ঐক্যফ্রন্ট-জামায়াতের কড়া সমালোচনা বিএনপি নেতাদের কণ্ঠে!

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৯:০৪
ফাইল ছবি

নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি আদায়ে প্রস্তুত হয়ে মাঠে নামার পরামর্শ দিয়েছেন বিএনপির ঢাকা ও ফরিদপুর অঞ্চলের নেতারা। এক্ষেত্রে সববিরোধী রাজনৈতিক দলকে সঙ্গে নিয়ে যুগপৎ আন্দোলনের প্লাটফর্ম তৈরি করতে হাইকমান্ডকে অনুরোধ করেছেন তারা। একইসঙ্গে ঐক্যফ্রন্টের কঠোর সমালোচনা করে রাজনৈতিক জোট করার ক্ষেত্রে সতর্ক হাওয়ার কথা বলেছেন অনেক নেতা৷ কারও বক্তব্যে বিএনপি জোটের অন্যতম শরিক জামায়াতেরও সমালোচনা এসেছে।

মঙ্গলবার বিকাল থেকে রাত ৯টা অবধি চলা বিএনপির নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে বৈঠকে ঢাকা ও ফরিদপুর বিভাগের নির্বাহী কমিটি এবং জেলার নেতারা এসব পরামর্শ দেন।

দলীয় সরকারের অধীনে আগামী নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার পরামর্শ ছাড়াও বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা ও নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন আদায় করতে হলে জনসম্পৃক্ত কর্মসূচির মধ্য দিয়ে আন্দোলনে যাওয়ার কথা বলেছেন বেশিরভাগ নেতা। এছাড়া ঢাকায় জোরাল আন্দোলন করতে কর্মপরিকল্পনা করার তাগিদও এসেছে এই দুই অঞ্চলের নেতাদের কাছ থেকে। সেজন্য সব অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনকে পুনর্গঠন করে শক্তিশালী করার কথা বলেছেন। তবে অতীতে মাঠে থাকার কথা বলেও অনেক নেতা আন্দোলনে ছিলেন না শীর্ষ নেতারা এমন অভিযোগ করেছেন তৃণমূলের এসব নেতাদের উদ্দেশে।

চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত পাঁচ ঘণ্টাব্যাপী চলা বৈঠকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্ব করেন।

বৈঠকে অংশ নেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। বৈঠকের প্রথম দিন মোট ১২৬ জনকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও ৭৮ জন উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে বক্তব্য দেন ৪১ জন।

বৈঠকে অংশ নেওয়া ঢাকার এক নেতা জোট প্রসঙ্গে বলেন, ছোট অনেক দল নিয়ে ২০১৮ সালের নির্বাচনের আগে জোট করা হয়। বিএনপির অনেক সিনিয়র নেতাকে তাদের পেছনের সারিতে বসতে হয়েছে। কিন্তু তাদের কাছ থেকে আমরা কিছুই পাইনি। এত আয়োজন করে ভোটে গিয়েও মাত্র ৬টি আসন পেয়েছি। তারা শুধু আমাদের কাছ থেকে নিয়েছে। যারা আমাদের চেয়ারপারসন ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে মানবে না তাদের সঙ্গে ভবিষ্যতে যাতে কোনো জোট করা না হয়।

ঢাকার এই নেতা আরও বলেন, যারা আমাদের চেয়ারপারসন ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে মানবে না তাদের সঙ্গে ভবিষ্যতে যাতে কোনো জোট করা না হয়।

কেউ আবার জামায়াতের সঙ্গে বিএনপির সম্পর্ক রাখা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান ও তার কবর নিয়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নেতাদের বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে জিয়াউর রহমানের নাম উল্লেখ করে জামায়াতের বিবৃতি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন অনেকে।

একজন বৈঠকে তার বক্তব্যে বলেন যাদের মুখে দলের মহান নেতা (জিয়াউর রহমান) নাম আনতে কষ্ট হয়, তাদের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক রাখার বিষয়টি আরেকবার ভাবতে হবে।

নির্বাহী কমিটির সদস্য নিপুণ রায় চৌধুরী বলেন, চূড়ান্ত আন্দোলনে নামার আগে অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোকে নিজ নিজ শ্রেণি-পেশার মানুষের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট দাবি নিয়ে একযোগে রাজপথে নামতে হবে। ঘরে ঘরে গিয়ে মহিলাদের আন্দোলনের যৌক্তিকতা বোঝাতে হবে। এ কাজটি মহিলা দলকে করতে হবে।

বৈঠক শেষে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের বলেন, বর্তমান অনির্বাচিত দখলদার সরকার একদলীয় শাসন ব্যবস্থা কায়েমের যে লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে, এ বিষয়ে নেতারা আলোচনা করেছেন। গণতন্ত্রের মাতা দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তি, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও দলের সাংগঠনিক বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়েছে। এসব ছিল আলোচনার বিষয়বস্তু। সামনে আরও সভা রয়েছে। সব সভা শেষে বিস্তারিত গণমাধ্যমে জানানো হবে।

আগামী সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দলের কর্মপরিকল্পনা নিয়ে একে একে সব পর্যায়ের নেতাদের মতামত নিচ্ছে বিএনপি। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার বিএনপি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি ঢাকা ও ফরিদপুর অঞ্চলের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করে। এরই ধারাবাহিকতার অংশ হিসাবে আজ বুধবার চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, ময়মনসিংহ, সিলেট ও রংপুর বিভাগের নির্বাহী কমিটির সদস্য ও জেলা সভাপতিদের সঙ্গে বৈঠক হবে।

ঢাকাটাইমস/২২সেপ্টেম্বর/বিইউ/এমআর

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :