জমির মালিককে ‘হত্যার হুমকি’ স্ট্যামফোর্ডের

সিরাজুম সালেকীন, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ১৬ জুলাই ২০১৯, ০৮:৪১

স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটির সিদ্ধেশ্বরী ক্যাম্পাসের জমির ভাড়া নিয়ে বিরোধের জেরে জমির মালিকপক্ষকে বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ারম্যান ফাতিনাজ ফিরোজ হত্যার হুমকি দিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে গত ৪ জুলাই রাজধানীর রমনা থানায় জিডি করেছেন ওই জমির মালিকপক্ষের অশোক কুমার গুপ্তা। জিডি নং-২৫৬।

অশোক গুপ্তা বাংলাদেশ ট্রেডিং করপোরেশন-বিটিসির স্বত্বাধিকারী। এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেই স্টামফোর্ডের ভাড়ার চুক্তি হয়। বিটিসির পাওনা সাড়ে চার কোটি টাকা। এই টাকা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে চলছে বিরোধ। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ শুরুর দিকে টাকা দিলেও দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে টাকা দিচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে।

জিডিতে বলা হয়েছে, স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি দীর্ঘদিন ধরে আমাদের কাছ থেকে জমি নিয়ে ক্যাম্পাস তৈরি করে ব্যবহার করছে। কিন্তু গত চার বছর ভাড়া ঠিকমতো দিচ্ছে না। এই বিষয়ে আদালতের আশ্রয় নেওয়া হয়। ২০ এপ্রিল তিনি (ফাতিনাজ ফিরোজ) আমাকে বাসায় ডাকেন ভাড়ার সমস্যা সমাধানে। সেখানে গেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের দুই সদস্যের সামনে আমাকে পৃথিবী থেকে ‘সরিয়ে’ দেওয়ার হুমকি দেন। বলেন- ‘একজন লোক পৃথিবী থেকে সরে গেলে যদি আমাদের সমস্যার সমাধান হয় তাহলে তাই করব।’ আলটিমেটাম দেন, পত্রিকায় তাদের প্রতিষ্ঠানের নামে খবর প্রকাশ বন্ধ এবং চেক বাউন্সিং মামলা প্রত্যাহার করার; না হলে তিনি পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেবেন। এই ঘটনার পর ৫১ সিদ্ধেশ্বরী কমপ্লেক্স এলাকায় বহিরাগত লোকের আনাগোনা দেখা যাচ্ছে।

যার কাছ থেকে জমিটি ইজারা নেওয়া হয়েছিল, সেই অশোক গুপ্তা পড়াশোনা করেছেন রাশিয়াতে। তিনি কাজ করেন সে দেশের সরকারের সঙ্গে। তিনি বলছেন, এই জমিটি রুশ সরকারের কাছ থেকে তিনি ২০০২ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত ইজারা নিয়েছেন। আর ২০০৩ সালে তিনি প্রতি বছর নির্দিষ্ট পরিমাণ ভাড়া পরিশোধের শর্তে ব্যবহার করতে দেন স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটিকে। তাদের সঙ্গেও চুক্তি নবায়ন করা হয় ২০১৬ সালে। এর মেয়াদ ২০২২ সাল পর্যন্ত।

অশোক গুপ্তা ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘ওই ভদ্র মহিলা (স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটির চেয়ারম্যান) আমাকে দেখে নেবার হুমকি দিয়েছেন। বর্তমানে আমি জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত। এর আগেও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়াত চেয়ারম্যান হান্নান ফিরোজ বর্তমান উপমন্ত্রী এনামুল হক শামীমকে গুলি করে হত্যার চেষ্টা করেছিলেন। সেসময় অল্পের জন্য তিনি প্রাণে বেঁচে যান। সেখানে আমি তো নগণ্য।’

তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন সময় ভাড়ার সাড়ে চার কোটি টাকার জন্য ১৯টি চেক দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেগুলোতে পর্যাপ্ত টাকা ছিল না। প্রতিটি চেক ডিজঅনার হলে আমরা আদালতে মামলা করি। এ যাবত আদালতে বিশ্ববিদ্যালয়টির চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ১৯টি চেক জালিয়াতির মামলা করা হয়েছে। সেই সংখ্যা এখন বেড়েছে।’

অশোক গুপ্তা বলেন, ‘সাধারণ শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে আমরা ক্যাম্পাসটি উচ্ছেদ করিনি। কিন্তু তারা প্রতিনিয়ত ভাড়ার টাকা দিতে সময় নিচ্ছে। অথচ আমাদের রাশিয়ার কাছে ভাড়া পরিশোধ করতে হচ্ছে। এতে মোটা অংকের টাকা লোকসান দেখা দিয়েছে।’

রমনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী মাইনুল ইসলাম ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘আমরা একজন সাব ইন্সপেক্টর (এসআই) দিয়ে জিডির বিষয়ে তদন্ত করছি।’

হুমকির বিষয়ে জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ারম্যান ফাতিনাজ ফিরোজের মোবাইলে ফোন দেওয়া হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেনি।

তবে এর আগে তিনি জানিয়েছিলেন, ‘চেকের মাধ্যমে টাকা পরিশোধ করা হয়েছে।’ যদিও সেগুলোর প্রমাণ চাইলে সেটা দেখাতে নারাজ ছিলেন তিনি।

ঢাকাটাইমস/১৬এপ্রিল/এসএস/এমআর

সংবাদটি শেয়ার করুন

বিশেষ প্রতিবেদন বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :