নকল বিল-ভাউচার দিয়ে ব্যাংকের লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেন তিনি

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ২৮ মার্চ ২০২৩, ২২:৩৯

ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার পরিচয় দিয়ে এবং নকল বিল-ভাউচার পাঠিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যাংকের লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে মো. কোরবান আলী সিকদার নামে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিএমপি ডিবি) সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (দক্ষিন) বিভাগের একটি দল। এ সময়ে তার কাছ থেকে তিনটি মুঠোফোন উদ্ধার করা হয়।

মঙ্গলবার রাতে (ডিএমপি ডিবি) সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (দক্ষিণ) বিভাগ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

ডিএমপি ডিবির পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ডিএমপি ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (দক্ষিণ) বিভাগের উপ কমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ ইকবাল হোসাইন এবং অতিরিক্ত উপ কমিশনার (এডিসি) মো. সাইফুর রহমান আজাদের, সার্বিক তদারকিতে এবং ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিমের টিম ইনচার্জ অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মাহমুদুল হাসানের নেতৃত্বে শ্যামপুর থানার একটি মামলা তদন্তকালে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় কুষ্টিয়া থেকে সোমবার অভিযান চালিয়ে মো. কোরবান আলী সিকদারকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওই মামলার বাদী একজন ব্যাংক কর্মকর্তা।

তিনি অভিযোগে জানান, গেল ১৯ ফেব্রুয়ারি অভিযুক্ত ব্যাংকের শাখার অফিসিয়াল ই-মেইল আইডিতে ব্যাংকের সিসি ক্যামেরার সার্ভিসিং বিল বাবদ স্মার্ট সলিউশনের বিল ভাউচারের মাধ্যমে ৭৬ হাজার ৮০০ টাকা এবং ভ্যাট বাবদ পাঁচ হাজার ৭৬০ টাকাসহ মোট ৮২ হাজার ৫৬০ টাকা টাকা চেয়ে একটি পাঠান। পরবর্তীতে ওইদিন দুপুর দেড়টার দিকে একটি টেলিফোন নম্বর থেকে বাদীর ব্যাংকের শাখার ল্যান্ড ফোন নম্বরে ফোন করে ব্যাংক কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে বিলটি দ্রুত পরিশোধের জন্য নির্দেশ দেন। বাদী তার পরিচয় জানতে চাইলে তিনি বাদীর ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের জেনারেল ব্যাংকিং ডিপার্টমেন্টের এজিএম পরিচয় দেন। আর তার সঙ্গে পরবর্তীতে যোগাযোগ করার জন্য বাদীকে একটি মুঠোফোন নম্বর দেন।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সেই সঙ্গে ওই বিল থেকে ইনভয়েস অনুযায়ী ৭.৫% ভ্যাট বাবদ ৫,৭৬০/- টাকা, ৩% ভ্যাট

বাবদ দুই হাজার ১৩১টাকা এবং অ্যাডভান্স সিকিউরিটি ১০% বাবদ পাঁচ হাজার ৮৯১ টাকাসহ মোট ১৪ হাজার ৭৮২ বাদ দিয়ে ৬২ হাজার ১৮ টাকা দেওয়ার নির্দেশ দেন মামলার বাদীকে। বাদী তখন সরল বিশ্বাসে তাকে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের জেনারেল ব্যাংকিং ডিপার্টমেন্টের এজিএম মনে করে তার নির্দেশনা মোতাবেক ২০ ফেব্রুয়ারি সিসি ক্যামেরার সার্ভিসিং বিল বাবদ স্মার্ট সলিউশনের বিল ভাউচারের থাকা রকেট নম্বরে তিন বারে ৬২ হাজার ১৮ টাকা পাঠান। পরবর্তীতে ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সাথে কথা বলে বুঝতে পারেন তিনি প্রতারিত হয়েছেন। আসামি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে ছদ্মবেশ ধারণ করে ব্যাংকের কর্মকর্তার পরিচয় দিয়ে এবং ব্যাংকের সিসি টিভি সার্ভিসিং সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করে ই-ট্রানজেকশনের মাধ্যমে প্রতারণা মূলকভাবে ৬২ হাজার ১৮ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।

এভাবে জনতা ব্যাংক লিমিটেড, যমুনা ব্যাংক লিমিটেড, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড, পূবালী ব্যাংক লিমিটেড, বেসিক ব্যাংক লিমিটেড, রুপালী ব্যাংক লিমিটেড, অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেড, প্রিমিয়ার ব্যাংক লিমিটেডের বিভিন্ন শাখার বিভিন্ন ব্যাংক কর্মকর্তা প্রতারিত হয়েছেন।

প্রতারক হয়ে উঠার গল্প

পুলিশ বলছে, আসামি কোরবান আলী সিকদার প্রতারক চক্রের মাস্টার মাইন্ড। তিনি আগে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে প্রিন্টারের টোনার সরবরাহ দেওয়ার ব্যবসা করতেন। আর টোনার সরবরাহ দেওয়ার পরে তার বিল ভাউচার তৈরি করে প্রতিষ্ঠানের অফিসিয়াল মেইলে পাঠিয়ে দিয়ে প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে পেমেন্ট নিতেন। মাঝে মাঝে তিনি প্রিন্টারের টোনার সরবরাহ না দিয়েই নকল বিল ভাউচার তৈরি করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে মেইল পাঠিয়ে টাকা হাতিয়ে নিতেন। এতে কম লাভবান হওয়ায় তিনি পরবর্তীতে বিভিন্ন ব্যাংককে টার্গেট করেন। টার্গেটকৃত ব্যাংকের ওয়েবসাইট থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করে বিভিন্ন কোম্পানির প্যাড ব্যবহার করে তাতে নকল বিল ভাউচার তৈরি করে ব্যাংকের শাখার অফিসিয়াল ই-মেইলে মেইল দেন। এভাবে বিভিন্ন ব্যাংকের কর্মকর্তাদের ধোকা দিয়ে প্রায় ১৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। তিনি প্রতারণার মাধ্যমে আয় করা টাকা দিয়ে বিলাসি জীবন যাপন করেন।

ঢাকাটাইমস/২৮মার্চ/এএ/ইএস

সংবাদটি শেয়ার করুন

অপরাধ ও দুর্নীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

অপরাধ ও দুর্নীতি এর সর্বশেষ

এই বিভাগের সব খবর

শিরোনাম :