ভোগান্তি যত খুচরা ক্রেতার

নজরুল ইসলাম, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ০৪ নভেম্বর ২০১৯, ২২:২৭
ফাইল ছবি

পেঁয়াজের দামে অস্থিরতা কমছেই না। দাম বাড়তে বাড়তে প্রতি কেজিতে দেড় শতকের ঘর পেরিয়েছে নিত্যপণ্যটি। মন্ত্রণালয়ের মনিটরিংয়ের মধ্যেও অসাধু পাইকারদের একচেটিয়া মুনাফা বাণিজ্যে পকেট কাটা পড়ছে ক্রেতার। দাম স্বাভাবিক হতে আরও অন্তত ১৫ থেকে ২০ দিন লাগবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী।

আর রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) ট্রাকসেলে যে পেঁয়াজ বিক্রি করছে জোগান স্বল্পতায় সেটিও কিনতে বিফল হচ্ছেন অগণিত ক্রেতা। দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও পাচ্ছেন না পেঁয়াজ। ডিলাররা বলছেন চাহিদার তুলনায় টিসিবির বরাদ্দ কম। এ অবস্থায় পেঁয়াজ কিনতে যত ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে খুচরা ক্রেতাদের।

সোমবার সচিবালয়ে ক্রেতাদের নতুন করে কোনো সুখবর দিতে পারেননি বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। নিজ দপ্তরে অস্ট্রেলিয়ান হাইকমিশনার জুলিয়া নিবলেটের সঙ্গে সাক্ষাতের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন মন্ত্রী। পেঁয়াজের বাজারদর স্বাভাবিক হতে আরও ১৫ থেকে ২০ দিন সময় লাগবে বলে জানান।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের কাছে যে রিপোর্ট এসেছে তাতে প্রতি কেজিতে ১০ টাকা কমেছে। মন্ত্রণালয় থেকে চট্টগ্রামে একটা টিম গেছে। একজন উপ-সচিবকে সেখানে পাঠানো হয়েছে। খাতুনগঞ্জে গিয়ে তারা বাজার মনিটরিং করছেন। সবদিক দিয়েই আমরা দেখছি।’

মন্ত্রীর ভাষ্য মতে, পেঁয়াজ রপ্তানিতে ভারত নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি প্রত্যাহার না করা আর দেশে চাষের পেঁয়াজ না ওঠা পর্যন্ত বাজার একটু চড়াই থাকবে। তবে আগামী সপ্তাহে আমদানির বড় লট দেশে পৌঁছলেও দাম কমে আসবে।

এদিকে পেঁয়াজের বাজারদর নিয়ন্ত্রণে রাখতে মাসখানেকের বেশি সময় ট্রাকসেলে পেঁয়াজ বিক্রি করছে টিসিবি। কিন্তু চাহিদার তুলনায় পেঁয়াজের পরিমাণ কম থাকায় প্রতিদিন দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও কিনতে পারছেন না সাধারণ ক্রেতারা।

রাজধানীর খামারবাড়ি এলাকায় সোমবার পেঁয়াজ বিক্রি চলছিল টিসিবির গাড়িতে। বাজারে দাম বেশি হওয়ায় এখানে অনেকে আসেন পেঁয়াজ কিনতে। হঠাৎ করে ট্রাকসেলার জানিয়ে দিলেন পেঁয়াজ শেষ।

ক্রেতাদের অভিযোগ, প্রতিদিন ঘটছে একই ঘটনা। আর ট্রাকসেলাররা বলছেন, প্রতিদিন গড়ে যে পরিমাণ ক্রেতা পেঁয়াজ নিতে আসেন সেই চাহিদা মেটাবার সক্ষমতা তাদের নেই। লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা ক্রেতাদের পেঁয়াজ দিতে না পেরে তারাও কষ্ট পাচ্ছেন।

খামারবাড়ি ট্রাকসেলে পেঁয়াজ না পেয়ে আতিক রহমান নামের এক ক্রেতা ক্ষুব্ধ হয়ে ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘এক ঘণ্টার বেশি লাইনে দাঁড়িয়ে আছি পেঁয়াজের জন্য, অথচ পেলাম না। টিসিবি পেঁয়াজ যথাযথ পরিবেশন করছে না বলেই অনেকে কষ্ট করেও পেঁয়াজ পাচ্ছে না।’

বাজারে যেখানে এক কেজি পেঁয়াজের দাম ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা, সেখানে টিসিবি এক কেজি পেঁয়াজ বিক্রি করছে ৪৫ টাকায়। এ কারণে টিসিবির পেঁয়াজ কিনতে ভিড়ও হচ্ছে বেশি। গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে ট্রাকসেলে পেঁয়াজ বিক্রি শুরু করে টিসিবি। দেশের বিভাগীয় শহরগুলোতে সবমিলিয়ে ৩৫টির মতো ট্রাকসেলে পেঁয়াজ বিক্রি করছে সংস্থাটির ডিলাররা।

টিসিবি ডিলারস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি জুয়েল আহমেদ ঢাকা টাইমসকে জানান, ঢাকায় ১৫টি ট্রাকসেলের সঙ্গে আরও ২০টি যোগ করা হলে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা সবাই পেঁয়াজ নিতে পারতেন।

জুয়েল আহমেদ বলেন, ‘আমরা দৈনিক এক টন করে পেঁয়াজ পাচ্ছি। কিন্তু আমাদের গাড়িগুলো পয়েন্টে যাওয়ার আগে প্রতিদিন গড়ে ২০০ থেকে ৩০০ লোক দাঁড়িয়ে থাকে। আমাদের পক্ষে এত লোকের চাহিদা মেটানো সম্ভব হচ্ছে না।’

তবে টিসিবি থেকে যা পাচ্ছেন সেটাকে কম বলতে রাজি নন টিসিবি ডিলারস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি। একইসঙ্গে তিনি এও বলছেন, ‘তবে বরাদ্দের পরিমাণটা আরেকটু বাড়ালে ভালো হতো। আমরা চাচ্ছি আরও বরাদ্দ বাড়ানো হোক। টিসিবিকে সবসময় এটা বলে আসছি।’

এদিকে রাজধানীর হাতিরপুল, কারওয়ানবাজার, তেজগাঁও বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম রাখা হচ্ছে ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা। আবার কিছু বাজারে এর চেয়েও বেশি দাম রাখা হচ্ছে। আর নিরুপায় ক্রেতা বেশি দামে নিত্যপণ্যটি কিনতে বাধ্য হচ্ছেন।

গত ৩০ অক্টোবর বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানায়, পেঁয়াজের দাম নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। বাজারে প্রচুর পেঁয়াজ রয়েছে। দেশে প্রতিদিন ছয় হাজার টন পেঁয়াজের চাহিদা রয়েছে বলে ট্যারিফ কমিশনের তথ্যে জানা যায়।

পেয়াজ ব্যবসায়ীদের সূত্রে জানা যায়, প্রায় তিন লাখ টন পেঁয়াজ বর্তমানে চাষি ও পাইকারি ব্যবসায়ীদের কাছে মজুদ রয়েছে। এই পরিমাণ পেঁয়াজ দিয়ে অন্তত দুই মাস চাহিদা মেটানো সম্ভব। কিন্তু এরপরও পেঁয়াজের দাম নিয়ে অস্থিরতা কেন ক্রেতাদের এ প্রশ্নের সদুত্তর নেই ব্যবসায়ীদের কাছে।

(ঢাকাটাইমস/০৪নভেম্বর/ডিএম/জেবি)

 

 

 

 

সংবাদটি শেয়ার করুন

অর্থনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :