চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেই এগোতে হবে: আতিকুল

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ২৮ জানুয়ারি ২০২০, ১৪:২৬

চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করেই সামনে এগোতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা উত্তর সিটিতে আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়রপ্রার্থী আতিকুল ইসলাম।

মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবে সিনিয়র সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কাল তিনি এ কথা বলেন।

আতিকুল ইসলাম বলেন, আমরা সবাই চাই একটি সুন্দর, সুস্থ, সচল, গতিময় ও আধুনিক ঢাকা। আমাদের অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে, চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেই এগিয়ে যেতে হবে।

মতবিনিময় সভায় ডেঙ্গুর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেন আওয়ামী লীগের এই প্রার্থী। আতিকুল বলেন, ‘ডেঙ্গু কোন সিজনাল না, এটি একটি চলমান জিনিস। এটা নিয়ে সবসময়ই কাজ করতে হবে এবং পরিকল্পনা করতে হবে। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো আমাদের সিটি করপোরেশনের কীটতত্ত্ব বিভাগ বলতে, যারা কিনা মশা নিয়ে কাজ করবে, কোথায় প্রজননক্ষেত্র হয়, তাদের নিয়ে কিভাবে কাজ করবে এ ধরণের কীটতত্ত্ববিদ সিটি করপোরেশনে ছিলো না। কিন্তু এই নয় মাসে আমরা উপলব্ধি করেছি আমাদের কীটতত্ত্ব বিভাগ লাগবে, এছাড়া মশক নিধন সম্ভব না। সে ধরণের আইভিএম আমরা চালু করেছি।’

আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘মশা নিধনের কর্মীরা ওষুধ মেরে যাচ্ছে কিন্তু তাদের কোয়ালিটি কন্ট্রোল করার জন্য কেউ ছিলো না। এখন কোয়ালিটি ও চেকিং কিভাবে করবো সেটা আমরা চালু করেছি।’

তিনি বলেন, ‘রাস্তায় ঠিকাদার কাজ করে, তখন তাদের কোয়ালিটি কন্ট্রোল দেখে আমাদের লোকজন। এটি কোন সময় হতে পারে না। আমি বলেছি আমাদের রাস্তা যারা করবে তাদেরকেও অঘোষিত থার্ডপার্টির মাধ্যমে কোয়ালিটি কন্ট্রোলের মধ্যে নিয়ে আসবো।’

সিটি করপোরেশনে আগে জবাবদিহিতা ছিলো উল্লেখ করে আতিকুল বলেন, ‘একটি ছেলে, রশিদ নাম তার। আমি যখন বললাম অটোমেশনে যেতে হবে। আমাদের সিটির জনগণ আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে যান, ট্যাক্স কালেক্টরদের সামনাসামনি বসতে হয়। আমি তখন বললাম কেন সামনাসামনি বসতে হবে? সারাবিশ্বে যেখানে আমরা ঘরে বসেই অনলাইনের মাধ্যমে হোল্ডিং ট্যাক্স দিতে পারি, ট্রেড লাইসেন্স করতে পারি সেটা আমাদের দেশে কেন সম্ভব না। তখন অনেকই বললো এটা আমাদের দেশে সম্ভব না। যখন সে বললো সম্ভব না তখন মানুষটিকে আমার প্রশ্নবিদ্ধ লাগলো। যখন ওই ব্যক্তির সম্পর্কে খোঁজ নিতে গেলাম তখন শুনলাম সে একটি বড় রাজনৈতিক দলের ডোনার। তারপর যখন খাতাপত্র নিয়ে চেক করলাম, দেখলাম ঢাকা শহরে তার বড় বড় বাড়ি। সে কি করতো, সে ট্যাক্সদাতাদের টাকা সংগ্রহ করতো। যার মধ্যে ৫০ শতাংশ সরকারি কোষাগারে জমা রাখতো, বাকি ৫০ শতাংশ নিজের পকেটে নিতো। এদের জন্যই সিটি করপোরেশনের দুর্নাম।’

‘যখন আমি তাকে চাকরি খেতে গেলাম, তখন সবাই বললো স্যার ওর চাকরি খেতে পারবেন না। সে চালায় সবচেয়ে বড় সিন্ডিকেট। আমি তাদের বললাম প্রধানমন্ত্রী আমাকে বলেছেন আতিক তুমি কালো চশমা নিবা আর আমার ফোন নম্বর তুমি নাও। যেকোন সময়, যেকোন দুর্নীতির বিরুদ্ধে তুমি সোচ্চার হও। যখন আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে সাড়ে পাঁচটার সময় মেসেজ দিয়ে জানালাম, আমি একজনকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করবো, তখন তিনি ওয়েলডান লিখেন। রশিদ টাইপের লোকদের বাদ দিতে হলে আমাদের অটোমেশনে যেতে হবে। ফেস টু ফেস কন্ট্রাক্টের মাধ্যমে কেউ ট্যাক্স দিতে পারবে না। এটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছি। ছয় মাসের মধ্যেই পারবো। যতবেশি ফেস টু ফেস কমাতে পারবো, আমাদের ততবেশি দুর্নীতি কমে যাবে। কাজের গতি বাড়বে, রাজস্বও বাড়বে এবং হয়রানিও কমবে।’

আওয়ামী লীগের এই মেয়র প্রার্থী আরও বলেন, নৌকার গিয়ার একটাই সেটা হলো ফ্রন্টগিয়ার, ফ্রন্টগিয়ার মানেই উন্নয়নের গিয়ার। নৌকা দিয়েছে স্বাধীনতা, নৌকা দিয়েছে উন্নয়ন। নৌকা দেবে সুন্দর, সচল, আধুনিক ঢাকা। আগামী ১ ফেব্রুয়ারি যত বেশি মানুষ ভোট দিতে আসবে, নৌকার জয় তত বেশি হবে ইনশাআল্লাহ।

ঢাকাটাইমস/২৮জানুয়ারি/টিএ/এমআর

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :