সন্তানদের অবহেলা: বাড়ি ছেড়ে আর ফিরলেন না বৃদ্ধ বাবা

নুরুল ইসলাম, সালথা (ফরিদপুর)
| আপডেট : ০৮ আগস্ট ২০২২, ১৬:৪৩ | প্রকাশিত : ০৮ আগস্ট ২০২২, ১৬:৩৩

সন্তানরা দেখভাল না করায় কষ্ট বুকে চাপা দিয়ে অভিমান নিয়ে বাড়ি ছেড়ে আর ফেরেননি এক বৃদ্ধ বাবা। গত ৭ জুলাই ডাক্তার দেখানোর কথা বলে বাড়ি থেকে বের হন ৮০ বছরের মো. মজু ফকির। বাবা নিখোঁজের এতদিনেও খোঁজ করেননি সন্তানরা। এমনকি সন্ধান চেয়ে থানায় জিডি পর্যন্ত করেনি কেউ। গতকাল রবিবার ওই বৃদ্ধের এক মেয়ে বাবার খোঁজ নিতে এলে বিষয়টি জানাজানি হয়। পরে এটি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। ঘটনাটি ফরিদপুরের সালথা উপজেলার মাঝারদিয়া মুরাটিয়া গ্রামের।

প্রতিবেশীরা জানান, ছয় সন্তান রয়েছে মজু ফকিরের। তাদের মধ্যে চার মেয়ে ও দুই ছেলে। মেয়েরা স্বামীর বাড়িতে সংসার করছেন। দুই ছেলে বাবলু ফকির ও রবিন ফকির বিয়ে করে আলাদা সংসার করছেন। এরমধ্যে বড় ছেলে বাবলু ফকির গত চার বছর ধরে দেশের বাইরে থাকেন । তার স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে বাবার বাড়ি থাকছেন।

প্রতিবেশীরা আরো জানান, সন্তানরা উপার্জনক্ষম হয়ে আলাদা সংসার শুরু করার পর বাবা-মায়ের দেখভাল করতেন না। তাই বাধ্য হয়ে বৃদ্ধ বয়সে মজু ফকির তার স্ত্রী নিছা বেগমকে নিয়ে আলাদা খেতেন। গত এক বছর আগে মারা যান তার স্ত্রী নিছা। এরপরও সন্তানরা কেউ বৃদ্ধ বাবার দেখভালের দায়িত্ব নেওয়ার আগ্রহ দেখায়নি। একপর্যায় সামাজিক চাপে ছোট ছেলে রবিন ফকির বাবার দায়িত্ব নেন। তবে ঠিকমতো বাবার দেখভাল করতেন না। অবহেলা আর অযত্নে চাপা কষ্ট নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে যান তিনি।

নিখোঁজ মজু ফকিরের মেয়ে রেখা বেগম অভিযোগ করে ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘আমার ভাইয়েরা বাবাকে ঠিকমতো ভাত-কাপড় দিতেন না। আমরা বোনেরা যে যার মতো স্বামীর বাড়িতে সংসার করছি। আমরা তো সেইভাবে খেয়াল রাখতে পারিনি।

মা মারা যাওয়ার পর বাবা ছোট ভাই রবিনের সঙ্গে থাকতেন। সেও ঠিকমতো দেখভাল করতেন না। তাই আমার বাবা হতাশা নিয়ে ডাক্তার দেখানোর কথা বলে এক মাস আগে বাড়ি থেকে বের হয়ে গেছেন। আমি থানায় একটি নিখোঁজের ডায়েরি (জিডি) করতে গেলে পুলিশ আমার ভাইকে নিয়ে আসতে বলে। কিন্তু আমার ভাই থানায় যাবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে। পরে আমি আত্মীয়দের বাড়িতে খোঁজখবর নিয়েও বাবার কোনো সন্ধান পাইনি।’

এদিকে ছোট ছেলে রবিনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি। এছাড়া বড় ছেলে বাবলু ফকির বিদেশে থাকায় তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

মাঝারদিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মো. আফছার রউদ্দীন মাতুব্বর ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘বিষয়টি জানার পর আমি মজু ফকিরের বাড়িতে গিয়েছিলাম। তবে তার ছেলে রবিনকে বাড়িতে পাইনি। খোঁজখবর নিয়ে জেনেছি তিনি রাগ করে বাড়ি থেকে বের হয়ে গেছেন। এখন তার কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।’

(ঢাকাটাইমস/৮আগস্ট/এসএম)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বিশেষ প্রতিবেদন বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :