১০ টাকায় কাপড়, খেলনা!

আল-আমিন রাজু
| আপডেট : ২৬ জানুয়ারি ২০২১, ১৮:১৫ | প্রকাশিত : ২৪ জানুয়ারি ২০২১, ১৭:৩৬

বর্তমান সময়ে ১০ টাকায় বলার মতো কিছুই মেলে না। বড়জোড় কয়েটি চকলেট পাওয়া যেতে পারে। তবে অবাক হলেও সত্য ১০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে শিশুদের শীতের কাপড়, খেলনা। হয় তো বিষয়টি অবাস্তব মনে হবে। তবে এই অবাস্তবকেই সম্ভব করেছে সেস্বাসেবী সংগঠন সুইচ বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন।

রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানার ঢাকা উদ্যান এলাকায় সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য শীতের কাপড় ও খেলনা বিতরণের এমন অভিনব মেলার আয়োজন করেছে সংগঠনটি।

রবিবার শিশুদের জন্য আয়োজন করা মেলায় গিয়ে দেখা যায়, সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষার জন্য সুইচ বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন পরিচালিত স্কুলের শিক্ষার্থীরা মেলা প্রাঙ্গণে অপেক্ষা করছেন। কখন তাদের শিক্ষকরা মেলায় জামা, খেলনা বিক্রি শুরু করবেন। মেলার আদলে কয়েকটি স্টল সাজানো হচ্ছে। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মেলার গেট খুলে দেয়া হলে যার যার পছন্দের পোশাক খেলনা কেনার জন্য ভিড় করেছে।

পছন্দের পোশাক আর খেলনা কিনতে পেরে বেজাই খুশি এইসব সুবিধাবঞ্চিত শিশুরা। কেউ সদ্য নিজের করে নেয়া খেলনাটি খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখছে। কেউ জামা গাঁয়ে জড়ানোর জন্য ছুটছে বাড়ির পথে।

তেমন কি একজন সুইচ বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন পরিচালিত স্কুলের শিক্ষার্থী জান্নাত। ১০ টাকা দিয়ে হলুদ রঙের একটি খেলা কিনেছেন। পছন্দের খেলনাটি কিনতে পেরে উচ্ছ্বসিত শিশু শ্রেনীতে পড়ুয়া জান্নাত। বললেন, আম্মু আমাকে টাকা দিয়েছে। আমি ১০ টাকা দিয়ে এই খেলনাটি কিনেছি। এটা দিয়ে আমি খেলবো।

উর্ধোমূল্যের এই বাজারে এমন অভিনব আয়োজন সম্পর্কে জানালেন সুইচ বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের সমন্বয়ক মোস্তাফিজুর রহমান ঢাকাটাইমসকে বলেন, বাজারে ১০ টাকা বা ২০ টাকায় কাপড় বা খেলনা পাওয়া যায় না। কিন্তু বাজার থেকে শিশুরা কোনও কিছু কিনতে পারলে বা তাদের জন্য কেনা হলে তারা অনেক খুশি হয়। তাই আমরা এই বিষয়টি মাথায় রেখে এই মেলার আয়োজন করেছি। মূলত কাপড় ও খেলনাগুলো মানুষের ব্যবহৃত। আমাদের ১০ টাকায় কাপড় নামে একটি প্রজেক্ট আছে। এই প্রজেক্টের মাধ্যমে আমরা উচ্চবিত্তদের শিশুদের ব্যবহৃত কাপড় ও খেলনা সংগ্রহ করি। এরপর সেগুলো সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মাঝে বিতরণ করি।

তিনি আরও বলেন, আমরা চাইলে ১০ টাকা না নিয়ে বিনামূল্যে দিতে পারতাম। কিন্তু আমরা চেয়েছি শিশুরা এটাকে দান বা ত্রাণ মনে না করুক। তারা মেলা থেকে কিছু কিনে নেওয়ার স্বাদ পাক। এতে এই পোশাক বা খেলনাটি নিজের মনে করবে। এছাড়া এগুলো মানুষের বাসায় বাসায় গিয়ে সংগ্রহ করা হয়। অনেক সময় কাপড়গুলো সংগ্রহ করার পরে ধোয়া হয়। এরপরে আয়রন এবং প্যাকিং করে ব্যবহার উপযোগী করা হয়। এই সকল ব্যাবস্হাপনায় বেশ কিছু খরচ রয়েছে, যেহেতু আমাদের সংগঠনটি একটি সেস্বাসেবী সংগঠন তাই এই টাকা দিয়ে কিছুটা ব্যয় বহন করা হয়। ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে এমন মেলার আয়োজন করার ইচ্ছে রয়েছে বলে জানান এই সেস্বাসেবী।

উল্লেখ্য, সুইচ বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন একটি সামাজিক সেস্বাসেবী সংগঠন। প্রতিষ্ঠার পর থেকে সংগঠন টি শিশুদের শিক্ষাদানসহ বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। এছাড়া বিভিন্ন দুর্যোগের সময়ে ত্রাণ বিতরণের পাশাপাশি করোনা মহামারীর মধ্যে বিভিন্ন বস্তিতে ১২ হাজারেরও বেশি দরিদ্র অসহায় মানুষের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ ও দুই শতাধিক হতদরিদ্র পরিবারকে খাদ্যসামগ্রী ও নগদ অর্থ প্রদান করেছে সংগঠনটি।

ঢাকাটাইমস/২৪জানুয়ারি/এআর/ডিএম

সংবাদটি শেয়ার করুন

জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :