পাহাড়ি ঢলে আখাউড়ার সীমান্তবর্তী নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ২৪ আগস্ট ২০২৬, ১৬:৪৫
অ- অ+

ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার সীমান্তবর্তী ৩টি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। হঠাৎ পাহাড়ি ঢলের পানিতে মোগড়া ইউনিয়ন, দক্ষিণ ইউনিয়ন ও মনিয়ন্দ ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার প্রায় ২৫০ হেক্টর ফসলি জমি তলিয়ে গেছে। পানিবন্দি হয়ে পড়ে প্রায় ৪০টি পরিবার। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, আবদুল্লাহপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন জাজিরপুল খাল দিয়ে পাহাড়ি ঢলের পানি প্রবেশ করে আশপাশের এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। দক্ষিণ ইউনিয়নের কালিকাপুর, কেন্দুয়াই, রহিমপুর, রাজেন্দ্রপুরসহ আশেপাশের গ্রামের জমি পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে বহু পরিবার। আখাউড়া স্থলবন্দরের বিপরীতে থাকা আমদানি রপ্তানিকারক অফিসে পানি ঢুকে পড়েছে। সংলগ্ন হোটেল চা দোকানে পানির প্রবেশ করায় ব্যবসা বন্ধ রয়েছে।

রাজেন্দ্রপুর গ্রামের আবু হানিফ বলেন, ভারত থেকে আসা পানির আমাদের খুব ক্ষতি করেছে। পুকুর, জমি তলিয়ে গেছে। আমাদের এদিকে কোন বৃষ্টি নাই। হঠাৎ উজান থেকে পানি নেমে এসেছে।

কেন্দুয়াই গ্রামের মনির মিয়া বলেন, চার কানি জমি লাগিয়েছিলাম। ভারত থেকে হঠাৎ পানি এসে বাড়িঘর জমি তলিয়ে গেছে।

রাজেন্দ্রপুর গ্রামের জালাল মিয়া বলেন, গত শনিবার থেকে পানি বাড়া শুরু হয়েছে। গতকাল পানি বেশি বেড়েছে। আমাদের জমিজমা পানিতে তলিয়ে গেছে। জমিতে ধান লাগিয়েছিলাম মাত্র। শ্রমিকের টাকা দেওয়াও শেষ হয়নি।

আখাউড়া দক্ষিণ ইউপির ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য জাহের মিয়া বলেন, আমার ওয়ার্ডের রহিমপুর, কেন্দুয়াই বঙ্গেরচর গ্রামের বহু বাড়িঘর, জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। জাজি নদীসহ খালগুলো পরিস্কার করা হলে দ্রুত পানি নিষ্কাশন হবে।

আখাউড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানা বলেন, আখাউড়া পৌরসভা, মোগড়া ও দক্ষিণ ইউনিয়ন এলাকায় প্রায় আড়াইশ হেক্টর জমি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। তবে পানি দ্রুত নেমে গেলে ফসলের ক্ষতির সম্ভাবনা খুব কম থাকবে।

আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাপসী রাবেয়া জানান, পাহাড়ি ঢলের কারণে নিম্নাঞ্চলের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পানি বৃদ্ধির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। ৩২টি পরিবার পানিবন্দী আছে। আমরা সীমান্তের স্কুলগুলোকে আশ্রয় কেন্দ্র হিসেবে প্রস্তুত করে রেখেছি। তবে এখনও কেউ আশ্রয় কেন্দ্রে যায়নি। ত্রাণ এনে রেখেছি। প্রয়োজন হলেই ত্রাণ দিতে পারবো।

(ঢাকা টাইমস/২৪আগস্ট/এসএ)

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
জয়পুরহাটে আ.লীগ নেতার বাড়ি দখলের অভিযোগে বহিষ্কার বিএনপি নেতা 
ইন্দোনেশিয়ায় ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১০০
দলের নাম ভাঙিয়ে চলা লোকদের বিরুদ্ধে শক্ত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে: রিজভী
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলা একাডেমির মধ্যে কো-পাবলিকেশনস বিষয়ে সমঝোতা
বিশেষ প্রতিবেদন তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা