করোনা ভ্যাকসিন মালিকানামুক্ত হলে গরিবরা পেতে পারে: ড. ইউনূস

চট্টগ্রাম ব্যুরো, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ০১ জুলাই ২০২০, ২১:১৩ | প্রকাশিত : ০১ জুলাই ২০২০, ২১:০৭

শান্তিতে নোবেলজয়ী বাংলাদেশি অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনুস বলেছেন, পোলিওর ভ্যাক্সিনের আবিষ্কারক যেভাবে এর মালিকানা ছেড়ে দিয়ে পৃথিবীকে পোলিওমুক্ত করেছেন, তেমনি মালিকানা থেকে মুক্ত করতে হবে করোনা ভ্যাক্সিনকে। তাহলে সবার কাছে লভ্য হয়ে উঠতে পারে করোনা ভ্যাকসিন।

আজ বুধবার বিকালে ‘পোস্ট করোনা রিকনস্ট্রাকশন প্রোগ্রাম: নো গোয়িং ব্যাক’ শীর্ষক এ ওয়েবিনারে এসব কথা বলেন তিনি।

নোবেলজয়ী বলেন, মালিকানা থাকলে তাতে পুঁজি ও লাভের হিসাব জড়িত থাকে। ফলে গরিবের পক্ষে করোনা ভ্যাক্সিন পাওয়া সম্ভব হবে না।

ড. ইউনুস বলেন, ‘করোনা পূর্ববর্তী পৃথিবীতে আমরা ফিরে যেতে চাই না। যে আত্মঘাতী পথে পৃথিবীকে আমরা পরিচালিত করেছিলাম, তাতে অচিরেই প্রাণের বিলুপ্তি হতো। আমরা বৈশ্বিক উষ্ণতা কমানোর কথা বলছিলাম দীর্ঘদিন ধরে। কিন্তু করোনা ভাইরাস এসে পৃথিবীর সেই আত্মঘাতী যাত্রাকে থামিয়ে দিল। বৈশ্বিক উষ্ণতা থেকে মুক্ত হয়ে উঠলো পৃথিবী। এ থেকে আমাদের বোধোদয় হওয়া প্রয়োজন।‘

নতুনভাবে নতুন এক পৃথিবীকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে মন্তব্য করে নোবেল বিজয়ী বলেন, ‘সেই নতুন পৃথিবীতে বাণিজ্যিক নীতি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ধরন- সবকিছুতে পরিবর্তন আনতে হবে। সেবানির্ভর ও মুনাফাহীন সামাজিক ব্যবসাকে প্রতিষ্ঠা করতে হবে’।

বক্তব্য শেষে ডঃ. ইউনূসকে র্শকরা বিভিন্ন প্রশ্ন করেন। করোনা পরবর্তী সময়ে ব্লেন্ডেড লার্নিং মেথড তথা ক্যাম্পাসের পাশাপাশি অনলাইন ক্লাসের বহুল প্রচলন হবে কি না, এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘কীভাবে পড়াব তা পরের বিষয়, প্রথমত ঠিক করতে হবে আমরা কী পড়াব। নিজেকে জানতে হবে। কেবল কেমিস্ট্রি, ফিজিক্স, বিজনেস, কম্পিউটার সম্পর্কে পড়ে লাভ নেই, যদি না আপনি নিজেকে জানেন। তাই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে দর্শন-সাহিত্য গুরুত্ব সহকারে পড়াতে হবে’।

আলোচনার শেষে তিনি বেশ কিছুক্ষণ চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় কথা বলেন। ইডিইউর প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান, সাবেক মন্ত্রী আবদুল্লাহ আল নোমান এবং বোর্ড অব ট্রাস্টির ভাইস-চেয়ারম্যান তাসমিন আরা নোমান তার শিক্ষার্থী ছিলেন। এ সময় ইডিইউকে ড. ইউনুস তার পরিবারের অংশ বলে আখ্যায়িত করেন।

ইডিইউ ওয়েবিনার সিরিজে ড. ইউনুসকে স্বাগত জানিয়ে বক্তব্য দেন ইডিইউর প্রতিষ্ঠাতা ভাইস চেয়ারম্যান সাঈদ আল নোমান। তিনি বলেন, ইডিইউ এশিয়ার গুটিকয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর একটি, যাদের কোভিড-১৯ এর কারণে একদিনও ক্লাস বন্ধ হয়নি। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের প্রথম দিন থেকেই পূর্বপ্রস্তুতি অনুসারে অনলাইনে ক্লাস নেয়া শুরু করি আমরা।

শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা যাতে নির্বিঘ্নে অনলাইন ক্লাস গ্রহণ করতে পারে, সে লক্ষ্যে প্রতি মাসে মাথাপিছু ৩০ জিবি মোবাইল ডাটা বান্ডেল উপহার হিসেবে দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

ইডিইউর উপাচার্য অধ্যাপক মু. সিকান্দার খান চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ড. ইউনুসের সহকর্মী ছিলেন এবং একই সঙ্গে বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। তিনি বলেন, ড. মুহাম্মদ ইউনুস তার জ্ঞান ও তত্ত্বে আমাদের সবসময়ই বিপদ থেকে মুক্তির পথ দেখিয়ে আসছেন। পৃথিবীকে বদলে দেয়ার, মানুষ ও মানবতার মুক্তির সুবর্ণ এক সুযোগ হয়ে এসেছে আজকের ‘নতুন স্বাভাবিকতা। আমাদের তার সদ্ব্যবহার করা উচিত’।

প্রভাষক রওনক আফরোজের সঞ্চালনায় ওয়েবিনারটি ইডিইউর অফিসিয়াল ফেসবুক, ইউটিউব ও লিংকডইন পেইজে সরাসরি সম্প্রচারিত হয় যা প্রায় বিশ হাজার দর্শক দেখেছেন। আগ্রহীরা যেকোন সময় ইডিইউর ফেসবুক পেইজে ওয়েবিনারটি দেখতে পারবেন।

(ঢাকাটাইমস/১জুলাই/মোআ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :