কিছুদিনের মধ্যেই তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ শুরু হবে: ত্রাণমন্ত্রী

তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ অনেক দূর এগিয়েছে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু। তিনি বলেছেন, নকশা তৈরির কাজ শেষে কিছুদিনের মধ্যেই এর কাজ শুরু করা হবে।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বিকালে সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুরে গবাদিপশু আশ্রয়কেন্দ্রের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠান শেষে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, পাশ্ববর্তী দেশের পানি বৈষম্যের কারণে তিস্তা এখন মরুভূমিতে পরিণত হয়েছে। শুকনো মৌসুমে শুধু ধুধু বালুচর। এটা নিয়ে আমরা দীর্ঘদিন আন্দোলন করেছি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সুদূর লন্ডন থেকে এই আন্দোলনে সম্পৃক্ত হয়েছিলেন। তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, বিএনপি যদি ম্যান্ডেট পায়, তাহলে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, যমুনার চরাঞ্চলে বন্যায় মানুষ অসহায় হয়ে পড়ে। তাদের জীবন ও প্রাণী নিয়ে তারা বিপাকে পড়ে। এই পরিস্থিতি থেকে পরিত্রাণ পেতে চরাঞ্চলে গবাদিপশুর আশ্রয়কেন্দ্র তৈরি করা হচ্ছে। যাতে গবাদিপশু ও মানুষ আশ্রয় নিতে পারে।
পরে বেলকুচির সোহাগপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে মাঠে বিএনপির ৪৮ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে র্যালী ও সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন মন্ত্রী। সমাবেশে আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। যারা দেশ পরিচালনায় ব্যর্থ হয়েছিল, তাদের কারণে দেশে সংকট তৈরি হয়েছে। তাদের ব্যর্থতার কারণেই বাংলাদেশের সব ধর্মের মানুষের অংশগ্রহণে বিএনপি গঠিত হয়েছিল। বিএনপি সব সময় মানুষের ভালোবাসা নিয়ে রাজনীতি করে।
খালেদা জিয়া হিমালয়ের পর্বতের মতো অবিচল ছিলেন উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, তার ওপর অনেক নির্যাতন, জুলুম ও অত্যাচার হয়েছে। এরপরও বিএনপির পতাকা টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত উত্তোলিত হয়েছে। গোটা দেশের মানুষ বিএনপিকে ভালোবাসে। সর্বশেষ নির্বাচনে মানুষ বিএনপিকে ক্ষমতায় এনেছে। তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশ পরিচালিত হচ্ছে।
বিএনপির প্রতি মানুষের আস্থার কারণ তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, অন্য দলের নেতাদের মতো বিএনপির নেতারা পালিয়ে যাননি। তারা লড়াই-সংগ্রামে মানুষের পাশে থেকেছেন। বিএনপি প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পাশাপাশি তা বাস্তবায়নের চেষ্টা করে এবং বাস্তবায়ন করেছে।
ত্রাণমন্ত্রী বলেন, অন্য দলগুলো নির্বাচনের আগে বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দেয়, পরে তা ভুলে যায়। কিন্তু বিএনপি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করে। তারেক রহমানের ৩১ দফায় থাকা ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের ভাতা ও বৃক্ষরোপণ করছে এছাড়া বাকী প্রতিশ্রুতি আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে বাস্তবায়ন করা হবে।
আলোচনা সভা শেষে বর্ণাঢ্য র্যালীর উদ্বোধন করেন ত্রাণমন্ত্রী। র্যালীটি আলহাজ সিদ্দিক উচ্চবিদ্যালয় মাঠ থেকে শুরু হয়ে বেলকুচি সরকারি কলেজ পর্যন্ত বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। র্যালীতে হাজার হাজার নারী-পুরুষসহ দলীয় নেতাকর্মীরা অংশ নেন। এর আগে মন্ত্রী বেলকুচির তামাই এলাকায় তাঁতশিল্প এলাকা পরিদর্শন করেন।
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন












































