কাঁচা চামড়া রপ্তানি ‘সহজ নয়’

জহির রায়হান
 | প্রকাশিত : ১৬ আগস্ট ২০১৯, ১৩:৩৮

চামড়ার দর বাড়াতে সরকার প্রথমবারের মতো কাঁচা চামড়া রপ্তানির সুযোগ দিলেও এটি সহজ প্রক্রিয়া নয় বলে জানাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। এর কারণ, রপ্তানি চেইন না থাকা। ফলে বিদেশি ক্রেতা খুঁজে পাওয়া আর চামড়া পাঠাতে যে অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা দরকার, সেটা না থাকা।
তবে এই সিদ্ধান্ত বলবৎ থাকলে এর সুফল আগামী কোরবানির ঈদে মিলবে বলে আশাবাদী ব্যবসায়ীরা। 

এবার কোরবানির পশুর চামড়ার অস্বাভাবিক দরপতনের পর সরকার বিদেশে কাঁচা চামড়া রপ্তানির সুযোগ করে দিয়েছে। তবে এই ঘোষণাতেও চামড়ার দর বেড়েছে- এমন তথ্য মিলছে না। 

ট্যানারি মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদ ঢাকা টাইমসকে বলেছেন কাঁচা চামড়া রপ্তানির জটিলতা। তিনি বলেন, ‘বিষয়টি এত সহজ না। এটা অনেক কঠিন একটা বিষয়।’

‘কাঁচা চামড়া রপ্তানি করতে হলে যে ধরনের লজিস্টিক সাপোর্ট লাগবে, তা নেই। শুধু অনুমতি দিলেও তো রপ্তানি করা যায় না। চামড়া নেওয়ার জন্য নির্দিষ্ট কন্টেইনার থাকতে হবে। রপ্তানির বাজার তৈরি করতে হবে। এলসি করতে হবে। আরও অনেক কিছু লাগবে। এসব করতে বেশ কিছুদিন সময় লেগে যাবে। অর্থাৎ এই মুহূর্তে কাঁচা চামড়া রপ্তানি করার সুযোগ নেই।’

এবার ঈদের আগে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে চামড়ার দর ঠিক করে দেওয়া হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ঢাকায় প্রতি বর্গফুট গরুর কাঁচা চামড়া ৪৫ থেকে ৫০ টাকা এবং ঢাকার বাইরে ৩৫ থেকে ৪০ টাকায় কেনার কথা। আর খাসির কাঁচা চামড়া সারাদেশে ১৮-২০ এবং বকরির চামড়া ১৩-১৫ টাকা দরে কেনাবেচা হওয়ার কথা। 

কিন্তু এবার সেটা হয়নি। মৌসুমি ব্যবসায়ীরা অস্বাভাবিক কম দামে কিনেছেন চামড়া। বড় গরুর চামড়া তারা ৬০০ থেকে ৮০০ টাকায়, আর ছোট গরুর চামড়া ২০০ থেকে ২৫০ টাকায় কিনেছেন। আবার তারাও আড়তে এতে শুনেছেন আরো কম দাম। এক থেকে দেড়শ টাকা দাম শুনে আশাহত, ক্ষুব্ধ হয়েছেন। লোকসানের কারণে চামড়া ফেলে দেওয়ার বা পুঁতে ফেলার ঘটনাও ঘটছে। এই পরিস্থিতিতে সরকার কাঁচা চামড়া রপ্তানির সুযোগ করে দেয়। যদিও এর পরের দ্ইু দিনেও চামড়ার পাইকারি দর বেড়েছে, এমনটা দেখা যায়নি।

ট্যানারি মালিকদের সংগঠন ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের নেতা শাহীন আহমেদ বলেন, ‘আমাদের সঙ্গে আলোচনা করে সরকার যদি দুই তিন মাস আগে কাঁচা চামড়া রপ্তানির সিদ্ধান্ত নিতে পারত, তাহলে গরিব-মিসকিন, এতিম ও দুস্থরা ঠকত না।’

পাইকারি ব্যবসায়ী ও আড়তদাররাও শাহীন আহমেদের এই বক্তব্যের সঙ্গে একমত। কাঁচা চামড়া আড়তদারদের সংগঠন বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড স্কিন মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘কাঁচা চামড়া রপ্তানি এর আগে কখনও হয়নি। বিষয়টি নতুন। এ কারণে সময় লেগে যাবে। তবে চামড়া রপ্তানির সুযোগ থাকলে আগামী বছরগুলোতে এর ইতিবাচক ফল পাওয়া যাবে। দুই-তিন মাস আগে যদি সিদ্ধান্ত হতো তাহলে সম্ভব ছিল।’

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক টিপু সুলতান ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘এবার না হলেও আগামীবার এর সুফল মিলবে। কাঁচা চামড়া রপ্তনির সুযোগ সৃষ্টি হলে কোরবানিদাতারা চামড়ার ন্যায্যমূল্য পাবেন। আড়তদারদের ট্যানারি মালিকদের দিকে চেয়ে থাকতে হবে না। টাকার সমস্যাও থাকবে না।’  

এই ব্যবসায়ী নেতা জানান, বহু বছরের বকেয়া জমতে জমতে ট্যানারি মালিকদের কাছে তাদের পাওনা হয়েছে ৩০০ কোটি টাকা। বকেয়া টাকা না পাওয়ায় অনেকেই চামড়া কিনতে পারেননি। এটাও বাজারে চামড়ার দাম পড়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ।

গবেষণা সংস্থা বিআইডিএস সিনিয়র রিসার্চ ফেলো নাজনীন আহমেদ ঢাকা টাইমসকে বলেন,  ‘তাই চামড়া রপ্তানির সিদ্ধান্তকে আমি যৌক্তিক মনে করি। তবে এখানে আরো কিছু করার আছে। কোরবানির চামড়া সংগ্রহে এলাকাভিত্তিক ইজারা দিতে পারে সরকার। এতে চামড়া কেনায় শৃঙ্খলা আসবে।’ 
আগামীকাল শনিবার থেকে সরকার নির্ধারিত দামে কাঁচা চামড়া কেনার ঘোষণা দিয়েছে ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশন। তারা সরকার নির্ধারিত দামে চামড়া কিনবে। ফলে দাম বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। 

ঢাকাটাইমস/১৬আগস্ট/ জেআর/ ডব্লিউবি

সংবাদটি শেয়ার করুন

জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :