সুস্বাস্থ্যের দাওয়াই হোয়াইট টি, ক্যানসার প্রতিরোধ করে

ফিচার ডেস্ক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ২০ অক্টোবর ২০২২, ১১:০৩ | প্রকাশিত : ২০ অক্টোবর ২০২২, ১১:০১

শরীরকে সুস্থ ও চাঙ্গা রাখতে চা পাতার কোন বিকল্প নেই। বিভিন্ন ধরনের চায়ের মাতানো স্বাদ ও গন্ধে মাতোয়ারা সারা বিশ্বের মানুষ। দৈনন্দিন কর্মব্যাস্ত জীবনের মাঝে ক্লান্তি কাটাতে কিংবা গল্প-আড্ডার আসর জমাতে চায়ের জুরি মেলা ভার। প্রাত্যহিক পছন্দের তালিকায় বিভিন্ন ধরনের মানুষের কাছে বিভিন্ন চা পছন্দ। বিভিন্ন ধরনের চায়ের মধ্যে রয়েছে লাল চা, দুধ চা, মশলা চা, আদা চা, লেবু চা, তন্দুরী চা, মালাই চা, চকলেট চা, গোল্ডেন চা, গ্রীন টি। স্বাস্থ্য সচেতন মানুষদের কাছে নতুন আরেকটি বিশেষ ধরনের চা হলো হোয়াইট টি বা সাদা চা। হোয়াইট টি-এর মাঝে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট। এর ফলেই এই চা মানবদেহের যৌবন, তারুণ্য, লাবণ্যতা ধরে রাখতে সক্ষম বলে চা বিশেষজ্ঞের অভিমত।

হোয়াইট টি উৎপাদনের সূচনা হয়েছিল চীনে, বিশেষ করে ফুজিয়ান প্রদেশে। তখন হোয়াইট টি ছিল চীনের খুবই অভিজাত একটি পানীয়। সাধারণ মানুষ এই চায়ের নাগাল পেত না। এমনকি প্রচুর ধনসম্পদ থাকলেও যে-কেউ চাইলেই এই চা পান করতে পারবে, তেমনটাও ছিল না। তখন চা অভিজাতভাবে মজুদ থাকত কেবলই চীনের সম্রাটের জন্য। তবে শুরুটা চীনে হলেও, এখন পূর্ব নেপাল, তাইওয়ান, থাইল্যান্ড, শ্রীলংকা, ভারতে, বাংলাদেশেও উৎপাদন করা হচ্ছে হোয়াইট টি।

হোয়াইট টি মানবদেহের জন্য অত্যন্ত উপকারি। হোয়াইট টি'র স্বাদ একটু কষাটে। কিন্তু গুণের দিক দিয়ে বিচার করলে এই চা কালো চা বা গ্রিন টি'কেও পিছনে ফেলে দিতে পারে।

হোয়াইট টি প্রস্তুত করা হয় ক্যামেলিয়া সাইনেসিস গাছের কুঁড়ি ও পাতা থেকে। একই গাছ থেকে অন্য সব ধরনের চা-ও উৎপন্ন হয়। ক্যামেলিয়া সাইনেসিস গাছের অনুদ্ঘটিত কুঁড়ির উপরে যে আঁশ থাকে, তা সূর্যের আলো ও তাপে প্রক্রিয়াজাত হয়ে ধীরে ধীরে রূপালী সাদা আভা ধারণ করে। এরপর ‘সানড্রাই’ করার পর শুকনো কলিগুলো রূপালী সুঁইয়ের আকার ধারণ করে দেখেই একে সিলভার নিডল হোয়াইট টি বলা হয়।

'সিলভার নিডল' হোয়াইট টি-র কুঁড়িগুলো আকারে বড় ও মোটা হয়, আর রূপালী-সাদা আঁশ দিয়ে আবৃত থাকে। খুবই হালকা, মিষ্টি, ফুলের মতো গন্ধ হয় এই চায়ের। এই চায়ের স্বাদটা তেমন একটা কড়া নয়, বরং হালকা, মিষ্টি ও সতেজ।

চা পাতা উত্তোলনে নেওয়া হয় কঠিন মাননিয়ন্ত্রণ। পাতায় কোনো প্রকার পানি থাকতে পারবে না। ভোর ৫টা থেকে সকাল ৭টার মধ্যে পাতা চয়নের কাজ শেষ করতে হবে। শিশির বা বৃষ্টি পড়লে হবে না। খুবই সংক্ষিপ্ত প্রক্রিয়ায়, কোনো প্রকার গাঁজন বা অন্যান্য প্রক্রিয়া ছাড়া কেবল শুকানোর মাধ্যমেই, উৎপন্ন হয় এই চা। ফলে এই হোয়াইট টি-তে চায়ের আদি ও অকৃত্রিম সকল গুণাগুণই থাকে অটুট। আর এর অসাধারণ ঘ্রাণে যেকোনো প্রকৃত চা-প্রেমীই মুগ্ধ হবেন।

হোয়াইট টি-কে খুবই সীমিত পরিসরে প্রাকৃতিকভাবে শুকানো হয় এর পলিফেনল অক্সিডেস নিষ্ক্রিয় করার জন্য। একারণে এর অক্সিডেশন প্রক্রিয়াও খুব কম হয়, এবং এতে রং চা বা গ্রিন টি-র চেয়েও বেশি পরিমাণে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ফ্ল্যাভোনয়েড থাকে, যা আমাদের স্বাস্থ্য রক্ষায় হতে পারে দারুণ উপকারী।

ডায়াবেটিসের রোগীদের জন্য ভীষণ উপকারী এই হোয়াইট টি। হোয়াইট টি রক্তে শর্করার মাত্রাকে বাড়তে দেয় না। ফলে ব্লাড সুগার লেভেল নিয়ন্ত্রণেই থাকে। ইনসুলিন হরমোনের উপরও এই চা প্রভাব ফেলে। তবে অবশ্যই আপনাকে এই চা চিনি ছাড়া পান করতে হবে।

ওজন কমাতে সাহায্য করে এই হোয়াইট টি। হোয়াইট টি পান করলে এটি শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ দূর করে শরীরের মেটাবলিজম বাড়িয়ে তোলে। এতেই ওজন কমে। আর মাত্র দিনে এক কাপ খেলেই এই উপকার পাওয়া যায়।

যারা হরমোনের তারতম্যের সমস্যায় ভুগছেন, তাদের কাছে মোক্ষম দাওয়াই এই হোয়াইট টি। এই চা হরমোনের ভারসাম্যকে বজায় রাখতে সাহায্য করে। এই কারণে এই থাইরয়েড রোগীদের জন্যও উপকারী।

নিখুঁত ত্বক ও ঘন লম্বা চুলের অধিকারী হতে চান? নিয়ম করে হোয়াইট টি'তে চুমুক দিন। এই চা ত্বকের বার্ধক্য প্রতিরোধ করে। ত্বককে আরও উজ্জ্বল করে তোলে। পাশাপাশি এটি খুশকির সমস্যা প্রতিরোধ করে এবং চুলকে মজবুত করে তোলে।

তবে এই চায়ের সবচেয়ে বড় গুণ, এটি ক্যানসার প্রতিহত করতে সাহায্য করে। দেখা গিয়েছে, যারা নিয়মিত এই চা পান করেন, তাদের ক্যানসারের আশঙ্কা কমে।

পারকিনসন ও অ্যালঝেইমার রোগ থেকে সুরক্ষার জন্যও কাজ করে হোয়াইট টি।

‘হোয়াইট-টি’ বানানোর পদ্ধতি সম্পর্কে চা গবেষকদের মতামত, এক কাপ পরিমাণ পানি কেতলিতে নিয়ে গরম করতে হবে। গরমপানিতে প্রথম বুদবুদ উঠার সাথে সাথে সেই কেতলির পানি একটি কাপে ঢালতে হবে। তারপর এর মাঝে ২ দশমিক ৩ গ্রাম বা এক টেবিল চামচ পরিমাণ হোয়াইট-টি দিয়ে পাঁচ মিনিট রেখে দিতে হবে। পাঁচ মিনিট পর ছাকনিতে ছাকলেই তৈরি হয়ে যাবে হোয়াইট-টি।

(ঢাকাটাইমস/২০ অক্টোবর/আরজেড)

সংবাদটি শেয়ার করুন

ফিচার বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :