৪ শতাংশ সুদে ঋণ বিতরণে মিল্ক ভিটার সঙ্গে রূপালী ব্যাংকের চুক্তি

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ২২ অক্টোবর ২০২০, ১৭:৫৫

প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত কৃষি-প্রণোদনার সুফল প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে পৌঁছে দেওয়া, করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত দুগ্ধ খামারিদের সহায়তার লক্ষ্যে ৪ শতাংশ হারে ঋণ বিতরণ, দেশকে দুগ্ধ ও দুগ্ধজাতপণ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণকরণ এবং যুবক ও যুব-মহিলাদের আত্ম-কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে মিল্ক ভিটা ও রূপালী ব্যাংক লিমিটেডের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। রূপালী ব্যাংকের চেয়ারম্যান মনজুর হোসেন, এমপি এবং মিল্ক ভিটার চেয়ারম্যান শেখ নাদির হোসেন লিপুর উপস্থিতিতে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মো. ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদ এবং মিল্ক ভিটার ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও যুগ্ম সচিব অমর চান বণিক নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। বৃহস্পতিবার রূপালী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের কনফারেন্স রুমে এই চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে মিল্ক ভিটার চেয়ারম্যান শেখ নাদির হোসেন লিপু বলেন, করোনা পরিস্থিতি শুরু হলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরাসরি নির্দেশে কৃষকদের কাছ থেকে দুধ সংগ্রহ করে গুড়া দুধ প্রস্তুত করেছে মিল্ক ভিটা। এসব গুড়া দুধ প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ত্রাণ মন্ত্রণালয় কিনে নিয়েছে। এর মাধ্যমে কৃষকরা এই দুর্যোগময় পরিস্থিতিতেও বেঁচে গেছে।

শেখ নাদির বলেন, করোনা মহামারি শুরু হলে রূপালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমাকে ফোন দিয়ে বলেন- আমরা আপনাদের পাশে থাকতে চাই। মিল্ক ভিটার মাধ্যমে রূপালী ব্যাংক খামারিদের টাকা দিতে চায় যাতে তারা দুধ ফেলে না দিয়ে তা দিয়ে ঘি বানাতে পারে। খামারিদের দুঃসময়ে পাশে দাড়ানোর জন্য রূপালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও পর্ষদকে ধন্যবাদ জানান মিল্ক ভিটা চেয়ারম্যান।

শেখ নাদির বলেন, সমবায় ছাড়া এই বিশাল জাতির অর্থনৈতিক মুক্তি সম্ভব ছিল না। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু মিল্ক ভিটা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন দেশের অসহায় মানুষের জন্য। এই প্রতিষ্ঠানটি সরকারি সহায়তায় পরিচালিত হচ্ছে। কখনো ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে হয়নি।

তিনি বলেন, মিল্ক ভিটার জন্য গ্রাহক এখনও ৭০ টাকায় প্রতি লিটার দুধ কিনতে পারছে। মিল্ক ভিটা না থাকলে বেসরকারি কোম্পানিগুলো একচেটিয়া ব্যবসা করতো এবং গ্রাহককে দেড়শ থেকে দুইশ টাকায় প্রতি লিটার দুধ কিনে খেতে হতো।

শেখ নাদির হোসেন লিপু বলেন, মিল্ক ভিটা তার সমবায়ভুক্ত খামারিদের গরু কেনা থেকে শুরু করে দুধ পরিবহন করে দুগ্ধ কেন্দ্রে নিয়ে আসা পর্যন্ত সহযোগিতা দেয়। খামারিদের নিয়ে আসা দুধ উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে পরীক্ষা করে সংগ্রহ করা হয়। এই প্রযুক্তি মিল্ক ভিটা ছাড়া বাংলাদেশের অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের নেই। মিল্ক ভিটা যেসব দুধ মানহীনতার কারণে রিজেক্ট করে অন্য কোম্পানিগুলো সেগুলো কিনে নেয়।

রূপালী ব্যাংকের চেয়ারম্যান মনজুর হোসেন এমপি বলেন, অতীতে অনেক সমবায় প্রকল্প এসেছিল। কিন্তু অধিকাংশ প্রকল্প ব্যর্থ হয়েছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নিজের হাতে প্রতিষ্ঠা করা মিল্ক ভিটা’ও পঁচাত্তর পরবর্তী সরকারগুলোর সময় অবহেলিত অবস্থায় ছিল। কিন্তু বর্তমান সময়ে এসে মিল্ক ভিটার মাধ্যমে দুগ্ধ খাতের বিপ্লব সংঘটিত হয়েছে। দেশের দুগ্ধ খাতের উন্নয়নে রূপালী ব্যাংক সবসময় সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করবে বলে জানান চেয়ারম্যান। রূপালী ব্যাংকের চেয়ারম্যান মতিঝিল এলাকায় মিল্ক ভিটার আউটলেট খোলার আহ্বান জানান।

ব্যাংকের পরিচালক মোহাম্মদ আবদুল বাছেত খান বক্তব্যে বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রেখে যাওয়া অসমাপ্ত কাজগুলো এগিয়ে নিতে দিন রাত কাজ করে যাচ্ছেন। দুধ ফেলে দেওয়ার মতো পরিস্থিতি আর কখনো যাতে সৃষ্টি না হয় সেজন্য রূপালী ব্যাংক সবসময় কাজ করবে।

রূপালী ব্যাংকের পরিচালক মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন বলেন, কোভিড মহামারি আসার পর দুগ্ধ খামারিরা সমস্যায় পড়েন। তাদেরকে এই সমস্যা থেকে উত্তরণে রূপালী ব্যাংক এগিয়ে আসে। দেশকে দুগ্ধ খাতে স্বয়ংসম্পূর্ণ করতে রূপালী ব্যাংক সবসময় পাশে থাকবে।

অনুষ্ঠানে রূপালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মো. ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদ বলেন, করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মানুষ মারা গেলেও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অসাধারণ ব্যবস্থাপনার ফলে দেশে কোনো ধরনের সংকট সৃষ্টি হয়নি। না খেয়ে একজন মানুষও মারা যায়নি। করোনাকালে যখন আমরা দেখলাম, খামারিরা দুধ বিক্রি করতে না পেরে রাস্তায় ফেলে দিচ্ছে। তখন আমরা ‘করোনাকালে দুধ না ফেলে ঘি বানান, দুগ্ধ খাতে জাগুক প্রাণ’Ñ এই স্লোগান সামনে রেখে আমরা দুগ্ধ চাষীদের পাশে দাড়ালাম। দুধ থেকে ঘি বানানোর জন্য ৪ শতাংশ সুদে খামারিদের মাঝে ঋণ বিতরণের লক্ষ্যে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু প্রতিষ্ঠিত সমবায়ী দুগ্ধ প্রতিষ্ঠান মিল্ক ভিটাকে প্রস্তাব দেই আমি। আমার পরিচালনা পর্ষদ এ বিষয়ে পূর্ণ সমর্থন দেয়।

রূপালী ব্যাংকের এমডি বলেন, বান্দরবান ও খাগড়াছড়িতে আদা চাষে রেয়াতী সুদে ঋণ প্রদানের উদ্যোগ নিয়েছে রূপালী ব্যাংক। আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে আদাতে দেশকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করার জন্য আমাদের এই কার্যক্রম। এছাড়া দেশে ক্রমবর্ধমান পেঁয়াজ সংকট মোকাবেলায় টিএমএসএস-এর সাথে যৌথ উদ্যোগে পেঁয়াজ উৎপাদনে ব্যাপক ভিত্তিতে ঋণ বিতরণের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। বিভিন্ন প্রকার মৌসুমি ফল উৎপাদন, বিভিন্ন ফুল উৎপাদন, সবজি উৎপাদন, ডেইরি এবং পোল্ট্ররি খাতে উৎপাদন অব্যাহত রাখার এবং মৎস উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষে প্রণোদনা সুবিধার আওতায় রূপালী ব্যাংকের সকল শাখার মাধ্যমে ঋণ প্রদান করা হচ্ছে। টমেটো চাষিদেরও স্বল্প সুদে সহজ ঋণ দিয়ে যাচ্ছে রূপালী ব্যাংক।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, মিল্ক ভিটার ঢাকা দুগ্ধ কারখানা, বাঘাবাড়ি দুগ্ধ কারখানা ও টেকেরহাট দুগ্ধ কারখানার তালিকাভুক্ত সমিতির সদস্যদের মধ্য থেকে ১ হাজার সদস্যকে ১০ কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করছে রূপালী ব্যাংক। মাত্র ৪ শতাংশ সুদে প্রতি সদস্যকে ১ লাখ টাকা ঋণ দিচ্ছে। এসব ঋণের কর্পোরেট গ্যারান্টর মিল্ক ভিটা। মিল্ক ভিটা খামারিদের কাছ থেকে কিস্তির অর্থ সংগ্রহ করে ব্যাংকে জমা দেবে।

অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি সংযুক্ত ছিলেন পরিচালক অরিজিৎ চৌধুরী। রূপালী ব্যাংকের ডিএমডি মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, খন্দকার আতাউর রহমান ও মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর, জিএম অশোক কুমার সিংহ রায়, মো. শফিকুল ইসলাম, গোলাম মর্তুজাসহ উভয় প্রতিষ্ঠানের উর্ধতন নির্বাহী কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন কৃষি ও পল্লী ঋণ বিভাগের জিএম মো. মজিবর রহমান।

অনুষ্ঠানে টুঙ্গীপাড়ার মুন্সি রফিকুল ইসলাম, খুলনার ইউনুস গাজী ও সিরাজগঞ্জের জিন্নাহ সরকারের মাঝে ঋণের চেক বিতরণ করা হয়।

ঢাকাটাইমস/ ২২ অক্টোবর/ আরএ

সংবাদটি শেয়ার করুন

অর্থনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :