পালিয়ে বিয়ে: স্ত্রী-সন্তানকে স্বামীর জিম্মায় দিতে হাইকোর্টের নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ১৪ জানুয়ারি ২০২১, ২২:০৩ | প্রকাশিত : ১৪ জানুয়ারি ২০২১, ২১:৫৬

গাজীপুরের শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে থাকা আড়াই মাস বয়সী সন্তানসহ চাঁদপুরের হাজিগঞ্জ উপজেলার কিশোরী মাকে স্বামীর জিম্মায় দিতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। চাঁদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের প্রতি এ নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

স্ত্রী ও সন্তানকে নিজ জিম্মায় নিতে কিশোরীর স্বামীর করা আবেদনের শুনানি নিয়ে আজ বৃহস্পতিবার বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

পালিয়ে বিয়ে করার কারণে স্ত্রীর পরিবারের মামলায় কারাগারে গিয়েছিলেন এই কিশোরীর স্বামী। আর কিশোরী পরিবারের কাছে ফিরতে না চাওয়ায় তাকে গাজীপুরের শিশু কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে (বালিকা) পাঠিয়েছিল চাঁদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল। সেখানে সন্তানের জন্ম দেন এই কিশোরী। এদিকে স্বামী জামিনে মুক্ত হয়ে স্ত্রী-সন্তানকে নিজের জিম্মায় নিতে ট্রাইব্যুনালে আবেদন করলেও তা নাকচ হয়। অবশেষে আবেদেনের প্রেক্ষিতে সন্তান ও তার মাকে স্বামীর জিম্মায় দিতে চাঁদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালকে নির্দেশ দিল হাইকোর্ট।

আদালতে আবেদনকারীর পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী শেখ আলী আহমেদ খোকন। তার সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী মো. তারেক আজিজ ও সজল আহমেদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সারোয়ার হোসেন বাপ্পি।

হাইকোর্টের নির্দেশে এদিন গাজীপুরের শিশু-কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রের তত্ত্বাবধানে শিশুসহ ওই কিশোরীকে আদালতে হাজির করা হয়।

আইনজীবী খোকন পরে বলেন, ‘হাই কোর্টের আদেশটি চাঁদপুরের ট্রাইব্যুনালকে পাঠালে ট্রাইব্যুনাল আদেশটি শিশু কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রকে পাঠাবেন, তখন মেয়েটি তার স্বামীর জিম্মায় যেতে পারবে।’

এ আইনজীবী বলেন, ‘যেহেতু অপহরণ ও ধর্ষণের ঘটনা আদতে ঘটেনি, তাই শাশুড়ির করা অপহরণ ও ধর্ষণ মামলাটি বাতিল চেয়ে আবেদন করা হবে। মেয়েটির জবানবন্দির পর এই মামলার আর কার্যকারিতা থাকতে পারে না।’

আদালত ও মামলা সূত্রে গেছে, ২০১৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি চাঁদপুরের হাজিগঞ্জ উপজেলার এই কিশোরী তার প্রেমিকের সঙ্গে পালিয়ে বিয়ে করেন। কাবিনে মেয়েটির বয়স দেখানো হয় ১৮ বছর।

কিন্তু এ বিয়ে মেনে নেয়নি কিশোরীর পরিবার। এক পর্যায়ে ওই বছরের ৭ ডিসেম্বর হাজিগঞ্জ থানায় জামাতার বিরুদ্ধে অপহরণ ও ধর্ষণ মামলা করেন শাশুড়ি। তখন মামলার এজাহারে কিশোরীর বয়স দেখানো হয় ১৩ বছর ১১ মাস। যদিও জন্ম নিবন্ধন সনদ অনুযায়ী কিশোরীর বয়স হয় এখন ১৭ বছর। (২০০৪ সালের ১ জানুয়ারি জন্ম)। আবার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে মেয়েটি তার বয়স ১৬ বছর উল্লেখ করেছে।

কিশোরীর মা যখন তার জামাতাকে আসামি করে মামলা করেন, তখন মেয়েটি ও তার স্বামী ছিলেন আত্মগোপনে।

মামলা হওয়ার পর কিশোরীর স্বামীকে গত বছরের ২৬ মে গ্রেপ্তার করে হাজিগঞ্জ থানার পুলিশ। কিশোরীকেও তখন নিরাপত্তা হেফাজতে নেয়া হয়। ততদিনে ওই কিশোরী পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা।

গ্রেপ্তারের পর কিশোরীর স্বামীকে চাঁদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে নেয়া হলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠায়। সেদিন কিশোরীর মা মেয়েকে নিজের জিম্মায় নিতে আবেদন করেন। কিন্তু কিশোরী পরিবারের কাছে ফিরতে না চাইলে ট্রাইব্যুনাল তাকে সেইফ কাস্টডিতে (গাজীপুরের শিশু কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে) পাঠায়।

পরে গত বছর ২৪ সেপ্টেম্বর চাঁদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে জামিন চেয়ে আবেদন করেন কিশোরীর স্বামী। চাঁদপুরের আদালত তা নাকচ করে দিলে তিনি হাই কোর্টে আসেন। এরপর গত বছর ২০ অক্টোবর হাই কোর্ট তাকে ছয় মাসের জামিন দেয়।

এদিকে গত বছরের ২৭ অক্টোবর গাজীপুরের শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রেই তাদের সন্তানের জন্ম হয়। জামিনে মুক্ত হওয়ার পর কিশোরীর স্বামী তার স্ত্রী-সন্তানকে নিজের জিম্মায় পেতে চাঁদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে আবেদন করলে গত বছর ১০ নভেম্বর আবেদনটি না মঞ্জুর করে ট্রাইব্যুনাল। তখন তিনি আবার হাই কোর্টে আবেদন করেন। আজ কিশোরী ও তার স্বামীর বক্তব্য শুনে তাদের পক্ষে আদেশ দিলেন হাইকোর্ট।

ঢাকাটাইমস/১৪জানুয়ারি/ইএস

সংবাদটি শেয়ার করুন

আদালত বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :