সাম্প্রদায়িক বক্তব্য: আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে মামলার নির্দেশ ইসির

নিজস্ব প্রতিবেদক সুনামগঞ্জ
| আপডেট : ২৬ জানুয়ারি ২০২৪, ২১:৪৯ | প্রকাশিত : ২৬ জানুয়ারি ২০২৪, ২১:৪৩

সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম নবী হোসেনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করার জন্য জেলার ধর্মপাশা উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ মঞ্জুরুল হককে এই নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার মোয়াজ্জেম হোসেন রতনের পক্ষে নির্বাচনি জনসভায় ধর্মীয় ও সাম্প্রদায়িক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে এ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ইসি থেকে দেওয়া চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ২৬ ডিসেম্বর সুনামগঞ্জ-১ আসনের ধর্মপাশা উপজেলার গোলকপুর বাজারে স্বতন্ত্র প্রার্থী মোয়াজ্জেম হোসেনের (রতন) নির্বাচনি সভায় ধর্মীয় ও সাম্প্রদায়িক বক্তব্য দেন এম নবী হোসেন। এ ঘটনায় নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণবিধিমালা ২০০৮ এর বিধি লঙ্ঘন করেছেন বলে নির্বাচনি অনুসন্ধান কমিটি প্রতিবেদন দিয়েছে। ওই প্রতিবেদনের আলোকে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসি।

চিঠি পাওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ মঞ্জুরুল হক জানিয়েছেন, ইসির উপসচিব (আইন) মো. আবদুছ সালাম স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত একটি চিঠি পেয়েছি। নির্দেশনা অনুযায়ী মামলা করার প্রস্তুতি চলছে।

এ বিষয়ে নবী হোসেন বলেন, নির্বাচনি প্রচারণার ওই দিন অন্য একজনের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে যা বলেছিলাম তা বলা উচিত হয়নি। এ জন্য অনুসন্ধান কমিটির কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেছিলাম।

জানা যায়, স্বতন্ত্র প্রার্থী মোয়াজ্জেম হোসেন এই আসনের টানা তিনবারের সংসদ সদস্য। এবার নৌকা না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছিলেন। কিন্তু জয়ী হতে পারেননি। এ আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী রনজিৎ সরকার।

উল্লেখ্য, জামালগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম নবী হোসেন স্বতন্ত্র প্রার্থী মোয়াজ্জেম হোসেন রতনের পক্ষে ওই দিনের জনসভায় বলেন, আমাদের মনোনয়ন না দেওয়ার কারণ হলো ‘হিন্দু কোটা’। এবার আমাদের নেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হিন্দু কোটায় ১৫টি সিট দিয়েছেন। তাদের কোটা আছে। এই কোটা প্রথায় ৫০ বছর ধরে সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত নির্বাচন করতেন। তার স্ত্রী জয়া সেনগুপ্তাও দুবার নির্বাচন করেছেন।

সুনামগঞ্জ-১ আসনের হিন্দু ভোটারদের উদ্দেশ্যে নবী হোসেন বলেন, আপনারা এখন নৌকার প্রার্থীর জন্য এক হয়ে গেছেন। কিন্তু দিরাই-শাল্লার দিকে চেয়ে দেখুন সেখানে ৩৯ ভাগ হিন্দু ভোট। তারা সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের স্ত্রী জয়া সেনগুপ্তার প্রতীক কেটলিতে ভোট দেওয়ার জন্য কাজ করছেন। আমাদের এমপি মোয়াজ্জেম হোসেন রতন গত ১৫ বছর হিন্দুদের যে সুযোগ সুবিধা দিয়েছেন তা আমরা মুসলমানরা পাইনি। আমাদের আসনে আমরা মুসলমানরা ৮৭ পার্সেন্ট। সনাতনরা মাত্র ১৩ পার্সেন্ট। এখন আপনারাই সিদ্ধান্ত নেন, ভগবান আমাদের শাসন করবেন, না আমরা ৮৭ পার্সেন্ট মুসলমান ঈমানী দায়িত্ব পালন করবো। যদি ঈমানী দায়িত্ব পালন করেন, তাহলে ৭ জানুয়ারি কেটলিকে ভোট দেবেন।

এম নবী হোসেন ওইদিন আরও বলেন, এবার পুলিশ প্রধান (আইজিপি) চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন প্রধানমন্ত্রীর কাছে গিয়ে কাকুতি-মিনতি করেছেন তার আপন ভাই আমীন চৌধুরীকে মনোনয়ন দেওয়ার জন্য। প্রধানমন্ত্রীকে সবকিছু রক্ষা করে চলতে হয়। প্রধানমন্ত্রী তার কথায় জয়া সেনগুপ্তাকে বাদ দিয়ে আল আমীন চৌধুরীকে মনোনয়ন দিয়েছেন।

(ঢাকাটাইমস/২৬জানুয়ারি/প্রতিনিধি/পিএস)

সংবাদটি শেয়ার করুন

সারাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :