প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে বন্ধুত্ব করবো, স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক নয়: গয়েশ্বর

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১৮:৩১
অ- অ+

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব চায়, কিন্তু সেই সম্পর্ক কখনোই দাসত্বের পর্যায়ে যেতে পারে না। প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে সার্বভৌমত্বের প্রশ্নটি সামনে এনে তিনি বলেন, বন্ধুত্ব হবে সমমর্যাদার ভিত্তিতে, এটি কোনো ‘স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক’ নয়।

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

দেশের সমসাময়িক রাজনীতি ও প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে এই প্রবীণ নেতা বলেন, বাংলাদেশ সবার সঙ্গে অর্থনৈতিক কারণে বন্ধুত্ব চায়, কিন্তু সেই বন্ধুত্ব কখনোই দাসত্বের নামান্তর হবে না। প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক হতে হবে সমমর্যাদার ভিত্তিতে, জাতীয় স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে নয়। প্রতিবেশীর সঙ্গে বন্ধুত্ব হবে কিন্তু তা কখনোই ‘স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের’ মতো হওয়া উচিত নয়। স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ বজায় রাখাই হবে আমাদের মূল অগ্রাধিকার।

গয়েশ্বর চন্দ্র রায় তার বক্তব্যে শহীদ জিয়ার রাজনৈতিক দর্শনের স্মৃতিচারণ করে বলেন, জিয়াউর রহমান চাটুকারিতা পছন্দ করতেন না এবং বিশ্বাস করতেন যে সমালোচনা হলো গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ জিয়াউর রহমান যখন যুদ্ধের ডাক দিয়েছিলেন, তখন তিনি জাতিকে আত্মরক্ষার নয় বরং পাক হানাদার বাহিনীকে বিতাড়িত করার আহ্বান জানিয়েছিলেন। অথচ সেই উত্তাল সময়ে অনেক বড় বড় নেতাকে যুদ্ধের পরিবর্তে কেবল সাবধানে থাকার নির্দেশনা দিতে দেখা গেছে। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, বর্তমান প্রজন্মের অনেকেই শহীদ জিয়ার সেই অবদানকে যথাযথভাবে মূল্যায়ন করতে চায় না।

তিনি আরও বলেন, দেশের স্বাধীনতা অর্জিত হলেও প্রকৃত মুক্তি এখনো আসেনি। জলবায়ু ও রাজনৈতিক ভাবনার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে নতুন প্রজন্মের যে আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছে, তা অতীতের অভিজ্ঞতার আলোকে বর্তমানকে ধারণ করেই পূরণ করতে হবে।

মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপট ও বর্তমান ভূ-রাজনীতির তুলনা করে তিনি বলেন, ১৯৪৭-এর দেশভাগ থেকে শুরু করে ৫২-র ভাষা আন্দোলন এবং ৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ, সবকিছুর মূলে ছিল বঞ্চনা ও শোষণ থেকে মুক্তি। অথচ আজও বিদেশের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে আমরা জাতীয় মর্যাদা সমুন্নত রাখতে পারছি না। তিনি অভিযোগ করেন, অনেক ক্ষেত্রে আন্তরিকতার অভাব ও রাজনৈতিক নতজানু নীতির কারণে আমরা জাতীয় লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হচ্ছি। আমরা অতীতকে ভুলে থাকব না, কিন্তু বর্তমান বিশ্ব বাস্তবতায় মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোই আমাদের বড় চ্যালেঞ্জ।

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে নেতাকর্মীদের অন্যায় না করার শপথ করালেন ধর্মমন্ত্রী কায়কোবাদ
হঠাৎ অসুস্থ জ্বালানিমন্ত্রী টুকু, সিসিইউতে ভর্তি
আওয়ামী সরকারের আমলে জ্বালানি খাতের দুর্নীতির মাশুল এখন দিচ্ছে জনগণ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
পূবাইলে ফজলুল হক মিলনকে মন্ত্রিসভায় রাখার দাবিতে দোয়া মাহফিল
বিশেষ প্রতিবেদন তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা