বাংলা একাডেমির বানান জটিলতা নিরসনের নোটিশেও ভুল!

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ১৪ জুলাই ২০২০, ২১:৫২

বেশ কিছু প্রচলিত শব্দের শুদ্ধ বানান নিয়ে সরগরম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। পক্ষে-বিপক্ষে চলছে নানা যুক্তি-পাল্টা যুক্তি। এরমধ্যেই বানান নিয়ে সৃষ্ট জটিলতা নিরসনে নোটিশ দিয়ে ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করল বাংলা একাডেমি নিজেই। কারণ তাদের দেয়া ছোট্ট নোটিশে একাধিক ভুল রয়েছে। যা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র সমালোচনা হচ্ছে।

মঙ্গলবার প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইটে এ সংক্রান্ত নোটিশ দেখা যায়। ১৩৪ শব্দের এই নোটিশে একাধিক ভুল রয়েছে। নোটিশে কোথাও ড্যাশ বা কমা দেয়ার ক্ষেত্রে ভুল রয়েছে। কোথাও যেখানে হাইফেন দেয়ার কথা না সেখানেও দেয়া হয়েছে হাইফেন। তবে এ নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির দায়িত্বশীল কারও সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

বাংলা একাডেমি নোটিশে লিখেছে- বানান-বিষয়ক চলমান বিতর্ক নিরসনে বাংলা একাডেমির ভাষ্য 'বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান' প্রথম প্রকাশিত হয় ১লা ফেব্রুয়ারি ২০১৬ সালে। প্রকাশের পর থেকেই একটি অভিধান পুরোনো হয়ে যায় এবং তখন থেকেই শুরু হয় এর পরিবর্ধন ও পরিমার্জনের কাজ। এরই ধারাবাহিকতায় অভিধানটির প্রথম পরিবর্ধিত ও পরিমার্জিত সংস্করণ প্রকাশিত হয় এপ্রিল ২০১৬ সালে। বর্তমানেও এ অভিধানটির সংস্করণের কাজ চলমান আছে। এ কাজ করতে গিয়ে বেশকিছু ভুলত্রুটি আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ-মাধ্যমে চলমান বানান বিতর্কে যে বিকল্প বানানের কথা বলা হচ্ছে তা ইতোমধ্যে 'আধুনিক বাংলা অভিধান'-এর পরিবর্ধিত ও পরিমার্জিত সংস্করণে সংযোজিত হয়েছে। এ ছাড়াও বহুল ব্যবহৃত শব্দের বিকল্প বানানও এ সংস্করণে যোগ করা হয়েছে। সেই সঙ্গে দৈনন্দিন ব্যবহারে থাকলেও এখন পর্যন্ত অভিধানে স্থান পায়নি এমন কিছু নতুন শব্দও সংযোজিত হয়েছে। 'আধুনিক বাংলা অভিধান'-এর এ সংস্করণটি অচিরেই বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত হবে এবং চলমান বানান-বিতর্কের অবসান ঘটবে- এমনটাই প্রত্যাশা।

ফেসবুকে বাংলা একাডেমির নোটিশটির ভুলের জায়গাগুলো চিহ্নিত করে পোস্ট করেন কবি ও প্রাবন্ধিক মোহাম্মদ নূরুল হক। পোস্টে তিনি লিখেন, ‘বাংলা একাডেমি’ (বাংলা অ্যাকাডেমি) বানান বিতর্ক নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব ওয়েবসাইটে ১৩৪ শব্দের একটি নোটিশ দিয়েছে। ওই নোটিশেই ১৭টি ভুল রয়েছে। যারা ১৩৪ শব্দের ছোট একটি নোটিশে ১৭টি ভুল করে, যারা জানে না, কোথায় ড্যাশ বা কমা দিতে হয়, কোথায় হাইফেন বা ও, কোথায় ভুল লিখতে হয়, কোথায় ত্রুটি, তাদের পক্ষে শুদ্ধ অভিধান উপহার দেওয়া সম্ভব? তিনি আরও লিখেছেন, অহেতুক অভিধান ‘পরিবর্ধন ও পরিমার্জনের’ আরও কিছু অর্থের শ্রাদ্ধ হবে। টাকা তো যাবে রাষ্ট্রের, জনগণের। তাতে তাদের কী?।

তার এই পোস্টের নিচে বিভিন্নজন নানা ধরনের মন্তব্য করছেন। কেউ কেউ যারা নোটিশটি লিখেছেন তাদের যোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন। কেউ আবার বলছেন, বানান শুদ্ধ করার নোটিশ দিয়ে গিয়ে তারা উদাসীনতার পরিচয় দিয়েছেন।

(ঢাকাটাইমস/১৪জুলাই/বিইউ/জেবি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

সাহিত্য বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :