৩১তম স্প্যানে দৃশ্যমান পদ্মা সেতুর ৪৬৫০ মিটার

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ১০ জুন ২০২০, ১৮:৩১

পদ্মা সেতুর ২৫ ও ২৬ নম্বর পিয়ারে বসানো হয়েছে ৩১তম স্প্যান ‘৫-এ’। বুধবার বিকাল ৪টা ২মিনিটে ১৫০মিটার দৈর্ঘ্যের স্প্যানটি পিয়ার দুটির উপর বসানোর কাজ সম্পূর্ণ হয়। এতে দৃশ্যমান হলো সেতুর চার হাজার ৬৫০ মিটার অর্থাৎ সাড়ে চার কিলোমিটারের বেশি অংশ।

৩০তম স্প্যান বসানোর ১০ দিনের মাথায় ৩১তম স্প্যানটি বসানো হলো। পদ্মা সেতুর নির্বাহী প্রকৗশলী (মূল সেতু) দেওয়ান আব্দুল কাদের ঢাকা টাইমসকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, বুধবার সকাল সাড়ে ৮টায় মাওয়া কুমারভোগ কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ড থেকে স্প্যানটি নিয়ে ভাসমান ক্রেন নির্ধারিত পিয়ারের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। দুপুর সাড়ে ১২টায় ক্রেনটি নির্দিষ্ট পিয়ার এলাকায় পৌঁছে। এরপর সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও নির্মাণ শ্রমিকদের প্রচেষ্টায় ধীরে ধীরে স্প্যানটি বসানো হয়। এতে সময় লাগে সাড়ে তিন ঘণ্টার মতো।

৩১তম স্প্যানটি স্থাপন হওয়ার আগ মুহূর্তে ড্রেজিং ও ওয়েল্ডিংসহ বেশ কিছু জটিলতার সৃষ্টি হয়। নদীর মূল চ্যানেল ও সেতুর জন্য নির্মিত চ্যানেলের পিয়ার ১৫-১৬ এর কাছে প্রবল স্রোত ও ডুবোচরে আটকে পড়ে। উক্ত স্থানটি পার হতে স্প্যানবাহী ক্রেনটিকে বেশ বেগ পেতে হয়।

পরবর্তীতে ওয়্যার ও অ্যাংকর কেবল স্থাপন করে এটিকে টেনে পিয়ার ২৫ ও ২৬ এর কাছে নেয়া হয়। উক্ত স্থানটি অতিক্রম করতে প্রায় দুই ঘণ্টা সময় লাগে। এটি জাজিরা প্রান্তের মূল সেতুর শেষ স্প্যান। এ স্প্যান স্থাপনের পর মূল সেতুর ১০টি স্প্যান স্থাপন করা বাকি।

দেওয়ান আব্দুল কাদের বলেন, সেতুর জন্য প্রয়োজন ৪১টি স্প্যান এর মধ্যে দুটি স্প্যান মাওয়া আসা বাকি আছে। আগামীকাল বিকাল ৪টায় উক্ত স্প্যানবাহী জাহাজ এমভি কং সিউ সং চট্রগ্রাম বন্দরের বহিঃনোঙরে পৌঁছাবে। চট্টগ্রাম বন্দরে প্রয়োজনীয় শুল্ক পরিশোধ ও কাস্টমস ক্লিয়ারেন্স শেষে খুব শিগগির স্প্যান দুটি মংলা হয়ে মাওয়া সাইটে পৌঁছবে।

প্রকৌশলী সূত্রে আরো জানা গেছে, মূল সেতুর ২৯১৭ টি রোডওয়ে স্ল্যাব এর মধ্যে ৬২৯টি (৯টি স্প্যান-১৩৫০ মি.) এবং ২৯৫৯টি রেলওয়ে স্ল্যাব এর মধ্যে ১১০৫টি স্থাপন করা হয়েছে। মাওয়া ও জাজিরা ভায়াডাক্টে ৪৮৪টি সুপার টি-গার্ডারের মধ্যে ১৫০টি স্থাপন করা হয়েছে। গত ৩০ মে পর্যন্ত মূল সেতুর অগ্রগতি ৮৭ দশমিক ৫০ শতাংশ, নদীশাসন কাজের অগ্রগতি ৭২ শতাংশ এবং সার্বিক অগ্রগতি ৭৯ দশমিক ৫০ শতাংশ।

এদিকে স্প্যান বসানো কার্যক্রমের জন্য এদিন পদ্মায় বেলা ১১টা থেকে শিমুলিয়া-কাঠালবাড়ী নৌরুটে সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ রয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে পদ্মাসেতুর নির্মাণ কাজ শুরু করা হয়। ২০১৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর ৩৭ ও ৩৮ নম্বর খুঁটিতে প্রথম স্প্যানটি বসানোর মধ্য দিয়ে দৃশ্যমান হয় পদ্মা সেতু। এরপর ধাপে ধাপে বসানো হয় ৩১টি স্প্যান। প্রতিটি স্পেনের দৈর্ঘ্য ১৫০ মিটার। ৪২টি পিলারের ওপর ৪১টি স্প্যান বসিয়ে ছয় দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ পদ্মাসেতু নির্মাণ করা হবে। এর মধ্যে সবকটি পিয়ার এরই মধ্যে দৃশ্যমান হয়েছে।

মূল সেতু নির্মাণের জন্য কাজ করছে চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি (এমবিইসি)। নদীশাসনের কাজ করছে দেশটির আরেকটি প্রতিষ্ঠান সিনো হাইড্রো করপোরেশন। দুটি সংযোগ সড়ক ও অবকাঠামো নির্মাণ করেছে বাংলাদেশের আবদুল মোমেন লিমিটেড।

ছয় দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এ বহুমুখী সেতুর মূল আকৃতি হবে দোতলা। কংক্রিট ও স্টিল দিয়ে নির্মিত হচ্ছে এ সেতুর কাঠামো। পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ হলে ২০২১ সালেই খুলে দেয়া হবে।

(ঢাকাটাইমস/১০জুন/কেএম)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :