পাকা ঘর পেয়ে আপ্লুত সাবেক এমপি জজ মিয়া

আজহারুল হক, ময়মনসিংহ
| আপডেট : ২৩ জানুয়ারি ২০২১, ১৪:৩০ | প্রকাশিত : ২৩ জানুয়ারি ২০২১, ১৪:১৭
সাংসদ ফাহমী গোলন্দাজ এবং ইউএনও তাজুল ইসলামের হাত থেকে ঘরের দলিল নিচ্ছেন দুইবারের সাবেক এমপি জজ মিয়া

মুজিববর্ষে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে উপহার হিসেবে প্রথম দফায় জমির দলিলসহ পাকা বাড়ি পেয়েছেন ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ের এনামুল হক জজ মিয়া। দুইবারের সংসদ সদস্য হয়েও জীবনের শেষ বেলায় এসে একেবারেই নিঃস্ব এই মানুষটি উপহারের ঘর পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছেন। ঘর পাওয়ার পর তিনি বললেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর দেয়া ঘরে শুয়ে এবার শান্তিতে মরতে পারব।’

শনিবার দেশের ৬৬ হাজারের বেশি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের সঙ্গে জজ মিয়া মাথা গোঁজার ঠাঁই পেয়ে আনন্দে ভাসছেন। তাই তো পাকা ঘর এবং জমির দলিল বুঝে পেয়ে জাতীয় পার্টি থেকে নির্বাচিত দুইবারের সাবেক এই সংসদ সদস্য কৃতজ্ঞতা জানালেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি।

কারণ দুইবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেও নিজের মাথা গোঁজার ঠাঁই তৈরি করতে পারেননি জজ মিয়া। সন্তানেরাও পারেননি সেই স্বপ্ন। কিছুদিন আগে তার দুর্দশার কথা তুলে ধরে গণমাধ্যমে একাধিক প্রতিবেদনও প্রকাশিত হয়। অবশেষে জীবন সায়াহ্নে এসে বসবাসের জন্য নিজের ঘর পেলেন জজ মিয়া।

শনিবার সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে উদ্বোধন শেষে দরিদ্র-আশ্রয়হীন ২০০ পরিবারের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘরের চাবি ও দলিল বুঝিয়ে দেয়ার নির্দেশ দেন।

পরে অন্যদের মতো ঘরের চাবি ও দলিল এমপি ফাহমী গোলন্দাজ বাবেল ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার হাত থেকে গ্রহণ করেন সাবেক এমপি এনামুল হক জজ মিয়া।

এ সময় প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে গিয়ে জজ মিয়া বলেন, ঘর পেয়ে আমি অনেক খুশি। আনন্দ লাগছে। প্রধানমন্ত্রীর জন্য দোয়া করি। আল্লাহপাক যেন তাকে আরও ভালো কাজ করার তৌফিক দান করেন।

সময়মতো বাড়ির কাজ শেষ করার পাশাপাশি মান ঠিক রাখতে সবসময়ই তদারকি করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তাজুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আশরাফ উদ্দিন বাদল, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তাজুল ইসলাম, সহকারী কমিশনার (ভূমি) কাবেরী রায়, পৌর মেয়র এস এম ইকবাল হোসেন সুমন, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ আতাউর রহমান প্রমুখ।

প্রথম দফায় দেশের ৪৯২টি উপজেলার ৬৬ হাজার ১৮৯টি পরিবারের মাঝে পাকা ঘরসহ বাড়ি হস্তান্তর করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর মাধ্যমে বিশাল সংখ্যক মানুষকে বিনামূল্যে ঘর দিয়ে বিশ্বে নতুন ইতিহাস গড়লো বাংলাদেশ।

মুজিববর্ষ উপলক্ষে আশ্রয়ন প্রকল্প-২ এর আওতায় প্রায় ৯ লাখ মানুষকে পুনর্বাসন প্রক্রিয়া চলছে। আগামী মাসে আরও ১ লাখ পরিবার বাড়ি পাবে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে থাকা আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এই কাজ করছে। খাসজমিতে গুচ্ছ ভিত্তিতে এসব ঘর তৈরি হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, ভূমি মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার বিভাগসহ বেশ কয়েকটি মন্ত্রণালয় এই কাজের সঙ্গে যুক্ত।

উপকারভোগীদের মধ্যে যাদের জমি আছে, তারা শুধু ঘর পাবে। যাদের জমি নেই, তারা ২ শতাংশ জমি পাবে (বন্দোবস্ত)। দুই কক্ষবিশিষ্ট প্রতিটি ঘর তৈরিতে খরচ হচ্ছে এক লাখ ৭১ হাজার টাকা। সরকারের নির্ধারিত একই নকশায় হচ্ছে এসব ঘর। রান্নাঘর, সংযুক্ত টয়লেট থাকছে। টিউবওয়েল ও বিদ্যুৎ সংযোগও দেওয়া হচ্ছে।

(ঢাকাটাইমস/২৩জানুয়ারি/বিইউ/এমআর)

সংবাদটি শেয়ার করুন

জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :