বিতর্কিত নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল লোকসভায় পাস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ১০ ডিসেম্বর ২০১৯, ০৯:০০ | প্রকাশিত : ১০ ডিসেম্বর ২০১৯, ০৮:৫৮

তুমুল বিতর্কের মধ্যে ভারতের পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ লোকসভায় পাস হয়েছে বহুল আলোচিত নাগরিকত্ব বিল।

কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার ছাড়পত্র পাওয়ার পর নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল গতকাল সোমবার লোকসভায় উঠলে তা নিয়ে প্রবল আপত্তি জানান মুসলমান পার্লামেন্ট সদস্য ও বিরোধীরা। শীতকালীন অধিবেশনের এই পর্বে তীব্র বিতর্কে সরগরম হয়ে ওঠে ভারতীয় পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ।

শেষে ভোটাভুটির মাধ্যমে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে বিলটি পাস হয় বলে জানিয়েছে ভারতের গণমাধ্যম। বিলটির পক্ষে ভোট পড়ে ৩১১টি। আর বিপক্ষে ভোট দেন ৮০ জন।

এই আইন সংশোধনের ফলে বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান থেকে শরণার্থী হিসেবে যাওয়া অমুসলিমদের ভারতের নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

সোমবার দুপুরে লোকসভায় এই বিল পেশ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বিলটি পেশের সঙ্গে সঙ্গেই তা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়।

১৯৫৫ সালের নাগরিকত্ব আইন সংশোধনে বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান থেকে গিয়ে ভারতে শরণার্থী হওয়া হিন্দু, খ্রিস্টান, শিখ, জৈন, বৌদ্ধ ও পার্সি সম্প্রদায়ের শরণার্থীদের ভারতীয় নাগরিকত্ব দেওয়ার কথা বলা রয়েছে বিলে। নাগরিকত্ব আইনে বলা ছিল, অন্তত ১১ বছর ভারতে থাকলে তবেই কোনো ব্যক্তিকে নাগরিকত্ব দেওয়া হবে। নতুন বিলে ওই সময় কমিয়ে পাঁচ বছর করা হয়েছে। তবে তাতে বাইরে থেকে আসা মুসলিমদের কথা বলা হয়নি।

এতেই আপত্তি তোলেন বিরোধীরা। কেন্দ্রীয় সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে বেছে বেছে অমুসলিম অনুপ্রবেশকারীদের নাগরিকত্ব দিচ্ছে বলে অভিযোগ তোলে তারা।

অল ইন্ডিয়া মজলিসে ইত্তেহাদুল মুসলিমিনের নেতা আসাদুদ্দিন ওয়াইসি বিলের উপর আলোচনায় বলেন, এর মধ্য দিয়ে ভারতের জনগণের মধ্যে বিভক্তি আনা হচ্ছে।

তিনি বলেন, এই বিল ভারতের মুসলমানদের রাষ্ট্রহীন করার একটি চক্রান্তই শুধু নয়, এটা জাতীয় নিরাপত্তার জন্যও বড় হুমকি হিসেবে কাজ করবে।

বিলটির একাধিক অংশ নিয়ে আপত্তি তোলেন লোকসভায় কংগ্রেসের দলনেতা অধীর চৌধুরী।

বিলটি সংখ্যালঘুদের স্বার্থবিরোধী বলে আখ্যা দিয়ে অধীর বলেন, ‘আমাদের দেশের সংখ্যালঘু মানুষদের লক্ষ্য করেই এই বিলটি তৈরি করা হয়েছে।’ অধীর অভিযোগ করে বলেন, ‘বিলটি সংবিধানের ১৪ নং অনুচ্ছেদ লঙ্ঘন করছে।’ ওই অনুচ্ছেদে দেশের প্রত্যেক নাগরিকের আইনের সমান অধিকারের কথা বলা হয়েছে।

বিলটিকে ‘অসাংবিধানিক’ এবং ‘বিভেদ সৃষ্টিকারী’ বলে আখ্যা দিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ সৌগত রায়। তবে অমিত শাহের দাবি, বিল সংখ্যালঘুদের বিরোধী নয়।

অমিত শাহ বলেন, ‘আফগানিস্তান, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের সংবিধানে রাষ্ট্রের ধর্মের উল্লেখ করা হয়েছে। ভারত ভাগের পর, ১৯৫০ সালে নেহরু-লিয়াকত সমঝোতার মাধ্যমে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু, দুর্ভাগ্যবশত তাদের উপর অত্যাচার হয়েছে।’ তার দাবি, তিন দেশেই হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পারসি, ও খ্রিস্টানদের উপর অত্যাচার হয়েছে। ওই তিন দেশের সংখ্যালঘুদের নাগরিকত্ব দেওয়ার জন্যই এই বিল, জানান কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

অমিত শাহ আরও বলেন, ‘কংগ্রেসই ধর্মের ভিত্তিতে দেশ বিভাজন করেছে। এটা ইতিহাস বলছে। আর এখন এটা কংগ্রেসকে শুনতে হবে।’ তাঁর এই মন্তব্যের পরই লোকসভায় তুমুল হট্টগোল শুরু হয়। দীর্ঘ বিতর্কের পর রাত সাড়ে ১২টায় বিলটি পাস হয়।

এদিকে বিলটি সংসদে উত্থাপনের পর পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী বলেন, ‘কেউ বাংলার মানুষকে ছুঁতে পারবে না। সিএবি বা এনআরসি কেউই নয়। আমি এখানে আছি।’

বিতর্কিত এই বিলটি নিয়ে ভারতীয় পার্লামেন্টের ভেতরে যেমন হইচই তহয়েছে, তেমনই বিলের প্রতিবাদে বিক্ষোভ চলছে বাইরেও। এ দিন বিল পেশের আগে দিল্লিতে বিক্ষোভ করেছে অল ইন্ডিয়া ইউনাইটেড ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্ট (এআইইউডিএফ)-এর এমপি বদরুদ্দিন আজমল। সিএবি নিয়ে ক্ষোভে ফুঁসছেন উত্তর-পূর্ব ভারতের একটি অংশের মানুষ। দিন বিলের প্রতিবাদে বিক্ষোভ দেখানো হয় ত্রিপুরাতেও।

উল্লেখ্য, ৪ ডিসেম্বর প্রস্তাবিত বিলটি ভারতের মন্ত্রিসভায় অনুমোদন পায়। ১১ ডিসেম্বর সরকার এই বিল রাজ্যসভায় উত্থাপন করতে পারে। বিলটি পাস হলে আফগানিস্তান, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ থেকে আসা হিন্দু, শিখ, জৈন, পার্সি, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী মানুষ, যারা ভারতে শরণার্থী হিসেবে রয়েছেন তাদের নাগরিকত্ব দেওয়া হবে। সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে ও আনন্দবাজার পত্রিকা।

ঢাকাটাইমস/১০ডিসেম্বর/এমআর

সংবাদটি শেয়ার করুন

আন্তর্জাতিক বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :