মাহসার মৃত্যুর ঘটনায় বিক্ষোভে উত্তাল ইরান

‘সাহসী’ ইরানি নারীদের পাশে আছি: বাইডেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২২, ২৩:২৭

মাহসা আমিনি, ইন্টারনেট আর মিডিয়ার কল্যাণে নামটা শুনলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে ২২ বছর বয়সী এক ইরানী তরুণীর প্রতিচ্ছবি। কিছুদিন আগে তিনি তার পরিবারের সঙ্গে ইরানের পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ কুর্দিস্তান থেকে রাজধানী তেহরানে আত্মীয়দের সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছিলেন। ধর্মীয় রীতি মেনে জনসমক্ষে হিজাব পরিধান না করায় তাকে দেশটির মোরালিটি পুলিশ ইউনিট গ্রেপ্তার করে। গত শুক্রবার পুলিশি হেফাজতেই মৃত্যু হয় তার। ঘটনার পর বিক্ষোভ এবং প্রতিবাদে অস্থির পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে ইরানে। দেশটির ‘সাহসী’ নারীদের প্রতি সমর্থন প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনও।

বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছিল, গ্রেপ্তারের পর কোমায় চলে যান মাহসা। প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, মাহসা আমিনিকে পুলিশ ভ্যানে মারধর করা হয়েছে, কিন্তু পুলিশ এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন বলেছিল, ‘দুর্ভাগ্যবশত, তিনি মারা গেছেন।’ এছাড়াও মেয়েটি হৃদরোগে আক্রান্ত ছিল বলেও পুলিশ দাবি করেছিল, যদিও মাহসার পরিবার এ ধরণের সমস্যা থাকার কথার বিরোধিতা করে বলেছে, তার কোনো রকমের স্বাস্থ্য সমস্যা ছিল না।

ইরানে নারীদের প্রকাশ্যে হিজাব পরার নিয়মটি আজকের নয়। ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর থেকে মহিলাদের হিজাব পরা বাধ্যতামূলক করেছে দেশটি। চলতি বছরের ১৫ আগস্ট, ইরানের কট্টরপন্থী রাষ্ট্রপতি ইব্রাহিম রাইসি নারীদের ড্রেস কোড বিষয়ক এক ডিক্রিতে স্বাক্ষর করেন। তিনি নারীদের অধিকারের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। ডিক্রি অনুযায়ী পাবলিক এবং অনলাইন উভয় ক্ষেত্রেই ড্রেস কোড লঙ্ঘনের জন্য কঠোর শাস্তির বিধান করা হয়।

মাহসার মৃত্যুর প্রতিবাদে টানা ছয়দিন দেশটির বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানানো হচ্ছে। গত সোমবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গুলিতে অন্তত চারজন নিহত ও ১৫ জন আহত হয়েছেন। অনেক নারীই নিজেদের হিজাব পুড়িয়ে এবং চুল কেটে ভিডিওর মাধ্যমে বিক্ষোভ এবং প্রতিবাদ জানিয়েছেন। বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে টিয়ারসেল নিক্ষেপ এবং সামাজিক মাধ্যম ওয়াটসঅ্যাপ, ইনস্টাগ্রামের ব্যবহার সীমাবদ্ধ করেছে দেশটির সরকার। আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশটির বিভিন্ন শহরে ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্নের খবর পাওয়া গিয়েছে। বেশিরভাগ মোবাইল কোম্পানির নেটওয়ার্ক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। একারণে কয়েক মিলিয়ন মানুষ মোবাইলে যোগাযোগে সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন।

রাজধানী তেহরান এবং দক্ষিণ ইরানের দুই নাগরিক জানান, তারা হোয়াটসঅ্যাপে কোনো ছবি ও ভিডিও পাঠাতে পারছেন না। শুধুমাত্র বার্তা পাঠাতে পারছেন। আর ইনস্টাগ্রাম সম্পূর্ণ ব্লক করে দেওয়া হয়েছে বলে তাদের মনে হচ্ছে। এর আগে ২০১৯ সালে জ্বালানির প্রতিবাদে বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে প্রায় এক সপ্তাহ ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছিল সরকার।

এদিকে, বুধবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘের ৭৭তম সাধারণ অধিবেশনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছেন, সম্প্রতি ইরানে হিজাব পড়া কেন্দ্র করে ২২ বছর বয়সী তরুণীর নিহত হওয়ার পর যে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র তার প্রতি পূর্ণ সমর্থন প্রকাশ করছে। আজ আমরা ইরানের সাহসী নাগরিক এবং সাহসী নারীদের পাশে দাঁড়িয়েছি, যারা এই মুহূর্তে তাদের মৌলিক অধিকার রক্ষার জন্য বিক্ষোভ করছে।

পাশাপাশি চীন, মিয়ানমার এবং তালেবানদের মানবাধিকার লঙ্ঘনের ব্যাপারেও স্পষ্ট করে বলেছেন। তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র সর্বদা মানবাধিকার এবং জাতিসংঘের সনদে অন্তর্ভুক্ত মূল্যবোধকে আমাদের দেশে এবং সারা বিশ্বে প্রচার করবে।’

নিহত ওই তরুণীর সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে ইরানের বিভিন্ন মানুষ সামাজিক মাধ্যমে কড়া প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন। দেশটির বিচারবিভাগ একটি তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে ড্রেস কোডের নিয়ম বাস্তবায়নে বিভিন্ন মানুষ বিশেষত তরুণীদের সঙ্গে মোরালিটি পুলিশের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডকে ঘিরে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়ে আসছে। সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা যায়, পুলিশ সদস্যরা অনেক সময় জোর করে নারীদেরকে পুলিশের গাড়িতে তোলে। ২০১৭ সালে কয়েক ডজন নারী জনসম্মুখে হিজাব খুলে প্রতিবাদ জানান। তখন কর্তৃপক্ষ তাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিল।

(ঢাকাটাইমস/২২সেপ্টেম্বর/এসএটি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

আন্তর্জাতিক বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :