জুলাই আন্দোলনে নয়ন হত্যাকে কেন্দ্র করে দুই মামলা, নেপথ্যে যা জানা যাচ্ছে

ঢাকা টাইমস ডেস্ক
  প্রকাশিত : ১৭ মার্চ ২০২৬, ২০:৪৫| আপডেট : ১৭ মার্চ ২০২৬, ২১:১২
অ- অ+

চব্বিশের জুলাই আন্দোলনে রাজধানীর কলাবাগান থানা এলাকায় নিহত নয়নকে কেন্দ্র করে নতুন করে আবারও মামলা দায়ের হয়েছে। একই ঘটনার পুনরাবৃত্ত অভিযোগকে কেন্দ্র করে ‘মামলা বাণিজ্য’, হয়রানি ও প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা।

সম্প্রতি ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ২৪৮ জনকে আসামি করে একটি অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে। অভিযোগটি অন্য থানা এলাকার ঘটনাকে কেন্দ্র করে কলাবাগান থানায় করা হয়েছে বলে জানা যায়। বিষয়টি আমলে নিয়ে আদালত কলাবাগান থানার কাছে জানতে চান, এ ঘটনার বিষয়ে আগে কোনো মামলা হয়েছে কি না। পরে কলাবাগান থানা থেকে আদালতে পাঠানো প্রতিবেদনে জানানো হয় যে, এ বিষয়ে থানায় পূর্বে কোনো মামলা হয়নি।

তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, নিহত নয়নকে ঘিরে এর আগে আরেকটি মামলা দায়ের করা হয়েছিল। জানা যায়, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট বাংলা মটর এলাকায় গুলিবিদ্ধ হন নয়ন। পরে তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন এবং ২০ সেপ্টেম্বর সেখানে মারা যান।

এই ঘটনায় নিহত নয়নের শ্বশুর এরশাদুল হক ১৬৭ জনকে আসামি করে আদালতে একটি অভিযোগ দাখিল করেন। আদালতের নির্দেশে সেই অভিযোগের ভিত্তিতে মোহাম্মদপুর থানায় মামলা রুজু হয়। মামলাটি ছিল—মোহাম্মদপুর থানা মামলা নং ২৮, তারিখ ৫ জুন ২০২৫। পরে ওই মামলায় তদন্ত শেষে ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি পুলিশ আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন (ফাইনাল রিপোর্ট) দাখিল করে।

এরপর একই ঘটনার প্রেক্ষাপটে নিহত নয়নের পিতা লোকমান হোসেন ২৪৮ জনকে আসামি করে আবার একটি নতুন অভিযোগ দাখিল করেন। নতুন অভিযোগটি ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে CR মামলা নং ৫২/২৬ (কলাবাগান), তারিখ ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ হিসেবে নথিভুক্ত হয়েছে। আসামিদের মধ্যে অনেক মহিলা রয়েছেন এবং প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির নেতা -কর্মী রয়েছেন।

এ নিয়ে এলাকায় নানা প্রশ্ন উঠেছে।

স্থানীয়দের একাংশের দাবি, একই হত্যাকাণ্ড নিয়ে পুনরায় অভিযোগ দায়েরের পেছনে ‘মামলা বাণিজ্যের’ উদ্দেশ্য থাকতে পারে। তারা বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় জুলাই–আগস্টের ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে মামলা না করার একটি নির্দেশনা ছিল বলেও বিভিন্ন মহলে আলোচনা রয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, গত বছরের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর কলাবাগান এলাকায় প্রায় ১০ থেকে ১২ জনের একটি প্রভাবশালী চক্র সক্রিয় হয়ে ওঠে। তাদের বিরুদ্ধে স্থানীয় সচ্ছল ব্যক্তি, ব্যবসায়ী এবং রাজনৈতিকভাবে ভিন্নমতাবলম্বীদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে হয়রানি, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে। অনেকের বিরুদ্ধে একাধিক মামলাও চলমান রয়েছে বলে এলাকাবাসী দাবি করেন।

এলাকাবাসীর ভাষ্য অনুযায়ী, এরই মধ্যে সংশ্লিষ্ট কয়েকজনকে রাজনৈতিক দল থেকেও বহিষ্কার করা হয়েছে।

তবে নতুন সরকার গঠনের পর তারা আবার সক্রিয় হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ব্যবসায়ী কয়েকজন আসামি গতকাল বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্য, সড়ক পরিবহন, নৌ ও রেলপথ মন্ত্রী জনাব শেখ রবিউল আলমকে জানিয়েছেন।

তিনি চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন। এ পরিস্থিতিতে এলাকাবাসী মন্ত্রীকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উচ্চ পর্যায়ের একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছেন। তারা চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে এলাকায় শান্তি ও নিরাপত্তা ফিরে আসে।

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
ঐতিহ্যবাহী কান্তনগর মন্দির পরিদর্শন করলেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত
বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও জনসভায় সোনারগাঁয়ে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন
চলন্ত ট্রেনে নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে ক্যান্টিনবয় কারাগারে
মবের অপসংস্কৃতি রোধে সরকার সজাগ রয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
বিশেষ প্রতিবেদন তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা