মুগদায় সৌদি প্রবাসীকে ৭ টুকরা করেন পরকীয়া প্রেমিকা

রাজধানীর মুগদার মান্ডা এলাকায় উদ্ধার হওয়া খণ্ডিত মরদেহের রহস্য উদঘাটন করেছে র্যাব। নিহত ব্যক্তি সৌদি প্রবাসী মোকাররম বলে শনাক্ত হয়েছে। পরকীয়া সম্পর্কের জেরে প্রেমিকা ও তার এক বান্ধবী মিলে তাকে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
আজ সোমবার র্যাব-৩ জানায়, ৫ লাখ টাকা আত্মসাৎ করে পরকীয়া প্রেমিকা ও বান্ধবী মিলে সৌদি প্রবাসী মোকাররমকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করেন। পরে মরদেহ সাত টুকরা করে ময়লার মধ্যে ফেলে দেন।
এর আগে, গতকাল রবিবার বিকালে মান্ডা আবদুল গনি রোডের শাহনাজ ভিলার সামনের একটি বেজমেন্টের নিচ থেকে পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় মরদেহের ৭টি খণ্ডিত অংশ উদ্ধার করা হয়। টুকরাগুলো অর্ধগলিত, তবে মরদেহের মাথা পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনাস্থল থেকে পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় মরদেহের ৭টি খণ্ড উদ্ধার করে পুলিশ। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, লাশ পাওয়া গেছে, মাথা, হাত আর পা সব টুকরো করা হয়েছে। মনে হয় দূরের কোনো লাশ এখানে ফেলে দিয়ে গেছে।
এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তিনজনকে র্যাবের অভিযানে আটক করা হয় বলে জানা গেছে। আটক ব্যক্তিদের তথ্যের ভিত্তিতে পরে মধ্যরাতে পার্শ্ববর্তী মানিকনগর এলাকায় অভিযান চালিয়ে নিহত ব্যক্তির মাথার অংশও উদ্ধার করা হয়।
মুগদা থানার উপ-পরিদর্শক অনুপ বিশ্বাস জানান, মামুনের বাড়ির পাশের এবং ৫৭ নম্বর বাড়ির গলির ভেতর থেকে মাথার অংশ উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, উদ্ধার হওয়া মরদেহটি একজন পুরুষের। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, হত্যার পর পরিচয় গোপন ও আলামত নষ্ট করার উদ্দেশ্যে দুষ্কৃতকারীরা শরীরটি টুকরো করে বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেয়। সিসিটিভি ফুটেজ ও আলামত বিশ্লেষণ করে ঘটনার রহস্য উদঘাটনে কাজ চলছে।
মুগদা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. জালাল উদ্দিন জানান, মান্ডা প্রথম গলির আব্দুল করিম রোডের ২৬০/১ নম্বর ‘শাহনাজ ভিলা’র বেজমেন্ট থেকে প্রথমে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। সেখানে ৭টি খণ্ডে দেহটি পাওয়া যায়। তবে ওই সময় মাথা পাওয়া যায়নি। পরে পাশের ময়লার স্তূপে তল্লাশি চালিয়ে মাথাটি উদ্ধার করা হয়। দেহটি পচাগলা অবস্থায় ছিল এবং পেট থেকে ভুঁড়ি বেরিয়ে আসছিল।
তিনি আরও জানান, প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, ৬ দিন আগে ওই ব্যক্তিকে অন্য কোথাও হত্যা করা হয়েছে। পরে মরদেহ টুকরো টুকরো করে পলিথিনে ঢুকিয়ে ওই বাড়িটির বেজমেন্টে রেখে যায়।
মতিঝিল বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ হারুন-অর-রশিদ বলেন, একজন অজ্ঞাত পুরুষের খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তার পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে এবং ঘটনায় জড়িতদের শনাক্তে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহের খণ্ডিত অংশগুলো ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। তবে এখনো নিহত ব্যক্তির হাতের একটি অংশের সন্ধান মেলেনি বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













































