ডাকাতি করতে গিয়ে কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, অভিযুক্তরা গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা টাইমস
| আপডেট : ২০ মে ২০২৪, ১২:৫২ | প্রকাশিত : ২০ মে ২০২৪, ১২:৩২

কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় জড়িত চার ডাকাতকে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার থেকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-১১।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- মো. আব্দুল্লাহ এবং তার সহযোগী মো. মতিন, চান মিয়া ও মো. আয়নাল।

এ সময় উদ্ধার করা হয় ভুক্তভোগীর মোবাইল এবং ডাকাতদের একটি দেশীয় ওয়ান শুটার গান, একটি শাবল, একটি দা, দুটি রামদা ও ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত সিএনজি।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্তরা সংঘবদ্ধ ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছেন।

র‍্যাব জানায়, গ্রেপ্তারকৃতরা ঘরের ভেতর মূল্যবান জিনিসপত্র না পেয়ে ক্ষোভে ভুক্তভোগী কিশোরীর হাত-পা বেঁধে তাদের বাড়ির পাশে একটি ফাঁকা ঘরে নিয়ে যায়। সেখানে কিশোরীর মুখ ওড়না দিয়ে পেঁচিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ করা হয়। এরপর ভুক্তভোগীকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় রেখে তারা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। এসময় ঘটনা সম্পর্কে কাউকে জানালে ভুক্তভোগী ও তার পরিবারকে হত্যা করা হবে বলে হুমকি দেওয়া হয়।

এ ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় নিয়ে আসতে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে র‌্যাব।

সোমবার দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‍্যাবের মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‍্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার আরাফাত ইসলাম।

তিনি বলেন, “অভিযুক্তরা সংঘবদ্ধ ডাকাত চক্র এবং চক্রের মূলহোতা আব্দুল্লাহ। চক্রে ১০-১২ জন সদস্য রয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত আব্দুল্লাহর নেতৃত্বে তারা ১-২ বছর ধরে নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় ডাকাতি করে আসছিল। গত ১৫ মে রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে ডাকাতির উদ্দেশ্যে ভুক্তভোগীর বাড়িতে যায়। সেসময় গ্রেপ্তারকৃত আব্দুল্লাহ ও মতিন ঘরের জানালা ভেঙে ঘরের ভেতরে প্রবেশ করে। ভুক্তভোগী ও তার মায়ের ঘুম ভেঙে গেলে তারা ভয়ে চিৎকার করলে গ্রেপ্তারকৃতরা তাদেরকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে রাখে। পরবর্তীতে ঘরের দরজা খুলে দিলে গ্রেপ্তারকৃত চান মিয়া ও আয়নালসহ অন্য সহযোগীরা দেশীয় অস্ত্রসহ ঘরে প্রবেশ করে ভয়ভীতি দেখিয়ে ভুক্তভোগীর মাসহ ঘরে উপস্থিত সবার হাত-পা ও মুখ বেঁধে ফেলে।”

র‍্যাব মুখপাত্র বলেন, “পরবর্তীতে গ্রেপ্তারকৃতরা ঘরের ভেতর মূল্যবান জিনিসপত্র না পেয়ে ক্ষোভে ভুক্তভোগীকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় তাদের বাড়ির পাশে একটি ফাঁকা ঘরে নিয়ে যায়। সেখানে গ্রেপ্তারকৃতরা ভুক্তভোগীর মুখ ওড়না দিয়ে পেঁচিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। ভুক্তভোগীকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় রেখে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় তারা। এসময় ঘটনা সম্পর্কে কাউকে জানালে ভুক্তভোগী ও তার পরিবারকে হত্যা করবে বলে হুমকি দেওয়া হয়।”

পরবর্তীতে ভুক্তভোগী এ ঘটনায় মামলা করলে অভিযুক্তরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গ্রেপ্তার এড়াতে নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপন করে।

কমান্ডার আরাফাত বলেন, “আব্দুল্লাহ এই ডাকাত চক্রের মূলহোতা। সে আগে একটি স্পিনিং মিলে চাকরির সময় থেকে ডাকাতিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে চাকরি ছেড়ে দিয়ে ডাকাত চক্র গড়ে তোলে। সে ডাকাতি পেশাকে আড়াল করার জন্য ছদ্মবেশে বিভিন্ন সময় নারায়ণগঞ্জের ভুলতা-গাউছিয়া এলাকায় বাসের হেলপার হিসেবে কাজ করতো এবং রিকশা চালাত।”

তিনি আরও বলেন, “মতিন আব্দুল্লাহর অন্যতম সহযোগী। সে ডাকাতিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। সে ডাকাতি পেশাকে আড়াল করার জন্য ছদ্মবেশে সিএনজি চালাত। সিএনজি চালিয়ে নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় ডাকাতির জন্য টার্গেট নির্ধারণ করে ডাকাতির পরিকল্পনা গ্রেপ্তারকৃত আব্দুল্লাহকে জানাত। এছাড়া সে তার সিএনজি দিয়ে ডাকাতির আগে চক্রের অন্য সদস্যদের ডাকাতির জন্য নির্ধারিত স্থানে নিয়ে যেত এবং ডাকাতি শেষে চক্রের সদস্যদের সুবিধাজনক স্থানে দ্রুত পৌঁছে দিত। তার বিরুদ্ধে নরসিংদীর মাধবদী থানায় অস্ত্র, ডাকাতি ও বিস্ফোরক দ্রব্য সংক্রান্ত ৩টি মামলা রয়েছে।”

(ঢাকাটাইমস/২০মে/এসএস/এফএ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

অপরাধ ও দুর্নীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

অপরাধ ও দুর্নীতি এর সর্বশেষ

এই বিভাগের সব খবর

শিরোনাম :