বিসিএসে দুই বোন আশা-ঊষার সাফল্য

সাভার (ঢাকা) প্রতিনিধি,ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ০৯ আগস্ট ২০২৩, ১৩:৩৯ | প্রকাশিত : ০৯ আগস্ট ২০২৩, ১৩:২৮

একটা সময়ে আশপাশের লোকজন প্রায় বলতো তিন মেয়ে কোনো ছেলে নাই বংশের প্রদীপ জ্বালাবে কে? ছোটবেলায় প্রতিবেশীদের এমন কথায় কষ্ট পেতেন বাবা-মা। মা সবসময় বলতেন এমন কিছু করতে হবে যাতে এই প্রতিবেশীরাই প্রশংসা করে। সেই থেকে সংকল্প শুরু। আজ আমরা দুই বোন একই সঙ্গে ৪১তম বিসিএসে শিক্ষা ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছি। এলাকার লোকজনের মুখে এখন প্রশংসা শুনি। নিজের ও বোনের সফলতার বিষয়ে উম্মে সুলতানা ঊষা এভাবেই কথাগুলো বলছিলেন।

আশা মনি ও উম্মে সুলতানা ঊষা দুই বোন। এবারের ৪১তম বিসিএসে শিক্ষা ক্যাডারে নিয়োগের জন্য দুজনই সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন।

সাভার পৌর এলাকার জামসিং মহল্লার বাসিন্দা সাভারের ভাকুর্তা ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণকেন্দ্রের অবসরপ্রাপ্ত ফার্মাসিস্ট মো. আনোয়ার হোসেন ও রহিমা আক্তারের মেয়ে তারা। তাদের পৈতৃক নিবাস মানিকগঞ্জ জেলার সিংগাইর উপজেলায়। বিসিএসে একসঙ্গে দুই বোনের সাফল্যে আনন্দে ভাসছে পরিবারটি।

বড় বোন আশা মনি ২০০৮ সালে সাভার রেডিও কলোনি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়ে এসএসসি, ২০১০ সালে সাভার ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ ৪.৯০ পেয়ে এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনিস্টিউটের ১৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী হিসেবে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শেষ করেন। বর্তমানে তিনি ২০২২ সালের ডিসেম্বর থেকে সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা হিসেবে (৩৮ বিসিএস নন ক্যাডার) যশোরে কাস্টমস, এক্সাইজ অ্যান্ড কমিশনারেটে কর্মরত রয়েছেন।

আশা মনির স্বামী দেওয়ান মওদুদ আহমেদ ৩১তম বিসিএসের প্রশাসন ক্যাডার। স্বামীর কর্মনিষ্ঠা, বিনয়, সততা এবং মানবহিতৈষী কাজগুলো দেখে বিসিএসের জন্য অনুপ্রাণিত হয়েছেন আশা মনি। বাবা-মায়ের দেখা স্বপ্ন বাস্তবায়নেও ছিল প্রবল আগ্রহ।

আশা মনি বলেন, স্বামীর কর্মনিষ্ঠা, সততা ও অন্যান্য গুণাবলি প্রতিনিয়তই আমাকে উৎসাহ জুগিয়েছে। আর আমার বাবা-মায়ের স্বপ্ন ছিল আমরা উচ্চ পর্যায়ে যাব, তাদের মুখ উজ্জ্বল করবো। আমাদের সমাজে নারীদের প্রতি এখনো যে নেতিবাচক মনোভাব আছে আমাদের সাফল্যে তা দূর হয়ে যাবে এমনটাই প্রত্যাশা।

বিসিএসের প্রস্তুতি সহজ ছিল না আশা মনির। মেয়ে ফাইজা আহমেদকে (৫) নিয়ে তাকে নিতে হয়েছিল প্রস্তুতি। এরপরও সফল হয়েছেন তিনি। সফলতায় বেশ উচ্ছ্বসিত তিনি।

তিনি বলেন, সফলতা পেয়ে ভালো লাগছে। আমার জীবনের অন্যতম একটি স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। আমার ছোট বোন ঊষার সাফল্যে আরো বেশি আনন্দিত আমি। সে এখন আমার বোন থেকে ব্যাচমেট, এক সাথে প্রশিক্ষণ নিব এসব মুহূর্ত ভাবতেই ভালো লাগছে। দুই বোন একসাথে হয়ে মনে হচ্ছে শুধু ছেলেরা নয় মেয়েরাও বাবা-মায়ের মুখ উজ্জ্বল করতে পারে।

অপরদিকে উম্মে সুলতানা ঊষা ২০১১ সালে সাভার রেডিও কলোনি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে মানবিক বিভাগে জিপিএ ৪.৫০ পেয়ে এসএসসি এবং ২০১৩ সালে সাভার মডেল কলেজ থেকে একই বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়ে এইচএসসি পাস করেন। এরপর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের ৪৩তম ব্যাচের শিক্ষার্থী হিসেবে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শেষ করেন।

ঊষা জানান, ‘বিসিএস পরীক্ষার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালীন সময় থেকেই প্রস্তুতি নিতে শুরু করি। স্নাতকোত্তর শ্রেণির শিক্ষার্থী থাকাকালীন ২০১৭ সালে অংশ নেই ৪০তম বিসিএস পরীক্ষায়। তবে সফল হতে পারিনি। এরপর মনোবল দৃঢ় করে সংকল্প করি বিসিএস ক্যাডার হতেই হবে। একটা সময় ফেসবুক চালানো বন্ধ করে দিয়েছিলাম। কারণ ফেসবুক চালালে অনেক সময় ব্যয় হতো। ফেসবুকের নানা ধরনের অপ্রয়োজনীয় জিনিস থেকে এক ধরনের মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি হচ্ছে বলে মনে হতো। মানসিক শান্তি পেতে ফেসবুক চালানো বন্ধ করে দেই ২০২১ সাল থেকে। প্রয়োজনের বাইরে কারো সঙ্গে তেমন যোগাযোগ হতো না।’

তিনি আরো বলেন, বিসিএস প্রস্তুতি নিতে গিয়ে বেশ কয়েকবার হতাশায় পড়েছিলাম। তবে মায়ের অনুপ্রেরণায় আবার মনোযোগ দেন প্রস্তুতিতে। বড় বোন ও দুলাভাইও হতাশা কাটিয়ে উঠতে সহায়তা করেছেন অনেক। অবশেষে গত ৩ আগস্ট ৪১তম বিসিএসের ফলের তালিকায় দুই বোনের রোল নম্বর একইসঙ্গে দেখে স্তব্ধ হয়ে যাই। ২০১৭ সালে শুরু হওয়া বিসিএসের স্বপ্ন ২০২৩ এ এসে পরিপূর্ণতা পায়।

এদিকে আশা ও ঊষার বাবা মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, আমাদের সন্তানরা আল্লাহর রহমতে আত্মীয়স্বজন ও এলাকার মুখ উজ্জ্বল করেছে। আমাদের কোনো ছেলে সন্তান নেই বলে আমার কোনোদিন কোনো আক্ষেপ ছিল না তবে পাড়া-প্রতিবেশীরা অনেক কথাই বলতো। আজ তারাও আমার মেয়েদের সাফল্যে আনন্দ প্রকাশ করছেন। আশা ও ঊষার উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য সবার কাছে দোয়া কামনা করছি। আমার আরেক মেয়ে এবার এইচএসসি পরীক্ষা দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রস্তুতি নিচ্ছে, তার জন্যেও সবার কাছে দোয়া চাইছি।

সাভার রেডিও কলোনি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক এইচ.এম. শাহ আলম মিঞা বলেন, তারা দুই বোন আমাদের স্কুলের মেধাবী শিক্ষার্থী ছিল। আমরা বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাদের এই সাফল্যে দারুণ উচ্ছ্বসিত।

(ঢাকাটাইমস/০৯ আগস্ট/ ইএইচ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

সারাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সারাদেশ এর সর্বশেষ

একসঙ্গে স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যু, রেখে গেলেন তিন জমজ শিশু

ব্যাংক প্রতিষ্ঠার দুই যুগ আগের মৃত ব্যক্তির নামে এল ঋণ পরিশোধের নোটিশ!

আলফাডাঙ্গায় সাবেক মাদরাসা অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ

সাতক্ষীরা জেলা আ.লীগ কার্যালয়ের চাবি হস্তান্তর করলেন কাজী এরতেজা

সিরাজগঞ্জে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছের সাথে ট্রাকের ধাক্কা, হেলপার নিহত

কুড়িগ্রামে বিজিবির মামলায় ইউপি চেয়ারম্যান কারাগারে 

দেশীয় পাবদা মাছ চাষে সফল দিনাজপুরের সাকেরা

ঈদে ৫ দিন বন্ধ থাকবে বেনাপোল বন্দরে আমদানি-রপ্তানি

নিখোঁজের ৩ দিন পর বৃদ্ধের লাশ উদ্ধার, পরিবারের দাবি হত্যা

কলেজ শিক্ষার্থী‌দের বিদায় দিতে গিয়ে শিক্ষকের চিরবিদায়

এই বিভাগের সব খবর

শিরোনাম :