কবি অসীম সাহা গুরুতর অসুস্থ, আর্থিক সংকটে চিকিৎসা ব্যাহত

তানিয়া আক্তার, ঢাকা টাইমস
| আপডেট : ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১৩:২৪ | প্রকাশিত : ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৮:২৪
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের কেবিনে চিকিৎসাধীন কবি অসীম সাহা

একুশে পদকপ্রাপ্ত কবি অসীম সাহা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাধীন বেশ কিছুদিন ধরে। মুখে খেতে পারছেন না কিছুই। টিউব দিয়ে খাওয়ানো হচ্ছে তাকে। সুস্পষ্টভাবে রোগ নির্ণয় করতে তার চিকিৎসায় শনিবার মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। তবে আর্থিক সংকটে সময়মতো প্রয়োজনীয় ওষুধ কেনা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা হচ্ছে না। কয়েক মাসের বাড়িভাড়াও বাকি বলে জানিয়েছেন কবির এক ঘনিষ্ঠজন। চিকিৎসকরা বলছেন, তিনি বিষণ্নতায় ভুগছেন। এছাড়া পারকিনসন (হাত কাঁপা রোগ), কোষ্ঠকাঠিন্য ও ডায়াবেটিস রোগেও ভুগছেন তিনি।

গত মঙ্গলবার হাসপাতালে অসীম সাহাকে অত্যন্ত দুর্বল অবস্থায় দেখা গেছে। ঠিকমতো কথা বলতে পারছেন না। তিনি অস্পষ্ট স্বরে ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘মানুষ দেখলে ভয় লাগে। শব্দ শুনতেও ভয় লাগে। অদ্ভুত রোগ হয়েছে আমার।’ গত ২১ জানুয়ারি থেকে অসীম সাহা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি আছেন।

এদিকে কবি অসীম সাহার চিকিৎসার জন্য প্রধানমন্ত্রী আর্থিক সহায়তা দিলেও নানা জটিলতায় পরিবারের কাছে পৌঁছায়নি। ফলে চিকিৎসা অব্যাহত রাখতে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষাসহ ওষুধপত্রের অর্থের জোগান দেওয়া পরিবারের পক্ষে বেশ কষ্টকর হয়ে পড়েছে। এমন কথা জানিয়ে কবি অসীম সাহার ছেলে অর্ঘ্য সাহা ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘বাবা ভীষণ অসুস্থ।

গতকাল (শুক্রবার) আইসিইউতে নেওয়া হয়েছিল। আজ (শনিবার) কেবিনে স্থানান্তর করা হয়েছে। শারীরিক অবস্থা এখন কিছুটা স্ট্যাবল (স্থিতিশীল) হলেও মুখে খাবার খেতে পারছেন না। ফলে রাইস টিউব লাগিয়ে তরল জাতীয় খাবারগুলো খাওয়ানো হচ্ছে। আজ (শনিবার) একটি মেডিকেল বোর্ড বসেছিল। তবে রোগী সম্পর্কে কোনো ক্লিয়ার মেসেজ আমরা পাইনি। ফলে মেডিকেল বোর্ড আগামীকালও (রবিবার) আবার বসার কথা রয়েছে।’আর্থিক সংকটে চিকিৎসা চালিয়ে রাখাও কঠিন হয়ে পড়েছে বলে জানান কবির পরিবারের সদস্যরা। ওষুধপত্র এবং বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য প্রতিদিনই বিভিন্ন অঙ্কের অর্থের প্রয়োজন হওয়ায় বিপাকে পড়েছে তার পরিবার।

অর্ঘ্য সাহা ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘প্রায় প্রতিদিনই কোনো না কোনো টেস্ট (পরীক্ষা) থাকছে এবং ওষুধ থাকছে। ইতোমধ্যে আইসিইউতেও নেওয়া হয়েছিল। প্রতিটি ক্ষেত্রেই অর্থের প্রয়োজন পড়ছে। বাবা যেহেতু ভিআইপি কেবিনে আছেন, সেক্ষেত্রে অর্থ বেশি দিতে হচ্ছে- যা সাধারণ ওয়ার্ডে দরকার হয় না। এমনকি একটি টেস্ট দেওয়া হয়েছিল কিন্তু অর্থের অভাবে তা পিছিয়ে পরের দিন করাতে হয়েছে। কেবিন ভাড়া জমা হচ্ছে। ফলে আমাদের বেগ পোহাতে হচ্ছে। বাবার শুভাকাঙ্ক্ষীরাও সহযোগিতা করছেন। তবে সরকারের তরফ থেকে কেবিন ভাড়া যদি মওকুফ করা হয় তবে স্বস্তি পাবো।’

কবি হিসেবে হাসপাতালে বিশেষ কোনো সুবিধা পাচ্ছেন না জানিয়ে কবি অসীম সাহার সহধর্মিণী কবি অঞ্জনা সাহা ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘তাকে সাধারণ রোগী হিসেবেই গণ্য করা হচ্ছে।’ কবি অসীম সাহাও গত মঙ্গলবার একই অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, ‘হাসপাতালে জনবল সংকট। ডাকলেও লোকজন সময়মতো পাওয়া যাচ্ছে না।’ প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া আর্থিক সহায়তা পাওয়া নিয়ে জটিলতা দেখা দেওয়ায় শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এ বিষয়ে অর্ঘ্য সাহা বলেন, ‘আর্থিক সহায়তার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর তরফ থেকে সব ধরনের কাজ সম্পন্ন হয়েছে শুনেছি। কিন্তু তার অধস্তনে যে জায়গাটি থেকে পাস হয়ে আসবে সেখানে একটি জটিলতা তৈরি হয়েছে এবং অর্থ ছাড় হচ্ছে না। এমন জটিলতা কেন হচ্ছে তা আমরা বুঝতে পারছি না। কারণ, যেখানে প্রধানমন্ত্রী নিজে আর্থিক সহায়তা দিয়ে দিয়েছেন সেখানে এই জটিলতা হওয়ার কথা না। এই সংকট কীভাবে কাটবে তা জানি না।’

শনিবার সন্ধ্যায় কবির শয্যার পাশ থেকে কবির ভগ্নিপতি অভিজিৎ পোদ্দার ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘কবি কথা বলতে পারছেন না, মুখে রাইস টিউব লাগানো আছে।’ তিনি বলেন, কবি অসীম সাহার পারকিনসন রোগ রয়েছে। ফলে কোষ্ঠকাঠিন্য রোগে ভুগছেন। দীর্ঘদিন ধরে ডায়াবেটিস রোগ রয়েছে। তবে ডাক্তাররা এখনও তার সঠিক রোগ নির্ণয় করতে পারছেন না। এদিকে পরিবারে বেশ আর্থিক সংকট রয়েছে। পাশাপাশি চিকিৎসার অর্থও পরিবারকে বহন করতে হচ্ছে।’বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের নিউরোলজিস্ট অধ্যাপক ডা. আবু নাসির রিজভীর তত্ত্বাবধানে রয়েছেন কবি অসীম সাহা।

কবির জরুরি টেস্ট থাকলেও আর্থিক সংকটের কারণে তা করাতে পরিবার রাজি হয়নি বলেও জানান তিনি।অধ্যাপক ডা. আবু নাসির রিজভী ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘তিনি (কবি) সিভিয়ার ডিপ্রেশনে (বিষণ্নতা) আছেন। পাশাপাশি সিরিয়াস কনস্টিপেশন বা কোষ্ঠকাঠিন্যেও ভুগছেন। আমরা বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা দিয়েছিলাম। কিন্তু সেগুলো করতে একটু কষ্ট হচ্ছিল। বেশ আর্থিক সংকটে বোধহয় রয়েছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর ফান্ডের জন্যও চেষ্টা করছেন।

একটি পরীক্ষার জন্য দেওয়া হয়েছিল, তবে তা করাতে রাজি হয়নি তার পরিবার। ফিন্যান্সিয়াল ক্রাইসিস (আর্থিক সংকট) বোধহয় কাজ করছিল। শুক্রবার জ¦র হয়েছে, এমনকি খিঁচুনিও হয়েছে। তবে আমরা আমাদের সাধ্যমতো চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছি। আজ (শনিবার) মেডিকেল বোর্ডও গঠন করা হয়েছে।’

প্রসঙ্গত, কবি অসীম সাহা ১৯৪৯ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি নেত্রকোণা জেলায় তার মামার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। তার পৈত্রিক নিবাস মাদারীপুরে। তার পিতা অখিল বন্ধু সাহা ছিলেন অধ্যাপক। অসীম সাহা ১৯৬৫ সালে মাধ্যমিক পাস করেন এবং ১৯৬৭ সালে মাদারীপুর নাজিমুদ্দিন মহাবিদ্যালয় থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস করেন। ১৯৬৯ সালে স্নাতক পাস করে তিনি ১৯৬৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগে ভর্তি হন। ১৯৬৯ সালে অসহযোগ আন্দোলন এবং পরে ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হলে তার স্নাতকোত্তর পরীক্ষা পিছিয়ে যায় এবং তিনি ১৯৭৩ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন।

বাংলা সাহিত্যে সামগ্রিক অবদানের জন্য তিনি ২০১২ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন। বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে অবদানের জন্য ২০১৯ সালে বাংলাদেশ সরকার তাকে দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা একুশে পদকে ভূষিত করে।

(ঢাকাটাইমস/১৮ফেব্রুয়ারি/এআর)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বিশেষ প্রতিবেদন বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন এর সর্বশেষ

এই বিভাগের সব খবর

শিরোনাম :