পুঁজিবাজারে নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকে বৈঠক

ননলিস্টেড কোম্পানির শেয়ার বিনিয়োগসীমা থেকে বাদ যাবে

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ০৯ মে ২০১৯, ২১:৩৩

পুঁজিবাজারে স্থিতিশীলতা ফেরাতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কোনো বিধিবিধানের কারণে বাজারের তারল্যপ্রবাহ ব্যাহত হয়ে থাকলে সেগুলো সংশোধনের প্রস্তাবও বিবেচনা করবে তারা। পুঁজিবাজারে তারল্য বাড়াতে ননলিস্টেড কোম্পানির শেয়ার বিনিয়োগসীমা থেকে (এক্সপোজার) বাদ দেওয়া হবে।

আজ বৃহস্পতিবার পুঁজিবাজার-সংশ্লিষ্ট সরকারি কয়েকটি সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের এক বৈঠকে এই আশ্বাস দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। আগামী সাত দিনের মধ্যে এ বিষয়ে কিছু দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যেতে পারে বলে জানানো হয়েছে।

বৈঠকে গভর্নর ফজলে কবির, বিএসইসি চেয়ারম্যান ড. এম. খায়রুল হোসেন, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব মো. আসাদুল ইসলাম, ডেপুটি গভর্নর এস এম মনিরুজ্জামান, আইসিবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) কাজী ছানাউল হক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

জানা গেছে, ব্যাংক ও নন ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর এক্সপোজার গণনায় ননলিস্টেড ফান্ডে বা কোম্পানিতে বিনিয়োগ এক্সপোজারের বাইরে রাখার দাবি জানায় নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। বিষয়টি সমাধানে ইতিবাচক সায় দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

বৈঠক শেষে এস এম মনিরুজ্জামান বলেন, ননলিস্টেড কোম্পানির (অ-তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠান) যে শেয়ার ব্যাংক ও সাবসিডিয়ারি কোম্পানিগুলোর কাছে রয়েছে; তা শেয়ারবাজারে ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগসীমা (এক্সপোজার) হিসেবে গণ্য হয়। আলোচনায় এসেছে এটি স্টক এক্সচেঞ্জে ট্রেড হয় না। কারণ এটি ননলিস্টেড। এটি ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগসীমা (এক্সপোজার) থেকে বাদ দেয়ার জন্য বলা হয়। গভর্নর বিষয়টি পজেটিভভাবে বিবেচনা করবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন।

ননলিস্টেড কোম্পানির শেয়ার এক্সপোজার থেকে বাদ দিলে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ বাড়বে কি না জানতে চাইলে ডেপুটি গভর্নর বলেন, ব্যাংকগুলোর কাছে ননলিস্টেড অনেক কোম্পানির শেয়ার আছে, এ কারণে নতুন করে বাজারে বিনিয়োগ করতে পারছে না। এটি বাদ দেয়া হলে বিনিয়োগ সীমা বাড়বে। অর্থাৎ শেয়ারবাজারে ব্যাংকগুলো বিনিয়োগ বাড়াতে পারবে।

তিনি বলেন, রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান আইসিবি মূলধন বাড়ানোর জন্য বন্ড ছেড়েছে। এটি ব্যাংকগুলোই কিনবে। এটি এক্সপোজার লিমিটের মধ্যে আসবে না। আর এ বন্ড ব্যাংকগুলোই কিনবে। ব্যাংকগুলো বন্ড কিনলে ওই টাকা আইসিবি শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করতে পারবে। ২০০ কোটি টাকা বন্ডের অফার রয়েছে। নতুন বিনিয়োগ প্রসঙ্গে ডেপুটি গভর্নর বলেন, শেয়ারবাজারে ৯০০ কোটি টাকা ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের জন্য দেয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে আরো সাড়ে ৮০০ টাকা আছে। ওই টাকাও দ্রুত পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ বিষয়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে। সেই কমিটি সিদ্ধান্ত নেবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক অনুমোদন দেবে।

এদিকে পুঁজিবাজার উন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রী। গত জানুয়ারি মাসের শেষভাগে পুঁজিবাজারে টানা দরপতন শুরু হয়। এপ্রিলের মাঝামাঝি বিক্ষুব্ধ বিনিয়োগকারীদের একাংশ বিক্ষোভ, মিছিল, পথসভা ও অনশনসহ নানা কর্মসূচি শুরু করে। একপর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করেন। তিনি নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির শীর্ষ কর্মকর্তাদের ডেকে পাঠান। তাদের বেশ কিছু নির্দেশনা দেন। এ ছাড়াও তিনি এনবিআর চেয়ারম্যান ও গভর্নরকে বাজার স্থিতিশীল করার ব্যাপারে সহযোগিতা করার নির্দেশ দেন। এর আগে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালও বিএসইসির কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। আর বিএসইসি তো বেশ কিছুদিন ধরে প্রায় নিয়মিত স্টেকোহল্ডারদের সঙ্গে বৈঠক করে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে আসছিল। তবে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের পর সবার তৎপরতা বেড়ে যায়।

সম্প্রতি সংসদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, পুঁজিবাজার নিয়ে খুব বেশি শঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। বাজার স্থিতিশীল করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে।

অপর দিকে পুঁজিবাজার নিয়ে ভয়ের কোনো কারণ নেই এমন মন্তব্য করে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, দেশের অর্থনীতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে পুঁজিবাজারের উন্নয়ন করা হবে। এর পর থেকেই সংশ্লিষ্টরা নড়েচড়ে বসেন। চলছে একর পর এক বৈঠক। পুঁজিবাজার উন্নয়নে নেয়া হচ্ছে নানা উদ্যোগ।

(ঢাকাটাইমস/৯মে/মোআ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

অর্থনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :