আঙিনায় সবজি লাগিয়ে বন্যার ক্ষতি কাটানোর চেষ্টা

মুমিনুল ইসলাম বাবু, কুড়িগ্রাম
| আপডেট : ২৫ নভেম্বর ২০২০, ১৬:৪৮ | প্রকাশিত : ২৫ নভেম্বর ২০২০, ১৫:৩৮

চলতি বছর ভয়াবহ বন্যার ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে কুড়িগ্রাম সদরের ঘাগাসহ ইউনিয়নের সবুজপাড়া গ্রামের মানুষ। বন্যায় নষ্ট হয়ে গেছে মাঠের সব ধান। এখন এসব মাঠ ও বাড়ির আঙিনায় সবুজ সবজি লাগিয়ে নিজেদের ক্ষতি কাটানোর চেষ্টা করছে তারা। অনেকে হাঁস-মুরগি ও ভেড়া পালন করে নিজেদের ভাগ্য বদলের স্বপ্ন দেখছেন। বেসরকারি সংস্থা ফ্রেন্ডশিপ বাংলাদেশের এএসডি প্রকল্পের আওতায় তাদের এই উন্নয়নমুখী কর্মকাণ্ড দেখে উৎসাহ বাড়ছে পাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষের।

সরেজমিনে জানা গেছে, দুধকুমার, গঙ্গাধর ও ব্রহ্মপুত্র নদের মোহনায় অবস্থিত ওই গ্রামের মানুষ প্রতিবছর বন্যা মোকাবিলা করে আসছে। এবারের ভয়াবহ বন্যার ফলে এসব পরিবারের আমনের বীজতলা, মাঠের ফসল, বাড়ির চারপাশের শাক-সবজি ও হাঁস-মুরগির ব্যাপক ক্ষতি হয়। দীর্ঘস্থায়ী বন্যায় নষ্ট হয়ে গেছে ঘরবাড়ি ও গবাদিপশুর খাদ্য খড়ের গাদা। এই ক্ষতি কমাতে গ্রামের ১৭০টি পরিবার ফ্রেন্ডশিপ বাংলাদেশের পরামর্শের মাধ্যমে সহযোগিতা পেয়ে এবং প্রশিক্ষণ নিয়ে শুরু করে বাড়ি বাড়ি বিষমুক্ত সবজি চাষ, হাঁস-মুরগি ও ভেড়া পালনের কাজ। এতে পাল্টে যেতে থাকে তাদের জীবনমান। সমষ্টিগত উদ্যোগে সবুজপাড়া গ্রাম এখন সবুজে পরিণত হয়েছে।

এই গ্রামের ছাত্তার আলীর স্ত্রী আহিলা বেগম বলেন, ‌‘বাড়ির উঠানে চালকুমড়া লাগিয়েছি। ইতোমধ্যে ৪ হাজার টাকার বিষমুক্ত কুমড়া বিক্রি করেছি। নিজেরাও খাচ্ছি। এছাড়াও একটি ভেড়া পেয়েছিলাম। গত দুই বছরে একটি ৫ হাজার টাকায় বিক্রি করে ঘর ঠিক করেছি। এখন চারটা ভেড়া রয়েছে।’

একই গ্রামের আইয়ুব আলীর স্ত্রী ছবুরা বেগম ও আমিনুলের স্ত্রী রুবিনা বেগম বলেন, ‌‘আগে হাট থেকে সার কিনে আনতাম। এখন গোবর দিয়ে নিজেরা সার বানিয়েছি। কীটনাশক ফাঁদ দিয়ে পোকা ধরছি। এছাড়া শুকনা নিমপাতা দিয়ে সবজি ক্ষেত পোকা ও বিষমুক্ত রাখছি।’

সবুজপাড়া গ্রামের যুবক সদরুল আলম জানান, সবুজপাড়া গ্রাম এখন সবুজে ভরে গেছে। এই গ্রামের মানুষ অল্প খরচে এখন শাক-সবজি চাষ করছে। এর বীজ সবজি ব্যাংকের মাধ্যমে সংরক্ষণ করা হচ্ছে। বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করে সহযোগিতা নিচ্ছেন চাষিরা। ক্ষতি কাটিয়ে উঠার চেষ্টা করছে তারা।

ফ্রেন্ডশিপ বাংলাদেশের এএসডি প্রকল্পের ম্যানেজার আশরাফুল ইসলাম মল্লিক জানান, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, সম্পদ বৃদ্ধি এবং বাল্যবিবাহ রোধ, পারিবারিক নির্যাতন বন্ধ, জাতীয় সংসদ ও সংবিধান সম্পর্ক ধারণা, জিডি করার কৌশল, শিক্ষামূলক আলোচনাসহ দুর্যোগ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সবুজপাড়া গ্রামসহ কুড়িগ্রাম সদর, চিলমারী ও রৌমারী উপজেলায় ২৪টি গ্রামে কাজ করছে ট্রানজিশন ফান্ড প্রজেক্ট (এএসডি) ।

ঘাগাদহ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শাহ আলম জানান, দুধকুমার নদীর কারণে সবুজপাড়া গ্রাম প্রতিবছর বন্যায় প্লাবিত হয়। এবার দীর্ঘস্থায়ী বন্যায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ফ্রেন্ডশিপ বাংলাদেশের বিভিন্ন সচেতনতামূলক ও আয়বৃদ্ধিমূলক কর্মকাণ্ডে এই গ্রামের বৈপ্লবিক পরিবর্তন সাধিত হয়েছে।

(ঢাকাটাইমস/২৫নভেম্বর/পিএল)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

বাংলাদেশ এর সর্বশেষ

এই বিভাগের সব খবর

শিরোনাম :