দলের প্রতি অনুগত হলে তিনি আমার পক্ষে থাকবেন: আইভী
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাওয়ার পরও সেলিনা হায়াৎ আইভী তার দলের সব পর্যায়ের সমর্থন পাবেন কি না- সে নিয়ে সংশয় রয়েই গেছে। রাজধানী লাগোয়া এই জনপদে আইভীর সঙ্গে প্রভাবশালী আরেক আওয়ামী লীগ নেতা শামীম ওসমানের দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্ব কারণেই এই সংশয়, সন্দেহের কারণ। তবে আইভী বলছেন, শামীম ওসমান আওয়ামী লীগের প্রতি অনুগত থাকলে এখন তার পক্ষেও ভোটের ময়দানে নামবেন।
সকালে নারায়ণগঞ্জে সাংবাদিকদের সঙ্গে মত বিনিময়ে আইভী এই কথা বলেন। মহানগর আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে দলীয় মনোনয়নের জন্য যে তিন জনের নাম প্রস্তাব করা হয়েছিল তাতে বর্তমান মেয়রের নাম ছিল না। তবে শুক্রবার রাতে তাকেই প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত করে আওয়ামী লীগ। আইভী এর আগে অভিযোগ করেছিলেন, শামীম ওসমানের নির্দেশনাতেই দলের একাংশের নেতারা তাকে বাদ দিয়ে তিন জনের নাম কেন্দ্রে পাঠিয়েছেন।
মনোনয়ন পাওয়ার পরও একই অভিযোগ করেন আইভী। বলেন, ‘গত ১৫ নভেম্বরের মহানগর আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভা থেকে হয়তো কোন অদৃশ্য শক্তির ইশারায় আমার নার প্রস্তাব করা হয়নি। কিন্তু আমি তো মনোনয়ন বোর্ডের কাছে মনোনয়ন চেয়ে আবেদন করেছি। সার্বিক বিবেচনায় মনোনয়ন বোর্ড আমাকে মনোয়ন দিয়েছে। তৃণমুলে এ নিয়ে কোন সমস্যা হবে না। কারণ তৃণমূলের বেশিরভাগ নেতা কর্মী আমার সঙ্গে আছে।’
দলের মধ্যে এই বিভক্তি থাকলে ভোটে তার কোনো প্রভাব পড়বে কি না-জানতে চাইলে আইভী বলেন, ‘আওয়ামী লীগে কোন পক্ষ নেই। পক্ষ একটি বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ। লোকালি আমাদের নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা আছে। সে কারণে কম বেশি দ্বন্দ্ব-বিভেদ থাকতে পারে। তবে আমি মনে করি, এক সঙ্গে সবাই মিলেমিশে কাজ করবে।’মনোনয়ন পেয়ে যাওয়ায় পুরনো দ্বন্দ্ব আর তেমন কাজে আসবে না বলে আশাবাদী আইভী। বলেন, ‘নির্বাচন শুরু হলে তার আগে অনেক কিছু হয়, অনেক কিছু ঘটে। কিন্তু যখন দল সিদ্ধান্ত দেয়, সেই সিদ্ধান্ত সবাই মেনে নেয়।’
আসন্ন সিটি নির্বাচনে শামীম ওসমানের ভূমিকা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে আইভী বলেন, ‘আমি কীভাবে বলবো ওনার ভূমিকা কী হবে। এই প্রশ্নের জবাব ওনাকেই জিজ্ঞেস করুন। তবে আমি মনে করি উনি যদি দলের অনুগত কর্মী হন, তবে নিশ্চই দলের নির্দেশ মেনে চলবেন।’
প্রধানমন্ত্রী আইভীকে মনোনয়ন দেওয়ার পর কারও নাম উল্লেখ না করে বলেছেন, প্রতিদ্বন্দ্বীদের কাছেও যেতে হবে। এখন শামীম ওসমানের বাড়িতে যাবেন কি না- এমন প্রশ্ন করলে আইভী বলেন, ‘প্রয়োজন মনে হলে যেতে পারি। উনি আমার ভোটার। আমি যদি দল মত নিবিশেষে বাড়ি বাড়ি ভোট চাইতে যেতে পারি, তাহলে তার বাড়িতে নয় কেন?’।
মেয়র পদে মনোনয়ন প্রত্যাশী মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেনের সমর্থন মিলবে কি না-জানতে চান সাংবাদিকরা। জবাবে আইভী বলেন, ‘তিনি ২০১১ সালের নির্বাচনের আমার প্রধান সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। উনি আমার শ্রদ্বেয় একজন মানুষ। আমি তাকে কাকা বলে সম্বোধন করি। আমি মনে করি আনোয়ার কাকা একজন খাঁটি আওয়ামী লীগার, উনি আমার সাথে কাজ করবেন। অন্যরা যারা কাজ করতে চান, তাদেরও স্বাগত জানাই।’
২০১১ সালে সিটি করপোরেশনের প্রথম নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সমর্থন পাননি আইভী। তখন দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে নির্বাচন করেন তিনি এবং নিজ দল সমর্থিত প্রার্থী শামীম ওসমানকে বিপুল ভোটে হারিয়ে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রথম মেয়র হন আইভী। এবার দলের মনোনয়ন না পেলে ভোট করবেন না বলে ঘোষণা দিয়েছিলেন আইভী।
তবে নৌকার মাঝি হিসেবে এই নারী নেতৃকেই নির্বাচিত করেছে আওয়ামী লীগ। আইভী বলেন, ‘আমাকে মনোনয়ন দিয়ে বঙ্গবন্ধুর কন্য শেখ হাসিনা নারায়ণগঞ্জবাসীর আখাঙ্খা পূরণ করেছেন।’
মেয়র হিসেবে নিজের পাঁচ বছরের ভ’মিকার মূল্যায়ন করতে বলা হলে আইভী বলেন, ‘আমি সিটি করপোরেশনকে দলবাজির ঊর্ধ্বে রেখে কাজ করেছি।’
ঢাকাটাইমস/১৯নভেম্বর/প্রতিনিধি/ডব্লিউবি