পেঁয়াজের ধাক্কা হোটেল-রেস্তোরাঁয়

কাজী রফিক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ১৭ নভেম্বর ২০১৯, ০৯:১৯ | প্রকাশিত : ১৭ নভেম্বর ২০১৯, ০৯:০৩
ফাইল ছবি

পেঁয়াজের অতি মূল্যবৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি বিপাকে পড়েছে হোটেল-রেস্তোরাঁগুলো। বিশেষ কিছু নামি রেস্তোরাঁ ছাড়া আর সব হোটেল-রেস্তোরাঁ তাদের খাবার ও পণ্যে পেঁয়াজের ব্যবহার কমিয়েছে অর্ধেকের বেশি। আর নামী ও অভিজাত রেস্তোরাঁগুলো নিজেদের ক্রেতা ধরে রাখার জন্য লাভ কম করে মান বজায় রাখছেন।

পেঁয়াজ ব্যবহৃত হয় এমন প্যাটিসের মতো বেকারি পণ্য কেউ কেউ আপাতত বন্ধ রেখেছেন। পেঁয়াজের দাম কমলে আবার তৈরি করবেন।

গতকাল রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে হোটেল-রেস্তোরাঁ ও বেকারিতে খোজ নিয়ে এসব তথ্য জানা গেছে।

গত সেপ্টেম্বরে ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দেওয়ার পর থেকে মাস দুয়েক ধরে ক্রমাগত বাড়ছে পেঁয়াজের দাম। গতকাল দেশের বিভিন্ন স্থানে ২৫০ থেকে ২৭০ টাকা কেজি বিক্রি হয় পেঁয়াজ।

কয়েক মাস আগেও দেশে ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছিল পেঁয়াজ। টিসিবির তথ্য অনুযায়ী, দেশে বছরে ১৭ থেকে ১৯ লাখ টন পেঁয়াজ উৎপাদন হয়। আর দেশের চাহিদা পূরণে আরও ৭ থেকে ১১ লাখ টন পেঁয়াজ আমদানি করা হয়। আমদানি করা পেঁয়াজের ৯৫ শতাংশ আসে ভারত থেকে। বাকিটা মিয়ানমার, মিসর, তুরস্ক থেকে।

দেশে পেঁয়াজের একটা উল্লেখযোগ্য অংশ ব্যবহৃত হয় হোটেল-রেস্তোরাঁগুলোতে। খিলক্ষেতের একটি বিপুল চলতি দোকানে (সংগত কারণে নাম প্রকাশ করা হলো না) প্রতিদিন ২৫ কেজি পেঁয়াজ প্রয়োজন হয়। এখন তারা ব্যবহার করেন ১০ থেকে ১২ কেজি। তারপরও ২ হাজার টাকার বেশি ভর্তৃকি যাচ্ছে পেঁয়াজে। কিন্তু খাবারের মূল্য বাড়ানো হয়নি।  নিত্যপণ্যটির হুট করে এমন মূল্যবৃদ্ধিতে এ রকম কম-বেশি বিপাকে পড়েছেন হোটেল ব্যবসায়ীরা।

একাধিক রেস্তোরাঁর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নিজেদের সুনাম অক্ষুণ্ন রাখতে বাড়তি দামে পেঁয়াজ কিনেও আগের দামেই খাবার বিক্রি করছেন তারা। আবার খাবারে পেঁয়াজের পরিমাণ কমিয়ে স্বাদে ভিন্নতা এনে ক্রেতা হারাতে রাজি নন তারা।

বিরিয়ানিতে পেঁয়াজের ব্যবহার অনেক। এ ছাড়া মাছ বা মাংস রান্না করতে পেঁয়াজের জুড়ি নেই। এমন অনেক পদের খাবারে ভিন্নস্বাদের জন্য অনেক ভোজনবিলাসী ছোটেন  ‘সুলতান ডাইন’-এ। রেস্তোরাঁটির ধানমন্ডি শাখার ব্যবস্থাপক রাজু আহমেদ ঢাকা টাইমসকে জানান, তাদের খাবারে পেঁয়াজের ব্যবহার কমেনি। এমনকি পেঁয়াজের দাম বাড়ার কারণে খাবারের দামও বাড়ানো হয়নি।

তিনি বলেন, ‘দাম বাড়লেও আমাদের কিছু করার নেই। পেঁয়াজ ছাড়া বা কম পেঁয়াজে খাবার রান্না করা সম্ভব নয় আমাদের। কেননা আমাদের একটা সুনাম রয়েছে। সেটি অক্ষুণœœ রাখতে লোকসান গুনতে হলেও আমাদের কিছু করার নেই। আমরা খাবারের দামও বাড়াতে পারছি না।’

একই সমস্যায় ভুগছে কম দামে ভালো মানের বিরিয়ানির সংস্থান হিসেবে পরিচিত ‘মুঘল ইম্পেয়ার’। প্রতিষ্ঠানটির মোহাম্মদপুর শাখার ব্যবস্থাপক মো. নুরুজ্জামান ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘পেঁয়াজের দাম বেশি, বাসমতি চালের দাম বেশি। ফলে আমরা একরকম লোকসান গুনছি। কিন্তু এত কিছুর পরেও খাবারের দাম বাড়াইনি। ২১০ টাকার কাচ্চি ২১০ টাকাতেই বিক্রি করছি।’

দাম বাড়ায় পেঁয়াজের ব্যবহার কমেছে ছোট হোটেল-রেস্তোরাঁয়

মাত্রাতিরিক্ত দাম বাড়ার কারণে পেঁয়াজের ব্যবহার কমাতে বাধ্য হয়েছেন অনেক খাবার ব্যবসায়ী। খাবার হোটেলগুলোর বেশির ভাগই খাবার রান্নায় পেঁয়াজ ব্যবহার করছেন আগের চাইতে অনেক কম।

নিউ মার্কেট এলাকার খাবারের দোকানির সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারা রান্নার ক্ষেত্রে পেঁয়াজের ব্যবহার অর্ধেকের নিচে নামিয়ে এনেছেন। কেউ কেউ কমিয়েছেন আরও কম।

মোহাম্মদপুর বাসস্টান্ডের খাবারের হোটেলগুলোতে নানা পদের ভর্তায় পেঁয়াজের আধিক্য দেখা যেত। কিন্তু শনিবার সরেজমিনে গিয়ে ওই চিত্র পাওয়া যায়নি।

মনিরুল ইসলাম নামের এক ক্রেতা ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘এখানে তিন বেলা ভর্তা পাওয়া যায়। তাই প্রায়ই খেতে আসি। দুই দিন ধরে ভর্তার টেস্ট আগের মতো নাই। পেঁয়াজ কম দেয়। কিন্তু তাদের কী বলব!  পেঁয়াজের দামের বিষয়টা তো সবাই জানে।’

বিক্রেতারা জানান, পেঁয়াজের ব্যবহার একেবারে বন্ধ করে দেয়ার সুযোগ নেই। কম করে হলেও ব্যবহার করতে হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে ক্রেতাদের কেউ কেউ বিষয়টি সহজভাবে নিলেও অনেকেই খাবারের মান খারাপ হয়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় দেখা গেছে পেঁয়াজ ছাড়া সিঙাড়া বিক্রির চিত্র। পাবলিক লাইব্রেরির সামনে সিঙাড়া বিক্রির দোকানে সিঙাড়া তৈরিতে যে পেঁয়াজ ব্যবহার করা হয়নি, তা ক্রেতাদের এড়িয়ে যেতে পারেনি। তা অকপটে স্বীকারও করেন বিক্রেতা।

একই চিত্র শাহবাগ, কাঁটাবন, নিউমার্কেট, জিগাতলা এলাকার খাবার হোটেলগুলোতে। সেখানে খাবারের সঙ্গে কাঁচা পেঁয়াজ দেয়ার চিত্র চোখে পড়েনি। গ্রাহককেও চাইতে দেখা যায়নি।

বেকারিতে তৈরি ১০ টাকা দামের প্যাটিসের ভেতর দেয়া হয় পেঁয়াজ দিয়ে তৈরি এক ধরনের মশলা, যা প্যাটিসের স্বাদ বাড়িয়ে দেয়। গত দুই দিন ধরে প্রতিটি প্যাটিসে আড়াই টাকা করে লোকসান গুনতে হচ্ছে বলে দাবি করেছেন বেকারি হকাররা। ফলে পেঁয়াজের দাম কমার আগ পর্যন্ত প্যাটিস বিক্রি বন্ধ থাকবে বলে তারা জানান।

ধানমন্ডি এলাকার বেকারি হকার শাহ আলম ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘দৈনিক যে পরিমাণ প্যাটিস লাগে, কদিন আগে তার অনেক কম পাইছি। কারখানায় বানাইছেই কম। কাল থেকে পেঁয়াজের দাম না কমা পর্যন্ত প্যাটিস বন্ধ।’

একই তথ্য জানান, আদাবর এলাকার আরেক হকার মিন্টু মিয়া। ঢাকা টাইমসকে তিনি বলেন, ‘প্রতি পিছে কারখানার আড়াই টাকা লস। দাম বাড়াইলে দোকানদারের একশটা প্রশ্ন। তাই কাল থেকে প্যাটিস বন্ধ থাকবে। পেঁয়াজের দাম কমলে আবার বানাইব, আবার দিমু।’

(ঢাকাটাইমস/১৭নভেম্বর/মোআ)’

সংবাদটি শেয়ার করুন

বিশেষ প্রতিবেদন বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :