সুন্দরবনের চার বনদস্যু বাহিনীর ৫২ সদস্যের অস্ত্রসহ আত্মসমর্পণ

তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষে সুন্দরবন উন্মুক্ত হওয়ার আগের দিন চারটি বনদস্যু বাহিনীর ৫২ সদস্য র্যাব-৬-এর কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন। সোমবার তাঁরা আত্মসমর্পণ করেন। আত্মসমর্পণকারীদের মধ্যে বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর ১৬, আনারুল বাহিনীর ১৩, আফজাল ওরফে দুলাভাই বাহিনীর ১৫ এবং আফতাব বাহিনীর আট সদস্য রয়েছেন।
মঙ্গলবার র্যাব-৬-এর সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বন্যপ্রাণীর প্রজনন ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের লক্ষ্যে গত ১ জুন থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সুন্দরবনে পর্যটক ও সব ধরনের বনজীবীর প্রবেশ বন্ধ ছিল। তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষে মঙ্গলবার থেকে অনুমতি ও বিধি-বিধান মেনে পর্যটক ও বনজীবীদের জন্য সুন্দরবন উন্মুক্ত হয়েছে। এর আগের দিন বনদস্যুদের আত্মসমর্পণে স্বস্তি ফিরেছে বনজীবীদের মধ্যে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সুন্দরবনে ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় তিন ডজন দস্যু বাহিনী সক্রিয় ছিল। এসব বাহিনীর সদস্যরা মুক্তিপণের দাবিতে জেলে, মৌয়ালসহ বনজীবীদের অপহরণ ও নির্যাতন, বন্যপ্রাণী হত্যা এবং লুটপাটসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ছিলেন।
২০১৮ সালে প্রথমবারের মতো সুন্দরবনের বনদস্যুদের আত্মসমর্পণের সুযোগ দেওয়া হয়। ওই সময় ৩২টি বাহিনীর ৩২৮ সদস্য ৪৬২টি অস্ত্র ও বিপুল গোলাবারুদসহ আত্মসমর্পণ করেন। ওই বছরের ১ নভেম্বর সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত ঘোষণা করে সরকার। তবে ২০২৪ সালের পর থেকে বেশিরভাগ দস্যু আবার পুরোনো কর্মকাণ্ডে ফিরে যান বলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানান।
বনে দস্যুদের অপতৎপরতা বেড়ে গেলে কোস্টগার্ডসহ বিভিন্ন বাহিনী একাধিক অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের মুখে চলতি বছর ছোট সুমন বাহিনীর সাত সদস্য এবং ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনীর ২৭ সদস্য আত্মসমর্পণ করেন।
র্যাব-৬-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নিস্তার আহমেদ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে অপহরণ, মুক্তিপণ আদায় ও লুটপাটসহ জলদস্যুদের নানা তৎপরতায় বনজীবীরা নিরাপত্তাহীনতায় ছিলেন। এ পরিস্থিতিতে সুন্দরবনে গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযান জোরদার করে র্যাব-৬।
তিনি বলেন, র্যাবের তৎপরতা, বনের প্রতিকূল পরিবেশ এবং দস্যুজীবনের অনিশ্চয়তার কারণে বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যরা অপরাধের পথ ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার আগ্রহ প্রকাশ করেন। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার ৫২ জন আত্মসমর্পণ করেন।
র্যাবের এই কর্মকর্তা জানান, আত্মসমর্পণকারীদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হবে। একই সঙ্গে সুন্দরবনে দস্যুতা, অপহরণ, মুক্তিপণ আদায়সহ সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনে অভিযান ও গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত থাকবে।
(ঢাকা টাইমস/১সেপ্টেম্বর/এসএ)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন











































