২৯ দল নিয়ে নির্ভার আওয়ামী লীগ, জনগণের অংশগ্রহণে সুষ্ঠু ভোট করাই প্রধান চ্যালেঞ্জ

জাফর আহমেদ, ঢাকা টাইমস
 | প্রকাশিত : ০৩ ডিসেম্বর ২০২৩, ০৯:৩৬

দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনে ২৯টি দল অংশ নেওয়ায় আওয়ামী লীগ এখন অনেকটাই ভারমুক্ত। দলের কেন্দ্রীয় শীর্ষ নেতারা মনে করছেন, নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত বেশির ভাগ দলের অংশগ্রহণের ফলে নির্বাচনকে গ্রহণযোগ্য করা সহজ হবে।

নির্বাচনকে একতরফা আখ্যা দেওয়া আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের পক্ষে কঠিন হবে বলে মনোভাব প্রকাশ করেছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক নেতা।

তারা জানান, বেশির ভাগ দলকে নির্বাচনে আনতে পারাটা আওয়ামী লীগের প্রথম ধাপের সাফল্য। এখন সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হলো বিতর্কমুক্ত ভোট। যে দলগুলো নির্বাচনে এসেছে তাদের নিয়ে অবাধ, সুষ্ঠু ভোট সম্পন্ন করতে পারলে আওয়ামী লীগের ওপর থেকে বড় চাপ কমে যাবে।

দলীয় একাধিক সূত্র জানায়, আগের দুই নির্বাচন নিয়ে নানাবিধ প্রশ্ন ওঠায় এবারের নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য দেখতে চান আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। তবে, বিএনপি ও সমমনা দলগুলো নির্বাচন বর্জন করায় কয়টি দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে তা নিয়ে দুশ্চিন্তা ছিল দলটির অভ্যন্তরে। কারণ ২০১৪ সালে দশম জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি জোট অংশ না নেওয়ায় মাত্র ১২টি দলকে নিয়ে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সে নির্বাচনে অর্ধেকের বেশি আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সংসদ সদস্যরা নির্বাচিত হন। এবার যেন সে রকম ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হয়, সেদিকে আগে থেকেই সতর্ক ছিলেন আওয়ামী লীগের উচ্চপর্যায়ের নেতারা।

গত বৃহস্পতিবার মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিনে ৪৪টি নিবন্ধিত দলের মধ্যে ২৯টির প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র জমা দেন। এর মধ্যে দিয়ে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনে ক্ষমতাসীনদের কৌশলের প্রথম ধাপের সাফল্য এসেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘২৯টি নিবন্ধিত দল নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। এটা একটা বড় সাফল্য। বিএনপির অনেকে অংশ নিচ্ছেন। আমরা কয়জনের নাম বলব! একরামুজ্জামান, মনজুর আলম, শওকত মাহমুদ, তৈমূর আলম খন্দকার, শমসের মবিন চৌধুরী, শাহজাহান ওমর, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আহসান হাবীব, এ কে এম ফখরুল ইসলামসহ ১৫ জন কেন্দ্রীয় নেতা এবং শাহ মোহাম্মদ জাফর, মেজর আখতারুজ্জামানসহ সাবেক ৩০ জন সংসদ সদস্য এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছেন।’

ওবায়দুল কাদের শুক্রবার সকালে ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘নির্বাচনকে ঘিরে অনেক দিন পর একটা উৎসবমুখর পরিবেশ সারা দেশে লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ২-১টা রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশ নিল কি না, তার চেয়ে জনগণের অংশগ্রহণটা কেমন, সেটা বেশি করে ভাববার বিষয়।

আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্র জানায়, বেশির ভাগ দল নির্বাচনে অংশ নেওয়াকে প্রথম ধাপের সাফল্য মনে করছেন দলটির কেন্দ্রীয় নেতারা। এ সাফল্য পূর্ণতা পাবে সুষ্ঠু ভোটগ্রহণ সম্পন্ন করতে পারলে। যে কয়টি দল নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে, তারা যদি ভোটের পরিবেশ নিয়ে সন্তুষ্ট থাকে, ভোটের দিন যদি মানুষ নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারে, তাহলে নির্বাচন দেশে-বিদেশে অনেকটাই গ্রহণযোগ্যতা পাবে। আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক নেতা জানান, নিবন্ধিত দলগুলোর মধ্যে ১৪টি দল নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না।

নির্বাচনে চরমোনাই পীরের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলনসহ আরও একাধিক দলকে পাওয়ার আশা ছিল সরকারের উচ্চপর্যায়ে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত একাধিক বিষয়ে মতপার্থক্যের কারণে তারা নির্বাচনে আসেনি। চরমোনাই পীরের দলটির দেশের বেশির ভাগ আসনে প্রার্থী দেওয়া এবং উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ভোট পাওয়ার সক্ষমতা রয়েছে। তারাসহ আরও দুয়েকটি ইসলামী দল নির্বাচনে এলে বিএনপি ও সমমনাদের অনুপস্থিতি নিয়ে আলোচনা আরও ফিকে হয়ে যেত। তবে শেষ পর্যন্ত যারা এসেছে তাদের নিয়েই একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন সম্ভব বলে মনে করছে আওয়ামী লীগ।

বিএনপি অংশ না নেওয়ায় নির্বাচনকে বিতর্কমুক্ত করতে নানা কৌশলে এগুচ্ছে আওয়ামী লীগ। আগামী নির্বাচনে ভোটের মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখানো এবং উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভোটার কেন্দ্রে আনাই এখন আওয়ামী লীগের লক্ষ্য। জোটবদ্ধ নির্বাচন বা নির্বাচনে জোট সঙ্গীদের সঙ্গে আসন সমঝোতার গুরুত্ব কমে এসেছে দলটির কাছে। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জোট সঙ্গীদের ও জোটের বাইরের দলগুলোর সঙ্গে আসন সমঝোতা কিভাবে হবে বা আদৌ হবে কি না- সে বিষয়টি এখনো স্পষ্ট করেনি দলটি।

তবে, জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে ছক সাজিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ। নির্বাচনি কৌশলের সবকিছুর মূলে রয়েছে যত বেশি সম্ভব ভোটারের উপস্থিতি নিশ্চিত করা। ভোট পড়ার হার বাড়াতে পারলে দেশে-বিদেশে নির্বাচন গ্রহণযোগ্য দেখানো যাবে বলে মনে করছেন আওয়ামী লীগের নীতি নির্ধারকরা।

দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘আওয়ামী লীগ মানে, শেখ হাসিনা মানে, এদেশের উন্নয়ন। মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন। শেখ হাসিনার সরকারের উন্নয়ন দেখে দেশের মানুষ নৌকায় ভোট দিবে। জনগণ নির্বাচনমুখী, তারা নির্বাচন চায়।’

সভাপতিমণ্ডলীর আরেক সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকেই সারা দেশে নির্বাচনের আমেজ শুরু হয়ে গেছে। জনগণের ভাবনাকে আওয়ামী লীগ গুরুত্ব দেয়। দেশের মানুষের অংশগ্রহণে আওয়ামী লীগ একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন করবে।’

রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক হারুন-অর-রশিদ বলেন, ‘প্রধান বিরোধী দল বিএনপি অংশ নিলে দলীয়ভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন হতো। তবে, এখন যারা অংশ নিচ্ছেন তাদের নিয়ে যদি একটা সুষ্ঠু ভোট হয়, ভোটাররা যদি প্রশাসনিক প্রভাব থেকে মুক্ত থেকে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, ভোটের ফলে যদি রায়ের প্রতিফলন ঘটে, তাহলে এ নির্বাচন গ্রহণযোগ্যতা পাবে। ভোটার অংশগ্রহণ যদি ৪০ শতাংশের বেশি হয় তাহলে নির্বাচনকে ভোটারদের সংখ্যার দিক থেকেও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন বলা যাবে। ক্ষমতাসীন দলের সব মনোযোগ এখন উৎসবমুখর পরিবেশে জনগণের অংশগ্রহণে সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করা।’

(ঢাকাটাইমস/০৩ডিসেম্বর/এফএ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

রাজনীতি এর সর্বশেষ

এবার দল পুনর্গঠনে বিএনপি 

বিদ্যুৎ খাতে লুণ্ঠন নীতির মাশুল জনগণ দেবে না: গণতন্ত্র মঞ্চ

বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চলছে: ওবায়দুল কাদের

সদ্য কারামুক্ত আলালের বাসায় গয়েশ্বর

৭৪ সালে দুর্ভিক্ষের চক্রান্তে বিএনপির এক নেতার বাবা জড়িত ছিলেন: প্রধানমন্ত্রী

জনগণের প্রতি প্রতিশোধ নিতেই সরকার বিদ্যুৎ ও জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি করতে চাচ্ছে: রিজভী

মাতৃভাষা দিবসে যুক্তরাজ্য জিয়া পরিষদের আলোচনা সভা

রক্তে অর্জিত ভাষাকে বিদেশি আগ্রাসন থেকে রক্ষা করতে হবে: শিবির সভাপতি

কখনো যুব মহিলা লীগ নেত্রীর দুলাভাই কখনো স্বামী, অবশেষে প্রতারণা মামলায় গ্রেপ্তার

উপজেলা নির্বাচনে জামানত বৃদ্ধির প্রস্তাব অস্বাভাবিক: মুক্তিযুদ্ধ প্রজন্ম কাউন্সিল

এই বিভাগের সব খবর

শিরোনাম :