বিজ্ঞানের আলোকে সিয়াম সাধনা

ফারহানা কবীর ইমা
 | প্রকাশিত : ১২ মে ২০১৯, ১০:০০

প্রতিটি ধর্মে কোনো না কোনোভাবে সিয়াম সাধনা বা উপবাসের বর্ণনা করা হয়েছে। ক্ষুধার যন্ত্রণা ও তৃষ্ণার কষ্টের কথা সব ধর্মগ্রন্থে যেমন বলা হয়েছে তেমনি ক্ষুধা ও তৃষ্ণা দ্বারা উপলব্ধি তৈরি হয়ে যায় যে, যারা প্রতিদিন ক্ষুধা ও তৃষ্ণাকে মোকাবেলা করছেন তাদের জীবন কতটা যন্ত্রণাময়। এই উপলব্ধির ভেতর দিয়ে আপনার অন্তরে যারা ক্ষুধা ও তৃষ্ণায় কষ্টে আছেন তাদের প্রতি আপনার সহানুভূতি তৈরি হবে। এটা তৈরি করে দিবে সিয়াম সাধনা।

ইসলাম ধর্ম পবিত্র কোরআনুল কারীমে সিয়াম সাধনার কথা বলা হয়েছে। আমরা যেটাকে রোজা বলি মূলত এটি ফারসি শব্দ। পরম করুণাময় অনুগ্রহ করে আমাদের অফুরন্ত সম্পদ দান করেছেন যেটা আমরা নিয়মিত ভোগ করছি। ভোগ করতে গিয়ে কখনো কখনো সীমা লঙ্ঘন করে ফেলছি। কিন্তু রমজানের একটি মাস কীভাবে নিজের শরীরকে সুস্থ রাখা যায়, পরিচ্ছন্ন রাখা যায় সেটা সিয়াম সাধনার মাধ্যমে উপলব্ধি করা সম্ভব। অন্য কোনোভাবে এটাকে উপলব্ধি করার সুযোগ নেই।

অন্যান্য ধর্মে উপবাস করার কথা বলা হয়েছে, যদিও এটা পালন করা হয় আলাদা আলাদা নিয়মে। সবার লক্ষ্য একটা, ক্ষুধা ও তৃষ্ণার যন্ত্রণা কতটা কষ্টকর হতে পারে সেটা উপলব্ধি করা ও পরবর্তী সময়ে যারা ক্ষুধা ও তৃষ্ণায় জর্জরিত তাদের পাশে দাঁড়ানো। মহান আল্লাহ সুস্থ মানুষের জন্য সিয়াম সাধনা বা রোজা ফরজ করেছেন, রমজান মাসের রোজার প্রস্তুতি সুস্থ থাকার জন্য সহায়ক।

এখন কিছু বিজ্ঞানময় আলোচনার মাধ্যমে আমরা জানতে পারব যে, রোজা আমাদের সুস্থ থাকার জন্য কতটা প্রয়োজন। আমরা প্রতিদিন যা খাচ্ছি তার ৫% লিভারে ও ২% মাসলে শর্করা যুক্ত খাদ্য জমা হচ্ছে। এটা প্রভিডেন্ট ফান্ডের অটো জমা হওয়ার সিস্টেম। সাধারণত আমাদের ৪-৫ ঘণ্টা পর পর খাওয়া হয়। কখনো যদি বিপদে পরে না খাওয়ার অবস্থায় পড়ে যায়, তখন স্টরেজ ভেঙে শক্তি প্রদান করে তাকে বাঁচিয়ে রাখে। সচরাচর খাবার ডিপফ্রিজে আমরা রেখে দেই, যা বিপদে কাজে আসবে চিন্তা করে কিন্তু বিপদে পড়া নয়, প্রতিদিনই নতুন করে খাবার কিনে সংরক্ষণ করছি। একসময় ডিপফ্রিজের তলায় মেয়াদোত্তীর্ণ খাবারের প্যাকেট পড়ে থাকে এবং দীর্ঘদিন পড়ে থাকায় তাতে পচন ধরে যা আপনি হয়তো দেখতে পাচ্ছেন না। কিন্তু আপনার শরীরে যে ১১ মাস প্রতিদিন ৫% লিভারে ও ২% মাসলে খাবার সংরক্ষণ করছেন তা কি আপনি পরিষ্কার করার কথা কখনো চিন্তা করেছেন?

রোজার মাধ্যমে মহান আল্লাহপাক মানব দেহকে কি করে পরিচ্ছন্ন রাখা যায় তার জন্যই আমাদের সিয়াম সাধনা উপহার দিয়েছেন। রোজার মাধ্যমে মহান আল্লাহ তায়ালা মানবদেহকে পরিশোধিত করে শরীরের জমাকৃত চর্বি শরীর থেকে বের করে ফ্যাটি লিভার, অতিরিক্ত খারাপ কোলেস্টেরল, হৃদরোগ, অধিক ওজন, ডায়াবেটিস, ক্যানসারের মতো মহামারি ব্যাধি থেকে রক্ষা করেন। রমজান মাসে নির্দিষ্ট সময় খাবারের একটি শিক্ষাও আমরা পেয়েছি।

রমজান মাসে অতিরিক্ত ভাজাপোড়া খাবার হতে বিরত থেকে এর পরিবর্তে বিশুদ্ধ পানি, খেজুর, ফল, ফলের শরবত, দই, চিঁড়া দ্বারা ইফতারি খাওয়া যেতে পারে। আবার সেহরির সময় অতিরিক্ত মশলাযুক্ত খাবার পরিহার করতে হবে। সম্ভব হলে সেহরির সময় দুধ, ডিম ও ভাতের সঙ্গে ছোট মাছ রাখতে পারেন। এর ফলে রমজান মাসে আপনি সুস্থ থাকবেন। শারীরিকভাবে দুর্বলতাবোধ করবেন না। বিশেষ করে গরমের সময় প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের হবেন না। রমজান মাসে আপনি সুস্থ থাকুন, পরিপূর্ণভাবে রোজাকে উপভোগ করুন।

ফারহানা কবীর ইমা: পুষ্টিবিদ, ইবনে সিনা হাসপাতাল

 

 

সংবাদটি শেয়ার করুন

মতামত বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :