মুরগির দাম চড়া, আলুতে স্বস্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ০৫ মার্চ ২০২১, ১৪:৪৭ | প্রকাশিত : ০৫ মার্চ ২০২১, ১২:৫৬

কিছুতেই থামছে না বাজার দরের গতি। একটি পণ্যের দাম কমে তো আরো তিনটির দাম বাড়ছে। গত সপ্তাহের তুলনায় দাম বেড়েছে মুরগি, পেঁয়াজ, বেশ কিছু সবজি, ডিম ও লেবুর। অন্যদিকে দাম কমেছে আলু ও শীতকালীন সবজির।

তবে গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই বাড়ছে মুরগির দাম। এছাড়া গ্রীষ্মের শুরুতে বাজারে আসা পটল, ঢেঁড়স, চিচিঙ্গা ও ঝিঙ্গার দাম লাগাম ছাড়া। তবে অপরিবর্তিত রয়েছে ভোজ্যতেল, গরু, খাসির মাংসসহ অন্য পণ্যের দাম।

শুক্রবার সকালে রাজধানীর মোহাম্মদপুর, টাউনহল, মালিবাগ, মিরপুরের মুসলিম বাজার, রামপুরা কাঁচাবাজার ও কারওয়ানবাজার ঘুরে বাজারের এ চিত্র দেখা গেছে।

সপ্তাহের শুরুতে বাজার দরের আলোচনায় নাম লিখিয়েছে পেঁয়াজ। উৎপাদন মৌসুম শেষ না হতেই বাড়তে শুরু করেছে পেঁয়াজের দাম। গত সপ্তাহে ৩০ থেকে ৩৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও এ সপ্তাহে ৫ থেকে ৭ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৪২ টাকা দরে। এছাড়া দাম বাড়ার তালিকায় আছে ডিম ও লেবু।

বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে গ্রীষ্মের শুরুতে বাজারে আসা পটল ৬০ টাকা, দুন্দল ৪০ টাকা, ঝিঙ্গা ৪০ টাকা, ঢেঁড়স ৬০ টাকা ও চিচিঙ্গা ৪০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে।

শীতের শেষ দিকে এসে কিছুটা কমে মুলা ২০ টাকা, শালগম ২০ টাকা, টমেটো ২০ টাকা, বরবটি ৪০ টাকা, গাজর ২০ থেকে ৩০ টাকা, শিম ৩০ থেকে ৪০ টাকা, বেগুন ৩০ টাকা, করল্লা ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

প্রতি পিস লাউ আকারভেদে বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৫০ টাকায়, ফুলকপি ২০ টাকা, বাঁধাকপি বিক্রি হচ্ছে ২০ টাকা। মিষ্টি কুমরার কেজি ৩০ টাকা, আলু বিক্রি হচ্ছে ১৫ টাকা কেজি। কাঁচা কলা বিক্রি হচ্ছে ২০ টাকায়। কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকা কেজি দরে। পেঁপে প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ৩০ টাকা। খিরাই ২০ থেকে টাকা। শসা ৩০ টাকা। মটরশুঁটির কেজি ৪০ থেকে ৫০ টাকা। এছাড়াও মরিচ প্রতি কেজি ৬০ থেকে ৭০ টাকা, রসুনের কেজি ৮০ থেকে ৯০ টাকা।

অন্য দিকে এখনো অপরিবর্তিত রয়েছে চাল ও ভোজ্যতেলের বাজার। বাজারে প্রতি কেজি বিআর-২৮ চাল বিক্রি হচ্ছে ৫২ থেকে ৫৫ টাকা, মিনিকেট ৬৫ টাকা, নাজির ৬৫ থেকে ৬৮ টাকা, স্বর্ণা চাল ৪৬ থেকে ৪৭ টাকা, পোলাওয়ের চাল ৯০ থেকে ১০০ টাকা। খোলা ভোজ্যতেলর লিটার বিক্রি হচ্ছে ১৩৫ টাকা।

এদিকে গত কয়েকজ সপ্তাহ ধরে বাড়ছে মুরগির দাম। এ সপ্তাহে প্রতি কেজিতে ৬০ টাকা বেড়ে সোনালি (কক) মুরগি ৩০০ টাকা ও ব্রয়লার মুরগি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকায়। লেয়ার মুরগি কেজি ২০০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে। তবে অপরিবর্তিত আছে গরু ও খাসির মাংস, মসলাসহ অন্যান্য পণ্যের দাম। বাজারে প্রতি কেজি খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে ৭০০ থেকে ৭৫০ টাকা, বকরির মাংস ৭০০ থেকে ৭৫০ টাকা, গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৫৫০ টাকা, মহিষ ৫৫০ থেকে ৫৮০ টাকা।

তবে মুরগির দাম লাগা ছাড়ার পেছনে খুচরা ব্যবসায়ীরা দুষছেন পাইকারদের। তারা বলছেন, খুচরা বাজারে মুরগির দাম চড়া যাচ্ছে। করোনাকালে ফার্মগুলো অনেক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছিল। ছোট পৌলট্রি ফার্মগুলো এখনো ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারেনি। এই ফার্মগুলোর মালিকরা এখন আর নতুন করে ব্যবসায় বিনিয়োগ করছে না। একারণে বাজারের চাহিদা অনুযায়ী মুরগির উৎপাদন কম। আসা করছি ২০-২৫ দিনের মধ্যে মুরগির দাম কমে আসবে। আর বাজারে যে মুরগি আসছে সেগুলোর দামও বেশি রাখছেন পাইকাররা।

এসব বাজারে প্রতি কেজি রুই মাছের দাম বেড়ে (আকারভেদে) ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকা, মাগুর মাছ ৬০০ টাকা, প্রতি এক কেজি শিং মাছ (আকারভেদে) বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকায়, মৃগেল ১১০ থেকে ১৫০ টাকা, পাঙাস ১২০ থেকে ১৫০ টাকা, ইলিশ প্রতি কেজি (আকারভেদে) বিক্রি হচ্ছে ৮৫০ থেকে ১,০০০ টাকা, চিংড়ি প্রতি কেজি ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা, বোয়ালমাছ প্রতি কেজি ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা, কাতল ১৭০ থেকে ২৮০ টাকা, ফোলি মাছ ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা, পোয়া মাছ ২০০ থেকে ২৫০ টাকা, পাবদা মাছ ১৫০ থেকে ২৫০ টাকা, টেংরা মাছ ১৮০ থেকে ২০০ টাকা, টাটকিনি মাছ ১০০ টাকা, তেলাপিয়া ১৪০ টাকা, সিলভার কাপ ১০০ থেকে ১৪০ টাকা, দেশি কৈ মাছ ৭০০ টাকা, কাঁচকি ও মলা বিক্রি হচ্ছে ২৫০ থেকে ৪৫০ টাকা, আইর মাছ ৫০০, রিঠা মাছ ২২০ টাকা ও কোরাল ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা, গুড়া বাইলা ১২০ টাকা, রূপ চাঁদা মাছ কেজি ৫০০ থেকে ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

ঢাকাটাইমস/০৫ মার্চ/ এআর

সংবাদটি শেয়ার করুন

অর্থনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :