সুশাসন বনাম মব সংস্কৃতি: আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্রের করণীয়

প্রফেসর ড. আসিফ মিজান
  প্রকাশিত : ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:০১
অ- অ+

গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে অন্যায়, অনিয়ম বা দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ নাগরিকের স্বীকৃত অধিকার। কিন্তু প্রতিবাদের অধিকার কখনো কাউকে অপমান করার, শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার হুমকি দেওয়ার, ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দেওয়ার ঘোষণা দেওয়ার কিংবা অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করার লাইসেন্স হতে পারে না। সাম্প্রতিক সময়ে প্রশাসনিক কর্মকর্তা বা দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের লক্ষ্য করে ‘অনিয়মের প্রতিবাদ’-এর নামে যে উগ্র, অপমানজনক ও ভীতিপ্রদ আচরণের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, তা গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি, প্রশাসনিক শৃঙ্খলা এবং আইনের শাসন—তিনটির জন্যই গভীর উদ্বেগের বিষয়।

রাষ্ট্রের কোনো কর্মকর্তা অনিয়ম করলে তাঁর জবাবদিহির ব্যবস্থা অবশ্যই থাকতে হবে; বরং সেটি দ্রুত, নিরপেক্ষ ও দৃশ্যমান হওয়া জরুরি। কিন্তু অভিযোগের প্রতিকার চাওয়ার পরিবর্তে জনসমক্ষে হুমকি, অপমান ও মবের চাপ প্রয়োগ করা ন্যায়বিচারের পথ নয়; এটি বিচারের বিকল্প হিসেবে ভয় প্রদর্শনের সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করে। এ ধরনের আচরণকে ‘জনরোষ’, ‘ন্যায়ের দাবি’ বা ‘দুর্নীতিবিরোধী প্রতিবাদ’ বলে আখ্যা দিয়ে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা মূলত বেআইনি উগ্রতাকে রাজনৈতিক ও সামাজিক আশ্রয় দেওয়ার নামান্তর।

প্রতিবাদ ও মবের সীমারেখা

প্রতিবাদ হলো সংগঠিত, শান্তিপূর্ণ, যুক্তিনির্ভর ও জবাবদিহিমূলক নাগরিক অবস্থান। অন্যদিকে মব আচরণ হলো উত্তেজনা, ভয়, অপমান, বলপ্রয়োগের ইঙ্গিত এবং দলগত চাপের মাধ্যমে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে নতিস্বীকারে বাধ্য করার চেষ্টা। দুটি বিষয়কে এক করে দেখার সুযোগ নেই।

যখন একজন পদস্থ সরকারি কর্মকর্তাকে জনসমক্ষে ‘ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দেওয়া’র হুমকি দেওয়া হয় কিংবা অশালীন ভাষায় আক্রমণ করা হয়, তখন সেখানে অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের আগেই এক ধরনের জনবিচার কার্যকর হয়ে যায়। অভিযোগকারী, দর্শক এবং উত্তেজিত গোষ্ঠী—সবাই একযোগে বিচারক হয়ে ওঠে। এটি আইনের শাসনের পরিপন্থী এবং নাগরিক নিরাপত্তার জন্যও বিপজ্জনক।

এ. ভি. ডাইসির আইনের শাসন-তত্ত্বের মূল কথা হলো—রাষ্ট্রে ব্যক্তি নয়, আইনই সর্বোচ্চ; এবং সকলের জন্য একই আইনি কাঠামো প্রযোজ্য। কোনো কর্মকর্তা অপরাধ করলে তিনি অবশ্যই শাস্তিযোগ্য; কিন্তু তাঁর অপরাধ নির্ধারণ ও শাস্তি দেওয়ার দায়িত্ব উচ্ছৃঙ্খল জনতার নয়, রাষ্ট্রের সাংবিধানিক ও আইনি প্রতিষ্ঠানের। আইনকে পাশ কাটিয়ে প্রতিকারের নামে শাস্তি দেওয়ার প্রবণতা শেষ পর্যন্ত নিরপরাধ ব্যক্তিকেও মবের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করতে পারে।

আইনি ও নৈতিক সংকট

হুমকি, অপমান, জোরপূর্বক অপসারণের চেষ্টা কিংবা জনসমক্ষে অশালীন গালিগালাজকে কোনো সভ্য রাষ্ট্রে স্বাভাবিক নাগরিক আচরণ বলা যায় না। অপরাধের অভিযোগ থাকলে অভিযোগপত্র, বিভাগীয় তদন্ত, প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল, আদালত, দুর্নীতি দমন কমিশন, মানবাধিকার সংস্থা, তথ্য অধিকার এবং গণমাধ্যম—এসবই রয়েছে জবাবদিহি নিশ্চিত করার জন্য।

আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া হলে প্রথম যে ক্ষতিটি হয়, তা হলো রাষ্ট্রের বিচারিক কর্তৃত্ব ক্ষুণ্ণ হয়। দ্বিতীয়ত, সৎ ও দায়িত্বশীল কর্মকর্তারাও ভয় ও অনিশ্চয়তার মধ্যে কাজ করতে বাধ্য হন। তৃতীয়ত, প্রকৃত দুর্নীতিবাজরা অনেক সময় জনরোষের নাটক তৈরি করে তদন্তের প্রকৃত পথকে বিভ্রান্ত করার সুযোগ পায়।

জনপরিসরে অশালীনতা যত বেশি গ্রহণযোগ্য হবে, রাজনৈতিক ও সামাজিক ভাষাও তত বেশি সহিংস হবে। আজ একজন কর্মকর্তা অপমানিত হবেন, কাল একজন শিক্ষক, সাংবাদিক, চিকিৎসক, বিচারক কিংবা সাধারণ নাগরিক একই মবের শিকার হতে পারেন। তাই এটি কেবল প্রশাসনিক নিরাপত্তার প্রশ্ন নয়; এটি প্রতিটি নাগরিকের মর্যাদা ও নিরাপত্তার প্রশ্ন।

সামাজিক চুক্তির অবক্ষয়

জঁ-জাক রুসোর সামাজিক চুক্তি-তত্ত্ব আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে নাগরিক স্বাধীনতার সঙ্গে নাগরিক দায়িত্বও অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। সভ্য সমাজে মানুষ নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করবে, অধিকার চাইবে এবং শাসকের জবাবদিহি নিশ্চিত করবে—কিন্তু তা করবে এমনভাবে যাতে অন্যের অধিকার, সম্মান ও নিরাপত্তা ক্ষুণ্ণ না হয়।

প্রতিবাদের নামে অশ্রাব্য ভাষা, ব্যক্তি-আক্রমণ এবং বলপ্রয়োগের হুমকি সমাজে এক ধরনের নৈতিক অবক্ষয় তৈরি করে। যখন সমাজ বা রাজনৈতিক নেতৃত্ব এ ধরনের আচরণকে ‘সাহস’, ‘বীরত্ব’ বা ‘জনতার ন্যায়বিচার’ হিসেবে প্রচার করে, তখন তরুণ প্রজন্ম ভুল বার্তা পায়। তারা শেখে—যুক্তি নয়, উচ্চকণ্ঠতা; আইন নয়, ভয়; প্রমাণ নয়, মবই ক্ষমতার উৎস।

এই সংস্কৃতি দীর্ঘমেয়াদে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের ওপর নাগরিক আস্থা দুর্বল করে। আর প্রতিষ্ঠান দুর্বল হলে দুর্নীতি কমে না; বরং ব্যক্তিগত প্রভাব, গোষ্ঠীগত শক্তি ও ভয় প্রদর্শনের রাজনীতি আরও শক্তিশালী হয়।

উগ্রতার মনস্তত্ত্ব

এ ধরনের আচরণের পেছনে কেবল রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নয়, কিছু মনস্তাত্ত্বিক ও সমাজতাত্ত্বিক কারণও কাজ করে।

প্রথমত, ফ্রাস্ট্রেশন-অ্যাগ্রেশন তত্ত্ব অনুসারে দীর্ঘদিনের সেবাবঞ্চনা, দুর্নীতির অভিজ্ঞতা কিংবা প্রশাসনিক জটিলতা নাগরিকদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি করতে পারে। সেই ক্ষোভের কার্যকর ও বিশ্বাসযোগ্য প্রতিকার না থাকলে তা অনেক সময় আক্রমণাত্মক আচরণে রূপ নেয়।

দ্বিতীয়ত, ভিড়ের মধ্যে ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য লোপ বা "deindividuation" ঘটে। একজন ব্যক্তি একা যে ভাষা ব্যবহার করতে বা যে হুমকি দিতে সংকোচ বোধ করতেন, দলীয় উত্তেজনা ও মবের আড়ালে তিনি সহজেই তা করতে পারেন। কারণ সেখানে ব্যক্তিগত দায়বদ্ধতার অনুভূতি কমে যায়, আর গোষ্ঠীর উন্মাদনা ব্যক্তির বিবেচনাবোধকে গ্রাস করে।

তৃতীয়ত, নৈতিক যৌক্তিকতার প্রবণতা কাজ করে। কেউ যখন নিজের অশোভন বা আক্রমণাত্মক আচরণকে ‘ন্যায় প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম’ বলে আখ্যা দেয়, তখন সে নিজের আচরণের নৈতিক দায় এড়িয়ে যেতে চায়। লিওন ফেস্টিঞ্জারের কগনিটিভ ডিসোন্যান্স ধারণা অনুযায়ী, নিজের আচরণের সঙ্গে নিজের নৈতিক বিশ্বাসের দ্বন্দ্ব মেটাতে মানুষ প্রায়ই এমন যৌক্তিকতার আশ্রয় নেয়।

চতুর্থত, ক্ষমতার ভারসাম্য বদলের এক ধরনের সাময়িক মানসিক তৃপ্তিও এখানে থাকে। আমলাতান্ত্রিক ব্যবস্থার সামনে নিজেকে অসহায় ভাবা কিছু মানুষ সুযোগ পেলে কর্মকর্তাকে অপমান করে ক্ষণস্থায়ী ক্ষমতার অনুভূতি লাভ করতে চায়। কিন্তু এ ধরনের ক্যাথারসিস কোনো সমাধান নয়; বরং এটি ব্যক্তি ও সমাজ—উভয়ের মধ্যে আরও গভীর আগ্রাসন সৃষ্টি করে।

রাজনৈতিক উসকানির বিপদ

বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বাস্তবতায় মব সৃষ্টি করে চাপ প্রয়োগ, ভয় প্রদর্শন এবং তথাকথিত জনবিচারের প্রবণতা বিশেষভাবে উদ্বেগজনক। ইন্টারিম সরকারের সময় যে অস্থির ও উগ্র রাজনৈতিক সংস্কৃতির কিছু নমুনা দেখা গিয়েছিল, তার ধারাবাহিকতা নির্বাচিত সরকারের সময়েও কেউ কেউ বজায় রাখতে চায়—এ আশঙ্কা একেবারে অমূলক নয়।

প্রতিটি গণতান্ত্রিক পরিবর্তনের পর একটি গোষ্ঠী অস্থিতিশীলতা থেকে রাজনৈতিক সুবিধা নিতে চায়। তারা জানে, প্রশাসন দুর্বল হলে, আইন প্রয়োগে দ্বিধা দেখা দিলে এবং জনপরিসরে আতঙ্ক তৈরি হলে রাষ্ট্রের স্বাভাবিক গতিপথ ব্যাহত হয়। এই সুযোগেই তারা ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চায়।

কোনো রাজনৈতিক দল বা নেতৃত্ব যদি মব আচরণে জড়িত ব্যক্তিদের সমর্থন করে, কিংবা তাদের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপকে ‘প্রতিবাদ দমন’ হিসেবে উপস্থাপন করে, তবে তা আরও বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত স্থাপন করে। আইনভঙ্গকারীর পরিচয়, দল বা মতাদর্শ নয়—তার আচরণই রাষ্ট্রের বিবেচ্য হওয়া উচিত। একইভাবে, সরকারি দলের অপরিপক্ব, দায়িত্বজ্ঞানহীন বা উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডও বিরোধী শক্তির অস্থিতিশীলতার পরিকল্পনাকে সহজ করে দিতে পারে। ক্ষমতাসীনদের দায়িত্ব তাই আরও বেশি সংযমী, বিচক্ষণ ও জবাবদিহিমূলক হওয়া।

বর্তমান নির্বাচিত সরকারকে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা, নাগরিক নিরাপত্তা এবং আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এমপি জাতীর নেতৃত্বের দায়িত্বে রয়েছেন—জনগণের গভীর আস্থা ও ভালোবাসা নিয়ে।

এই ঐতিহাসিক মুহূর্তে সুশাসন ও আইনভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় তাঁর দৃঢ় নেতৃত্ব, ন্যায়নিষ্ঠা এবং দেশপ্রেমিক চেতনা আমাদের জন্য প্রেরণার উৎস। আমরা বিশ্বাস করি, তাঁর হাত ধরেই বাংলাদেশ পাবে একটি শান্তিপূর্ণ, ন্যায়ভিত্তিক ও উন্নয়নশীল ভবিষ্যত—যেখানে প্রতিটি নাগরিক পাবে নিরাপত্তা, সম্মান ও সমান অধিকার।

রাষ্ট্রের করণীয়

মব সংস্কৃতি প্রতিরোধে কেবল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তাৎক্ষণিক তৎপরতা যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন কার্যকর জবাবদিহি, দৃশ্যমান প্রতিকারব্যবস্থা এবং রাজনৈতিক-সামাজিক নেতৃত্বের নৈতিক অবস্থান। এ ক্ষেত্রে কয়েকটি পদক্ষেপ জরুরি।

আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগ: সরকারি কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতা, কর্মী বা সাধারণ নাগরিক—পরিচয় নির্বিশেষে হুমকি, হামলা, জনসমক্ষে অপমান এবং মব উসকানির বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। শাস্তি নির্বাচনী বা দলীয় বিবেচনায় নয়; অপরাধের প্রমাণ ও আইনের ভিত্তিতে নিশ্চিত করতে হবে।

দ্রুত অভিযোগ প্রতিকারব্যবস্থা: প্রশাসনিক দুর্নীতি, হয়রানি ও সেবাবঞ্চনার অভিযোগ গ্রহণ, অনুসন্ধান ও নিষ্পত্তির জন্য কার্যকর ডিজিটাল অভিযোগ প্রতিকার ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। অভিযোগকারীর নিরাপত্তা এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উত্তর দেওয়ার বাধ্যবাধকতা নিশ্চিত করা জরুরি।

স্বাধীন তদন্ত ও জবাবদিহি: গুরুতর অভিযোগের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষ তদন্ত কাঠামো, প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল এবং শক্তিশালী লোকপাল ব্যবস্থা কার্যকর করা প্রয়োজন। নাগরিক যখন দেখবেন যে অভিযোগের ন্যায়সঙ্গত বিচার হয়, তখন মবের কাছে যাওয়ার সামাজিক প্রণোদনা কমবে।

উগ্রতার বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা: উগ্র আচরণকে ‘প্রতিবাদ’ বা ‘রাজনৈতিক আবেগ’ বলে লঘু করা যাবে না। গণমাধ্যম, রাজনৈতিক সংগঠন ও সামাজিক নেতৃত্বকে পরিষ্কারভাবে বলতে হবে—প্রতিবাদ বৈধ, কিন্তু হুমকি ও অপমান বৈধ নয়।

রাজনৈতিক নেতৃত্বের নৈতিক দৃষ্টান্ত: আলবার্ট বান্দুরার সামাজিক শিক্ষণ তত্ত্ব অনুসারে মানুষ নেতাদের আচরণ দেখে শেখে। অতএব রাজনৈতিক নেতা, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, ধর্মীয় ও সামাজিক ব্যক্তিত্বদের ভাষা ও আচরণে সংযম, শালীনতা এবং আইনি প্রক্রিয়ার প্রতি আস্থা প্রদর্শন করতে হবে।

অহিংস যোগাযোগের চর্চা: শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, পেশাজীবী সংগঠন ও সরকারি প্রশিক্ষণ কাঠামোয় সংঘাত ব্যবস্থাপনা, নাগরিক শিষ্টাচার এবং অহিংস যোগাযোগের প্রশিক্ষণ অন্তর্ভুক্ত করা উচিত। ক্ষোভকে ভাষায়, তথ্য-প্রমাণে ও সাংবিধানিক উপায়ে প্রকাশ করার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে।

নাগরিক মর্যাদা রক্ষার অঙ্গীকার

রাষ্ট্রের প্রতি নাগরিকের প্রশ্ন থাকবে, প্রতিবাদ থাকবে, সমালোচনা থাকবে—এগুলোই গণতন্ত্রের প্রাণ। কিন্তু সেই প্রশ্ন যদি গালিগালাজে পরিণত হয়, প্রতিবাদ যদি হুমকিতে পর্যবসিত হয় এবং জনমত যদি মবের অস্ত্রে পরিণত হয়, তবে গণতন্ত্র তার নৈতিক শক্তি হারায়।

অন্যায় প্রতিরোধের নামে আরেক অন্যায়কে গ্রহণ করা যায় না। দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে হবে, তবে আইন ভেঙে নয়; প্রশাসনিক জবাবদিহি চাইতে হবে, তবে কর্মকর্তার ব্যক্তিগত মর্যাদা ধ্বংস করে নয়; রাষ্ট্রকে শক্তিশালী করতে হবে, কিন্তু ভয় ও উন্মত্ততার মাধ্যমে নয়।

বাংলাদেশের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো—প্রতিবাদের অধিকার ও আইনের শাসনের মধ্যে একটি সুস্থ ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করা। রাষ্ট্রকে হতে হবে চৌকস, সুকৌশলী, ন্যায়নিষ্ঠ এবং সাহসী। জনগণের দেওয়া রাজনৈতিক আস্থার প্রকৃত প্রতিদান হবে এমন একটি বাংলাদেশ নির্মাণ, যেখানে অপরাধী শাস্তি পাবে, নিরপরাধ নিরাপদ থাকবে, প্রশাসন জবাবদিহির মধ্যে থাকবে এবং কোনো মবই রাষ্ট্রের আইনকে জিম্মি করতে পারবে না।

লেখক: উপাচার্য, দারু সালাম বিশ্ববিদ্যালয়, সোমালিয়া; অপরাধবিজ্ঞান, সুশাসন ও মানবাধিকার বিশেষজ্ঞ

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পূর্ব বিরোধের জেরে গুলাগুলি, আহত ২
উখিয়ার করবনিয়ায় খাল পুনঃখনন কাজ শুরু
সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সুখবর
গাড়ি চালানোর খরচ বাড়ল