শিক্ষা কার্যক্রম চালু রাখতে বিকল্প চিন্তা

ঢাকাটাইমস ডেস্ক
| আপডেট : ১৮ নভেম্বর ২০২০, ২১:১৫ | প্রকাশিত : ১৮ নভেম্বর ২০২০, ২০:৪৯

আসন্ন শীতে করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের প্রকোপ রোধ ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়টিতে যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। এ কারণে আপাতত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান না খুলে বিকল্প উপায়ে শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রাখার চিন্তা-ভাবনা চলছে।

করোনাকালীন ও করোনা পরবর্তী শিক্ষা কার্যক্রম নিয়ে জাতিসংঘ প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এমন কথা জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি।

বুধবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

শিক্ষামন্ত্রীর হেয়ার রোডের সরকারি বাসভবনে মঙ্গলবার রাতে জাতিসংঘ প্রতিনিধি দলের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী মিয়া সেপ্পোর নেতৃত্বে সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন—ইউনিসেফ বাংলাদেশের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ টোমো হোযুমি।

এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. আমিনুল ইসলাম খান, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (বিশ্ববিদ্যালয়) একেএম আফতাব হোসেন প্রামাণিক, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. সৈয়দ গোলাম ফারুক প্রমুখ।

সভায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এখনই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার কথা সরকার ভাবছে না। বাংলাদেশ পৃথিবীর সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ একটি দেশ। এখানে ফিজিক্যাল ডিসটেন্স মেইনটেন করা অত্যন্ত দুরূহ কাজ। পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দিলে শিশুদের সঙ্গে তাদের অভিভাবকদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেতে হয়। সে ক্ষেত্রে করোনার সংক্রমণ বেড়ে যেতে পারে। যদিও শিশুদের কোভিডে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কম, কিন্তু তারা নীরব বাহক হতে পারে।’

সভায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘করোনা পরিস্থিতিতে অনেক অভিভাবক তাদের সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে চান না। তাই সরকার এই পরিস্থিতিতে বিকল্প পদ্ধতিতে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে নেয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করছে।’

দীপু মনি বলেন, ‘বিশ্বব্যাপী চলমান মহামারি করোনার কারণে আমাদের শিক্ষা খাত নানা রকমের ঝুঁকিতে রয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ রয়েছে, যার ফলে কিছু শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বাল্যবিবাহ ও শিশুশ্রম বৃদ্ধি পেতে পারে। অনেক শিক্ষার্থী আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।’

এসময় শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, ‘সব প্রস্তুতি থাকা সত্ত্বেও করোনার কারণে ২০২০ সালের এইচএসসি পরীক্ষা নেয়া সম্ভব হয়নি। ২০২১ সালে অনুষ্ঠেয় এসএসসি এবং এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের প্রাতিষ্ঠানিক ক্লাস না হওয়ায় সিলেবাস সমাপ্ত করা এখন একটা বড় চ্যালেঞ্জ। তাছাড়া কারিগরি শিক্ষার ক্ষেত্রে ব্যবহারিক ক্লাসগুলো অনলাইনে নেয়া সম্ভব হচ্ছে না।’

করোনাকালে শিক্ষা খাতের চ্যালেঞ্জ উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় আমাদের শিশুরা সাইকোলজিক্যাল বিভিন্ন সমস্যায় ভুগছে। করোনায় শিক্ষা খাতের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ডিজিটাল প্রযুক্তি আমাদের সহায়তা করেছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করার মাত্র দুই সপ্তাহের মধ্যে সংসদ টেলিভিশনের মাধ্যমে মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা পর্যায়ে অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। তারপরও আমাদের প্রায় ১০ শতাংশ শিক্ষার্থী শিক্ষা কার্যক্রমের বাইরে রয়েছে। মোট শিক্ষার্থীর তুলনায় ১০ শতাংশ অনেক বড় একটি সংখ্যা। আমরা কোনও একজন শিক্ষার্থীকে পেছনে রেখে আগাতে চাই না।’

দেশে গত ৮ মার্চ করোনা রোগী শনাক্ত হওয়ার পর ১৭ মার্চ থেকে কয়েক দফায় বাড়িয়ে আগামী ১৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত রয়েছে।

(ঢাকাটাইমস/১৮নভেম্বর/কেআর)

সংবাদটি শেয়ার করুন

শিক্ষা বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :