ফিল্মফেয়ার পুরস্কারকে বাথরুমের দরজার হাতল বানিয়েছেন নাসিরুদ্দিন শাহ!

বিনোদন ডেস্ক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ০৫ জুন ২০২৩, ১১:৩৮

ভারতীয় হিন্দি সিনেমার জগৎ বলিউডে ফিল্মফেয়ার পুরস্কারকে বেশ সম্মানজনক মনে করা হয়। এই পুরস্কার লাভের জন্য প্রতি বছর কী পরিশ্রমটাই না করেন তারকারা। নিজেদের সেরাটা ঢেলে দেন। সেই ফিল্মফেয়ার পুরস্কারকে নাকি বাথরুমের দরজার হাতল বানিয়েছেন ইন্ডাস্ট্রির প্রবীণ অভিনেতা নাসিরুদ্দিন শাহ।

ভারতীয় চলচ্চিত্রের অন্যতম প্রবাদ-প্রতিম ব্যক্তিত্ব তিনি। তবে ঠোঁটকাটা স্বভাবের জেরে প্রায়ই বিতর্কে জড়ান নাসিরুদ্দিন। দশকের পর দশক ধরে দর্শকদের একাধিক মনের মতো ছবি উপহার দিয়েছেন নাসিরুদ্দিন, পেয়েছেন অজস্র পুরস্কারও। তবে নাসিরের চোখে পুরস্কারের কোনো মূল্যই নেই! সম্প্রতি এমনই বেফাঁস মন্তব্য করেছেন তিনি।

এখনো পর্যন্ত নিজের ফিল্মি ক্যারিয়ারে তিনটি জাতীয় পুরস্কার জিতেছেন নাসিরুদ্দিন শাহ। ‘পার’, ‘স্পর্শ’, ‘ইকবাল’ ছবির জন্য এই সম্মান এসেছে তার ঝুলিতে। এছাড়া তার ঝুলিতে রয়েছে তিনটি ফিল্মফেয়ার পুরস্কার। ‘আক্রোশ’, ‘মাসুম’, ‘চক্র’র মতো ক্লাসিক ছবির জন্য এই পুরস্কারে সম্মানিত হন নাসিরুদ্দিন।

যদিও তার মতে, পুরোটাই ইন্ডাস্ট্রির অন্দরের নোংরা রাজনীতির খেল। পুরস্কার আদতে ইন্ডাস্ট্রির অন্দরের লবির প্রতিফলন মাত্র, বিশ্বাস নাসিরুদ্দিনের। শুধু তাই নয়, নিজের পাওয়া ফিল্মফেয়ার পুরস্কারকে নাকি বাথরুমের দরজার হাতল হিসেবে ব্যবহার করেন তিনি। এমনই মন্তব্য করলেন এক সাক্ষাৎকারে।

নাসিরুদ্দিনের কথায়, ‘যে কোনো অভিনেতা যিনি একটা চরিত্র ফুটিয়ে তুলতে জান-প্রাণ ঢেলে দিয়েছেন, তিনি ভালো অভিনেতা। যদি সবার মধ্যে থেকে একজনকে বেছে নেয়া হয়, আর বলা হয় সবার মধ্যে ইনি সেরা, তাহলে সেটা কি ঠিক? আমার মনে হয় না। আমি ওই অ্যাওয়ার্ডগুলো নিয়ে গর্বিত নই। আমি তো শেষ দুটি পুরস্কার গ্রহণ করতেও যাইনি। তাই যখন আমি খামারবাড়ি বানানোর সিদ্ধান্ত নিই, তখন সেই অ্যাওয়ার্ডগুলো ওখানে রাখার ব্যবস্থা করি। যারাই ওয়াশরুমে যাবে তারা দুটি অ্যাওয়ার্ড হাতে পাবে। কারণ বাথরুমের দরজার হ্যান্ডেল ফিল্মফেয়ার পুরস্কার দুটি।’

নাসিরের কথায়, ‘আমার কাছে ওই সব ট্রফির কোনো মূল্য নেই। আমার বিশ্বাস, ওই অ্যাওয়ার্ড লবির ফসল। কেউ তার কাজের জন্যই পুরস্কৃত হয় তেমনটা নয়। একটা সময় যখন পুরস্কার ত্যাগ করা শুরু করলাম, তারপর এলো ‘পদ্মশ্রী’ আর ‘পদ্মভূষণ’ সম্মান। সেই মুহূর্তে আমার মনে পড়েছিল আমার প্রয়াত বাবার কথা। তিনি বলতেন আমি এসব বেফালতু কাজ করলে নিজেকে গাধা প্রমাণ করে ছাড়ব।’

অভিনেতা বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি ভবনে গিয়ে নিজেকে প্রশ্ন করেছিলাম, বাবা কি আজ এগুলো দেখছে কোথাও থেকে? সেদিন মনে হয়েছিল উনি নিশ্চয়ই গর্বিত। ওই পুরস্কার পেয়ে আমি সম্মানিতবোধ করেছিলাম। তবে ওই ফিল্মি অ্যাওয়ার্ডে আমার আস্থা নেই’।

শেষবার নাসিরুদ্দিনকে দেখা গেছে ‘তাজ: রেইন অব রিভেঞ্জ’ সিরিজে। গত মাসেই জি ফাইভে মুক্তি পেয়েছে এই পিরিয়ড ড্রামা সিরিজ।

(ঢাকাটাইমস/৫জুন/এজে)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বিনোদন বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

বিনোদন এর সর্বশেষ

এই বিভাগের সব খবর

শিরোনাম :