দেশে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের যে ধরনগুলো ব্যবহার হচ্ছে, তার সব কটাই যে কেউ, যেকোনোভাবে ব্যবহার করতে পারছে। যখন কোনো দেশে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ধরনগুলো কোনো রকম বিধিনিষেধ ছাড়া উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়, তখন একে পুঁজি করে নানা অনৈতিক কাজ যারা করতে চায়, তাদের কাজ করার সুযোগটা বেড়ে যায়।’

পতিতাবৃত্তি বিষয়টি বাংলাদেশের সভ্যতার অংশ নয় এবং এ ধরনের কার্যক্রম সমাজকে কলুষিত করছে বলে মনে করেন এই সমাজ ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ। তার মতে, এখনই এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া না হলে সমাজের অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে যাবে।

তৌহিদুল হক বলেন, ‘আমরা বিভিন্ন সময় দেখি এটাকে বিভিন্ন নামকরণ করা হয়। ভিআইপি সার্ভিস বা অন্য কিছু। এর ফলে যৌন আগ্রহ বেড়ে যায়। বিশেষ করে যারা যুবসমাজ, তাদের মধ্যে। কিন্তু যেহেতু এখানে পে (টাকা দিতে হয়) করতে হয়। সবার পক্ষে কিন্তু পে করা সম্ভব হবে না। পারবে না। তখন অন্য নারীর জন্য নিরাপদে সমাজে চলাফেরা করা অনেকটা কঠিন হয়ে পড়ে। কারণটা হলো- এই ইনস্টাগ্রাম বলুন বা অন্য মাধ্যম বলুন, সে যৌনসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো সে দেখল, এগুলো তার মধ্যে যৌন আগ্রহ বাড়িয়ে দেয়। সেটা নিভৃত করার জন্য সে কখনো ধর্ষণ করে বা যৌনতার যে বিকৃত ধরন রয়েছে, তার সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে পড়ে।’

নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) কাছে এখন পর্যন্ত ইনস্টাগ্রাম সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ আসেনি বলে জানিয়েছেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার।

ঢাকা টাইমসকে মন্ত্রী বলেন, ‘ডিজিটাল সিকিউরিটি আইনের বিধান অনুসারে বিটিআরসিটির দায়িত্ব হলো যদি তাদের কোনো কিছু প্রতিরোধ করতে বলা হয়, বন্ধ করতে বলা হয়, সেক্ষেত্রে ব্যবস্থা গ্রহণ করা।’

মোস্তাফা জব্বার বলেন, `এটি মনিটরিং করে আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা, তথ্য মন্ত্রণালয় কিংবা ডিজিটাল সিকিউরিটি এজেন্সি। এ জায়গাগুলোতে তারা যদি মনিটরিং করে আমাদের কাছে রিপোর্ট করে, এর পরের ধাপটা আমরা করে থাকি। মনিটরিং করারটা বিটিআরসিটির সামর্থ্যে নেই।’

ফেসবুক-ইউটিউব সংক্রান্ত বিষয়গুলো তাদের কাছে বেশি আসে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, `ইন্সট্রাগ্রাম বা অন্যান্য ক্ষেত্রে আমাদের কাছে সেভাবে রিপোর্টেড হয় না। কিন্তু আমাদের কাছে যেগুলো রিপোটেড হয়, সেগুলো আমরা তাৎক্ষণিকভাবেই করি।’

এদিকে পুলিশের সাইবার ক্রাইমের অতিরিক্ত উপকমিশনার পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা তার পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে ঢাকা টাইমসকে জানান, এ ধরনের বিষয়ে তারা অবগত আছেন। কোনো অভিযোগ এলে তারা ব্যবস্থা নিয়ে থাকেন।

(ঢাকাটাইমস/২০জানুয়ারি/মোআ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :