অটোরিকশা ছিনতাইয়ের জন্য হত্যা করা হয় ডোমারের স্কুলছাত্র আরিফকে, গ্রেপ্তার ২

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৩:০৭

নীলফামারীর ডোমারে অষ্টম শ্রেণির স্কুলছাত্র মো. আরিফ হোসেন হত্যার রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। এ ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

মঙ্গলবার দুপুরে সিআইডির সদর দপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- মো. কহিনুর ইসলাম ওরফে রুবেল এবং মো. আলমগীর হোসেন ওরফে আলম।

নিহত মো. আরিফ হোসেন নীলফামারী জেলার ডোমার থানার ছোট রাউতা গ্রামের আনোয়ার হোসেনের ছেলে। তিনি ডোমার বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণীর ছাত্র ছিলেন।

চলতি বছরের ১৯ আগস্ট সন্ধ্যা ছয়টার দিকে বাবার অটোরিকশাসহ নিখোঁজ হন আরিফ হোসেন। অনেক খোজাঁখুজিঁর পর ২৬ আগস্ট সকাল ১০টার দিকে বড় রাউতা মাঝাপাড়া এলাকার একটি অব্যবহৃত গভীর নলকূপের ঘর থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।

সিআইডি জানায়, স্কুলছাত্র তার বাবার অটোরিকশা নিয়ে নিখোঁজ হওয়ার সাত দিনের মধ্যে তার লাশ উদ্ধারের ঘটনাটি দেশজুড়ে বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। এমন চাঞ্চল্যকর ক্লুলেস হত্যাকাণ্ড জানার পর সিআইডির অতিরিক্ত আইজিপি মোহাম্মদ আলী মিয়ার সার্বিক তত্ত্বাবধানে ও নির্দেশনায় সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার মুক্তা ধরের নেতৃত্বে এলআইসির একটি চৌকস দল ঘটনাটির ছায়া তদন্ত শুরু করে। আরিফের পরিবার ও আশপাশের বিভিন্ন উৎস থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য সরজমিনে সংগ্রহ করে।

পরে ওই তথ্য উপাত্ত বিশ্লেষণ করে ঘটনার সাথে রুবেল এবং আলমসহ বেশ কয়েকজনের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়। এরপর সিআইডির এলআইসির একটি চৌকস দল মঙ্গলবার ভোর চারটার দিকে ঢাকার আশুলিয়া এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানে রুবেল ও আলমকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতদের বরাত দিয়ে সিআইডি জানায়, মো. কহিনুর ইসলাম রুবেল ও আলমগীর হোসেন আলমকে জিজ্ঞাসাবাদে তারা এই ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে।

১৯ আগস্ট রাত নয়টার দিকে তাদের অপর দুই সহযোগীকে নিয়ে তারা ডোমার কলেজ গেটের পাশে মাদ্রাসা মোড় থেকে পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ এলাকায় যাওয়ার জন্য ১৫০ টাকা ভাড়ায় যাত্রীবেশে আরিফ হোসেনের অটো রিকশায় ওঠেন।

তারা বিভিন্ন জায়গায় ঘোরাফেরা করে দোলাবাড়ি নামের একটি নির্জন জায়গায় যান। সেখানে তারা প্রকৃতির ডাকে সাড়া দেওয়ার কথা বলে আরিফকে অটো রিকশাটি থামাতে বলেন। তখন অটোতে থাকা রুবেল ও তার সহযোগী আলম আরিফকে জোর করে অটো থেকে টেনেহেঁচড়ে নামিয়ে অটো নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তখন আরিফ তাদের বাধা দিলে সবাই মিলে তাকে মারধর করতে থাকেন। একপর্যায়ে আরিফ অচেতন অবস্থায় মাটিতে পড়ে যান। তখন সবাই মিলে তাদের কাছে থাকা ধারালো ছুরি দিয়ে গলা কেটে হত্যা করে লাশটি পাশের অব্যবহৃত গভীর নলকূপের ঘরে মরিচের শুকনা গাছ দিয়ে ঢেকে রেখে অটো রিকশা নিয়ে পালিয়ে যান।

এরপর তারা রুবেলের বন্ধু আলমগীরের সহযোগিতায় তার এক আত্মীয়ের কাছ থেকে ৪৫ হাজার টাকায় বিক্রি করেন।

গ্রেপ্তারকৃত মো. কহিনুর ইসলাম রুবেল ডোমার থানার একটি চুরি মামলায় দুই বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামি। আর আলমগীর হোসেন ওরফে আলমের বিরুদ্ধে নীলফামারীর বিভিন্ন থানায় ছয়টি ডাকাতির মামলা রয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃত মো. কহিনুর ইসলাম ওরফে রুবেল নীলফামারী জেলার ডোমার থানার বড় রাউতা গ্রামের বসির উদ্দিনের ছেলে আর মো. আলমগীর হোসেন ওরফে আলম জলঢাকা থানার চিড়াভিজা গোলনা গ্রামের মৃত মোজাম্মেল হকের ছেলে।

(ঢাকাটাইমস/২৭সেপ্টেম্বর/এএ/এফএ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

অপরাধ ও দুর্নীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :