সঞ্চয়পত্রে উৎসে কর

পাঁচ লাখের সঞ্চয়েও ১০ শতাংশ কাটছে সদরঘাট শাখা

বোরহান উদ্দিন, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১২:০৩

সঞ্চয়পত্রে পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত উৎসে কর পাঁচ শতাংশ কর্তন হবে বলে প্রজ্ঞাপন জারি হয় ২৬ দিন আগে। তবে সরকারি এই সিদ্ধান্তের বালাই নেই সঞ্চয় অধিদপ্তরের ঢাকা সদরঘাট শাখায়। এখনও ১০ শতাংশ হারে উৎসে কর কেটে নিচ্ছে শাখাটি।

তবে সঞ্চয় অধিদপ্তর অন্য শাখাগুলি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত পাঁচ শতাংশই উৎস কর কাটছে। আর অল্পস্বল্প বিনিয়োগের টাকা থেকে এভাবে বাড়তি কর কর্তনের ফলে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন মধ্যবিত্তরা।

এখনও দশ শতাংশ কর কেটে রাখা নিয়ে সদরঘাট শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত দেখিয়েছেন অদ্ভূত যুক্তি। সদরঘাট শাখায় সফটওয়্যারের আপডেট না হওয়ায় আগের নিয়মেই কাটা হচ্ছে। কেটে নেয়া বাড়তি টাকা গ্রাহকের ফেরত নেয়ার সুযোগও নেই। শাখাটির দায়িত্বে থাকা রুমানা নামের এক কর্মকর্তা এ বিষয়ে তারাও সমস্যায় পড়ছেন বলে দাবি করেন। এ নিয়ে প্রতিনিয়ত গ্রাহকদের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হচ্ছে বলে তার ভাষ্য।

তবে তার বক্তব্য হালকা হয়ে যায় সঞ্চয় অধিদপ্তরের ঢাকা বিভাগ, চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও বরিশাল বিভাগের উপ-পরিচালকের কথায়। তারা বলছেন, এমনটি হওয়ার কোনও সুযোগ নেই। প্রজ্ঞাপন জারির পরই নতুন নিয়মে উৎসে কর কাটার কথা। সব শাখাতে সে মাফিকই কাটা হচ্ছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে সঞ্চয় অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘হয়ত ই-সেভিংস সফটওয়ার সদরঘাট শাখার কর্মকর্তারা আপডেট করেননি। এটা শাখাটির কর্মকর্তাদের অলসতা। এর দায় কোনোভাবেই অধিদপ্তরকে দেয়া যাবে না। এই দায় তাদের।’

চট্টগ্রামের বিভাগীয় কার্যালয়ের উপ-পরিচালক শাহানারা বেগম ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘আমরা যেদিন ৫ শতাংশ হারে নেয়ার প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে তারপর থেকেই এটা কার্যকর করেছি। সফটওয়ারও আপডেট করে নিয়েছি। যদি কেউ আপডেট না করে সেটা সেই শাখার ব্যর্থতা।’

বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. এনায়েত হোসেন ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘যখন ১০ শতাংশ নেয়ার নির্দেশনা ছিল তখন সেটা কার্যকর করেছি। আর যখন ৫ শতাংশ নেয়ার কথা বলা হয়েছে তখন থেকেই কার্যকর করেছি।’

প্রজ্ঞাপন জারির একমাস পরও কিভাবে সফটওয়ার আপডেট হয় না সেটি বোধগম্য নয় বলে অভিমত এই কর্মকর্তার।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নতুন করে সঞ্চয়পত্র কেনার জন্য গ্রাহকের টিআইএন নম্বর থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। যা আগে ছিল না। যে কারণে আগের গ্রাহকদের কাজকর্ম ই-সেভিংস সফটওয়ারের মাধ্যমে করা হয়। টিআইএন নম্বরসহ নতুন সঞ্চয়পত্র যারা কিনছেন তাদের পুরো কার্যক্রমই অনলাইনে হচ্ছে।

গতকাল সরেজমিনে এই প্রতিবেদক দেখেন, সদরঘাট শাখায় আসা গ্রাহকরা বাড়তি টাকা দিচ্ছেন। এতে অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। কারণ বাড়তি টাকা ফেরত পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

গ্রাহকরা বলছেন, সদরঘাট শাখার থেকে তাদের বলা হচ্ছে সফটওয়ার আপডেট না হওয়া পর্যন্ত ১০ শতাংশ করেই কাটা হবে। অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে ঠিক হয়ে গেলে ৫ শতাংশ হারে টাকা কাটা হবে।

লাকি আক্তার নামের এক গ্রাহক ক্ষোভ প্রকাশ করে ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘একসঙ্গে ছয়মাসের লভ্যাংশ তুলতে এসে দেখলাম সফটওয়ার আপডেট না থাকার অজুহাতে মাসিক ৯১২ টাকার জায়গায় ৮৬৪ টাকা করে দেয়ায় প্রায় তিনশ টাকা কম দেয়া হলো। কার কাছে প্রতিকার চাইবো?।’

কুমিল্লা থেকে আসা এক নারীও বাড়তি টাকা কাটায় ক্ষোভ জানিয়ে বলেন, ‘মেয়াদ শেষ হওয়ায় সঞ্চয়পত্র ভেঙে ফেললাম। কিন্তু আমার কাছ থেকে ১০ শতাংশ কাটা কেটে রেখেছে।’


অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের যুগ্ম-সচিব (সঞ্চয় ও স্ট্যাম্প) মো. নূরুজ্জামান ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘গত ২৮ আগস্ট পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত পাঁচ শতাংশ উৎসে কর নেয়ার প্রজ্ঞাপন জারি হয়েছে। এরপর থেকেই সেটা কার্যকর হয়েছে। কিন্তু আগের নিয়মে টাকা কাটার সুযোগ নেই।’

এ বিষয়ে এ প্রতিবেদকের কাছে প্রথম শুনেছেন জানিয়ে এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান অর্থ মন্ত্রণালয়ের এই কর্মকর্তা।

গত ১ জুলাই থেকে সব ধরনের সঞ্চয়পত্রের মুনাফার ওপরই উৎসে কর ১০ শতাংশ আরোপ করার সিদ্ধান্ত হয়। সমালোচনার মুখে ২৯ জুলাই অর্থমন্ত্রী পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগের মুনাফার ওপর উৎসে কর আগের মত ৫ শতাংশ করা হবে বলে জানান।

অর্থমন্ত্রীর ওই ঘোষণার এক মাস পর ২৮ আগস্ট গেজেট প্রকাশ করে বলা হয়, সঞ্চয়পত্রে পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগের মুনাফার ওপর উৎসে কর ৫ শতাংশ নির্ধারিত হলো। জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের নিজস্ব ওয়েবসাইটে প্রকাশের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সব শাখায় পাঠানো হয় এই নির্দেশনা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্ণর সালেহউদ্দিন আহমেদ এ বিষয়ে ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘একটি শাখার  লোকজনের অলসতায় এমনটা হওয়া অন্যায়। আর এমনটা হলে সফটওয়ার আপডেট না হওয়া পর্যন্ত দশ শতাংশ কাটা বন্ধ রাখতে পারে তারা। পরে সমন্বয় করে নিতে পারে। কিন্তু নির্দেশনার পরও বাড়তি টাকা নেয়া অযৌক্তিক, কারণ গ্রাহক তার প্রাপ্য টাকাটা আর ফেরত পাচ্ছেন না।’

ঢাকা বিভাগীয় উপ-পরিচালক মো. শহিদুল ইসলাম বাড়তি টাকা কাটার বিষয়টি শুনে অনেকটা বিস্ময় প্রকাশ করেন। এ প্রতিবেদককে তিনি বলেন, ‘সফটওয়ার আপডেট হয়েছে, অবশ্যই। আর কেন এই অজুহাতে বাড়তি টাকা নেয়া হচ্ছে সেটা আমি খোঁজ নিচ্ছি। এটা দুঃখজনক।’

ঢাকাটাইমস/২৩সেপ্টেম্বর/বিইউ/ডিএম

সংবাদটি শেয়ার করুন

বিশেষ প্রতিবেদন বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :