শুনে অবাক হবেন, করোনা আক্রান্ত খালেদার খবর নেননি ফালু

বোরহান উদ্দিন, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ০৪ মে ২০২১, ২০:২৭ | প্রকাশিত : ০৪ মে ২০২১, ২০:২১

জিয়া পরিবারের একসময়ের ঘনিষ্ঠ মোসাদ্দেক আলী ফালু কোথায় আছেন, কেমন আছেন এর নির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই কারো কাছে। জিয়া পরিবারের দুঃসময়ে বিএনপির সাবেক এই নেতা পাশে আছেন এমনটা কেউ নিশ্চিত করতে পারছেন না। এমনকি খালেদা জিয়া কারামুক্ত হওয়ার পর খোঁজখবর নিয়েছেন এমন তথ্যও নেই কারো কাছে। সবশেষ খালেদা জিয়া করোনা আক্রান্ত হওয়ার পরও কোথাও দেখা মেলেনি ফালুর। বিএনপি নেতাকর্মীসহ রাজনৈতিক অঙ্গনে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে, মোসাদ্দেক আলী ফালুর সঙ্গে জিয়া পরিবারের সুসম্পর্কে কি ছেদ পড়েছে?

প্রায় মাসখানেক ধরে বেগম খালেদা জিয়া করোনায় আক্রান্ত। চিকিৎসকের ভাষ্যমতে তার করোনার কোনো উপসর্গ নেই। তবে সোমবার থেকে তার শ্বাসকষ্ট দেখা দিয়েছে। পরে তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালের সিসিইউতে স্থানান্তর করা হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেয়ার চেষ্টা করছেন। এই অবস্থায়ও মোসাদ্দেক আলী ফালু কোনোভাবে জিয়া পরিবারের পাশে আছেন কি না তা অজানাই রয়ে গেছে।

ফালুর মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান এনটিভির একাধিক মাধ্যম এবং দলীয় বিভিন্ন সূত্রে তার সম্পর্কে তথ্য জানার চেষ্টা করেও কোনো খবর মেলেনি।

এনটিভির একজন কর্মী নাম প্রকাশ না করার শর্তে ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘যতটুকু জানি চেয়ারম্যান স্যার (মোসাদ্দেক আলী ফালু) শারীরিকভাবে মোটামুটি ভালো আছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রে আছেন এমনই জানি।’

খালেদা জিয়ার অসুস্থতার পর খোঁজখবর রাখছেন কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়টি অত্যন্ত সেনসেটিভ। এমন তথ্য জানা এবং পাওয়া দুষ্কর।’

অন্যদিকে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ের একজন কর্মকর্তার সঙ্গে এ বিষয়ে কথা হয় ঢাকা টাইমসের। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এই কর্মকর্তা বলেন, ‘পরিবারের সদস্যদের বাইরে মহাসচিব, চিকিৎসকরা ছাড়া চেয়ারপারসনের বাসায় কারো আসা যাওয়া ছিল না। করোনা শনাক্ত হওয়ার পর আরও কড়াকড়ি করা হয়। এখন তো তিনি হাসপাতালে। এরমধ্যে কে কখন খোঁজ নিচ্ছেন বলা তো অসম্ভব। তবে ফালু ভাইয়ের বিষয় নিয়ে কোনো আলোচনা শুনিনি। আর টেলিফোনে কথা হলে সেটা তো আর জানা সম্ভব না।’

বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট ক্ষমতায় থাকতে সবধরনের ব্যবসায়িক সুবিধা নেয়া মোসাদ্দেক আলী ফালু দলের দুঃসময়ে কোথায় আছেন, এমন প্রশ্ন নেতাকর্মীদের। কেউ কেউ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘দল ক্ষমতায় থাকতে যিনি সব সময় বেগম জিয়ার ছায়াসঙ্গী ছিলেন, দলের প্রতি কি তার কোনো দায়িত্ব নেই?’

বিএনপি ক্ষমতায় থাকতে দলীয় চেয়ারপারসনের পাশে ছায়ার মতো থাকতেন ফালু। প্রতি বছর ওমরার খালেদার জিয়ার সফরসঙ্গী হতেন। সরকার বা দলের গুরুত্বপূর্ণ প্রায় সব সভাতেও দেখা যেত তাকে। যে কারণে চেয়ারপারসনের ঘনিষ্ঠ হিসেবে দলের ভেতরে বাইরে আলাদা প্রভাব ছিল তার।

গত বছরের মার্চে নির্বাহী আদেশে খালেদা জিয়ার মুক্তির আগে-পরে কোথাও দেখা যায়নি মোসাদ্দেক আলী ফালুকে। সবশেষ তাকে প্রকাশ্যে দেখা গেছে, খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর মরদেহ দেশে আসার পর। তখন অবশ্য তিনি জিয়া পরিবারের পাশেই ছিলেন।

সুনির্দিষ্টভাবে কেউ বলতে না পারলেও মোসাদ্দেক আলী ফালুর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ আছে এমন একজন জানান, শারীরিকভাবে অসুস্থতার কারণে তিনি বিদেশে চিকিৎসা নিচ্ছেন। থাইল্যান্ড বা সিঙ্গাপুর যেকোনো একটি দেশে চিকিৎসা নিচ্ছেন, এমনটাই বেশি শোনা গেছে। সেখানে বসেই দেশের ব্যবসা বাণিজ্যের খোঁজ রাখছেন। তবে কবে নাগাদ দেশে ফিরবেন তারও কোনো নিশ্চয়তা নেই।

মাস-দুয়েক আগে দুবাইয়ে ফালুর সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়েছে বলে দাবি করেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ব্যবসায়ী। পারিবারিকভাবে ফালুর ঘনিষ্ঠ ওই ব্যবসায়ী জানান, ফালু এখন পুরোদস্তুর ধর্মকর্ম নিয়ে ব্যস্ত। লম্বা দাড়ি রেখেছেন, জুব্বাও পরেন। স্ত্রী-সন্তানসহ দুবাইয়ে অবস্থান করছেন। তবে মাঝে মাঝে অন্য দেশেও যান বলে জানান ওই ব্যবসায়ী।

এদিকে ফালুর ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের সূত্রে জানা গেছে, দুদকের মামলায় তার বিপুল পরিমাণ সম্পদ জব্দ করা হয়েছে, যা নিয়ে কিছুটা দুশ্চিন্তায় আছেন তিনি। এমন বৈরী পরিস্থিতির কারণে তিনি ব্যবসায়িকভাবেও খুব বেশি ভালো নেই।

গুঞ্জন আছে, রাজনৈতিক বিরূপ পরিস্থিতির কথা বুঝে রাজনীতি থেকে আগেই নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছিলেন ফালু। বিএনপির ৬ষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলে ভাইস চেয়ারম্যান করার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে পদত্যাগের ঘোষণা দেন তিনি। তবে পদে না থাকলেও জিয়াউর রহমানের দল ও জিয়া পরিবারের সঙ্গে সবসময় থাকার কথা বলেছিলেন ফালু।

বিএনপির আগের কমিটিতে ফালু চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ছিলেন। রাজনীতির পাশাপাশি ব্যবসায়ী হিসেবেও পরিচিতি আছে তার। ছিলেন অ্যাটকোর সভাপতি। এছাড়াও সিকিউরিটিজ, আবাসন, অ্যাগ্রো, আমদানি-রপ্তানি ব্যবসায় জড়িত এনটিভির চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক।

২০০৪ সালে ঢাকা-১০ আসনের উপনির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে বিজয়ী হন মোসাদ্দেক আলী ফালু। মামলায় দণ্ডিত হওয়ায় ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের জাতীয় নির্বাচন করা হয়নি তার। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন ফালু এমন আলোচনা থাকলেও ফালু শেষ পর্যন্ত মনোনয়নপত্রও সংগ্রহ করেননি।

(ঢাকাটাইমস/০৪মে/বিইউ/জেবি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

রাজনীতি এর সর্বশেষ

এই বিভাগের সব খবর

শিরোনাম :