পুঁজিবাজারে আসতে ব্যর্থ ২৩ কোম্পানি, আইডিআরএ’র সতর্কতা

রহমান আজিজ, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ২৫ জুলাই ২০২১, ১৩:৪৯ | প্রকাশিত : ২৫ জুলাই ২০২১, ১১:৪৯

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়নি এমন ২৭টি কোম্পানিকে ২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে তালিকাভুক্তির নির্দেশনা দেয় বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)। কিন্তু এ পর্যন্ত মাত্র ৪টি বীমা কোম্পানি এ নির্দেশনা বাস্তবায়ন করেছে। বাকি ২৩টি কোম্পানির মধ্যে আবেদনের প্রক্রিয়ায় রয়েছে মাত্র ছয়টি। বাকি ১৭টি প্রতিষ্ঠান এবিষয়ে কোনো কর্ণপাত করছে না। আইডিআরএ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

আইডিআরএ জানিয়েছে, ২০১৯ সালের মধ্যে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার নির্দেশনা থাকলেও এখনো বাস্তবায়ন করতে পারেনি এমন ২৩টি লাইফ ও নন-লাইফ বীমা কোম্পানি। একারণে গত বৃহস্পতিবার (১৫ জুলাই) একটি বৈঠকে বীমা কোম্পানিগুলোকে সতর্ক করা হয়েছে।

আইডিআরএ থেকে জানা যায়, ১৮টি লাইফ ও ৯টি নন-লাইফ বীমা কোম্পানিকে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির বিষয়ে অর্থমন্ত্রীর সভাপতিত্বে ২০১৯ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর একটি সভা হয়। সভায় এই কোম্পানিগুলোকে ৩১ ডিসেম্বর ২০১৯ এর মধ্যে তালিকাভুক্ত হওয়ার নির্দেশনা বাস্তবায়ন অগ্রগতি বিষয়ে কর্তৃপক্ষ জরুরি ভিত্তিতে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করার নির্দেশনা দেয়া হয়।

পরবর্তীতে এসব কোম্পানির চেয়ারম্যান ও মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তাসহ অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ এবং বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের প্রতিনিধিসহ কর্তৃপক্ষের সভাকক্ষে বেশ কয়েকটি সভাও অনুষ্ঠিত হয়। এতে বলা হয়, পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হলে কোম্পানিসমূহের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধি পায়, কোম্পানিতে সুশাসন নিশ্চিত করা এবং বীমা গ্রাহকসহ অন্য স্টেকহোল্ডারদের স্বার্থ সুরক্ষা করা সহজ হয়।

সূত্রটি আরও জানায়, কর্তৃপক্ষের লিখিত অনুরোধের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিসমূহকে নির্ধারিত দাম পদ্ধতি মাধ্যমে আইপিওতে মূলধন উত্তোলনের ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন ৩০ কোটি টাকা উত্তোলনের বাধ্যবাধকতা থেকে অব্যাহতি প্রদান করে সর্বনিম্ন ১৫ কোটি টাকা বা তার বেশি মূলধন উত্তোলনের মাধ্যমে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির অনুমোদন প্রদান করে, যা ৭ অক্টোবর ২০২০ তারিখে ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিসমূহকে পত্র মারফত অবহিতও করা হয়েছে।

কিন্তু কোভিড-১৯ এর কারণে দুই দফায় কোম্পানিসমূহের অগ্রগতি কিছুটা পিছিয়ে গেলেও ২৭টি কোম্পানির মধ্যে ইতোমধ্যে ৪টি বীমা কোম্পানি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়েছে। বাকি ২৩টি কোম্পানির মধ্যে ১৭টি কোম্পানি এখন পর্যন্ত কমিশন বরাবর আবেদন করেনি বলে কমিশন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছে।

২০১৯ সালের নির্দেশনা অনুযায়ী যে সব কোম্পানি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির বিষয়ে এখন পর্যন্ত কমিশন বরাবর আবেদন করতে পারেনি তাদের সর্বশেষ গৃহীত পদক্ষেপ ও অগ্রগতি বিষয়ে গত ১৫ জুলাই ২০২১ তারিখ বেলা সাড়ে ১১টায় কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ড. এম মোশাররফ হোসেন এফসিএ’র সভাপতিত্বে একটি ভার্চুয়াল সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় আইডিআরের চেয়ারম্যান কোম্পানিগুলোকে সর্তক করেছেন। এবং পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির জন্য দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দশনা দিয়েছেন।

আইডিআরএর নির্দেশনার পর পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তি হওয়া কোম্পানিগুলো হলো- সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স, দেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্স, এক্সপ্রেস ইন্স্যুরেন্স ও ক্রিস্টাল ইন্স্যুরেন্স।

এছাড়া তালিকভুক্তির আবেদনের প্রক্রিয়ায় রয়েছে গার্ডিয়ান লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি, এলআইসি বাংলাদেশ, সেনাকল্যাণ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি, চার্টার্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড, জেনিথ ইসলামী লাইফ ইন্সুরেন্স ও মেঘনা ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড। তালিকভুক্তির আবেদনের উদ্যোগ নেয়নি এমন কোম্পানিগুলো হলো- বায়রা লাইফ, গোল্ডেন লাইফ, হোমল্যান্ড লাইফ, সানফ্লাওয়ার লাইফ, বেস্ট লাইফ, এনআরবি গ্লোবাল লাইফ, প্রোটেক্টিভ ইসলামি লাইফ, আলফা ইসলামি লাইফ, ডায়মন্ড লাইফ, যমুনা লাইফ, মার্কেন্টাইল ইসলামি লাইফ, স্বদেশ লাইফ, ট্রাস্ট ইসলামি লাইফ। সাউদ এশিয়া ইন্স্যুরেন্স, ইসলামি কমার্শিয়াল ইন্স্যুরেন্স, ইউনিয়ন ইন্স্যুরেন্স ও সিকদার ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড।

আইডিআরএ সূত্রটি জানায়, বীমা আইনানুযায়ী কোনো কোম্পানি নিবন্ধিত হওয়ার তিন বছরের মধ্যে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এ সময়ের মধ্যে কোনো কোম্পানি পুঁজিবাজারে আসতে না পারলে যুক্তিসঙ্গত কারণ দেখিয়ে আরও ছয় মাস সময় বাড়াতে পারে। তারপরেও পুঁজিবাজারে বাজারে আসতে না পারায় ২০১১ সাল পর্যন্ত প্রথম বীমা আইনের (বীমা আইন ১৯৩৮) ১০২ ধারা অনুযায়ী প্রতিদিন এক হাজার টাকা করে জরিমানা দিতে হতো। বীমা নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইডিআরএ নতুন বীমা আইন ২০১০-এর ১৩০ ধারা অনুযায়ী ২০১১ সালের জানুয়ারি থেকে জরিমানার পরিমাণ এক হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে পাঁচ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়। ফলে ২০১১ সালের ১ জানুয়ারি থেকে প্রতিদিনের জন্য কোম্পানিগুলোকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা দিতে হচ্ছে। এটি বছর শেষে একবারে আদায় করা হয়। এর মধ্যে কোনো কোনো কোম্পানি ১৬ বছর ধরে, কোনো কোম্পানি ১০ বছর ধরে, আবার কোনো কোম্পানিকে এক বছর ধরে জরিমানা গুনছে।

(ঢাকাটাইমস/২৫জুলাই/ডিএম)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বিশেষ প্রতিবেদন বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :