জাতিসংঘে বঙ্গবন্ধুর বাংলায় ভাষণ নিয়ে বিএসএমএমইউতে আলোচনা সভা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৭:২৭

জাতিসংঘে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বাংলায় ভাষণ নিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার বেলা ১১টার দিকে বিএসএমএমইউর এ ব্লক অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়।

আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সাবেক রাষ্ট্রদূত ও সাবেক সচিব মোহাম্মদ জমির। সভাপতিত্ব করেন বিএসএমএমইউর উপাচার্য মো. শারফুদ্দিন আহমেদ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাবেক রাষ্ট্রদূত ও সাবেক সচিব মোহাম্মদ জমির স্মৃতিচারণমূলক বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু শিশুদের প্রচন্ড ভালোবাসতেন। তিনি সবসময় দেশের কথা, মানুষের কথা ভাবতেন। পররাষ্ট্রনীতিতে তিনি ছিলেন অত্যন্ত দূরদর্শী। বিশ্ব দরবারে বাংলাভাষাকে পরিচিত করা এবং স্বাধীনতা পরবর্তী বিভিন্ন দেশ থেকে বাংলাদেশের স্বীকৃতি পাওয়ার ক্ষেত্রে এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংগঠনে বাংলাদেশের সদস্যপদ লাভের ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধুর দূরদর্শী পররাষ্ট্রনীতি প্রধান ভূমিকা রেখেছে।

সভাপতির বক্তব্যে বিএসএমএমইউর উপাচার্য মো. শারফুদ্দিন আহমেদ বলেন, ১৯৭৪ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বাংলায় ভাষণ-বাঙালি জাতির অহংকার। বাংলাদেশ ও বাঙালির জন্য অত্যন্ত গৌরব ও গর্বের দিন। সারা পৃথিবীর বাংলা ভাষাভাষি মানুষের জন্য একটি ঐতিহাসিক দিন আজ। ১৯৭৪ সালের আজকের দিনটি নিঃসন্দেহে বিশ্বের বুকে একটি যুগান্তকারী ঘটনা। কারণ এই দিনে জাতিসংঘে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সর্ব প্রথম বাংলায় ভাষণ দিয়েছিলেন, বাঙালির জন্য একটা পরম পাওয়া। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর যেমন ১৯১৩ সালে সাহিত্যে নোবেল বিজয়ের মাধ্যমে বাংলাকে বিশ্ব দরবারে তুলে ধরেছিলেন। তেমনি বঙ্গবন্ধু সম্পূর্ণ বাংলা ভাষাভিত্তিক একটি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাএবং জাতিসংঘের সদস্য পদ অর্জনের পর সেখানে প্রদত্ত বাংলা বক্তৃতার মাধ্যমে বাংলা ভাষাকে আরও সুউচ্চ মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করেছিলেন। আর এই কারণে আজকের দিনটি শুধু বাংলাদেশের জন্যই গর্বের দিন নয়, এটি গোটা বাঙালি জাতির জন্যই অত্যন্ত গৌরবের। জাতিসংঘে বঙ্গবন্ধুকে প্রথমেই অনুরোধ করে বলা হয়েছিল, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী “আপনি ইংরেজিতে বক্তৃতা করবেন”। কিন্তু প্রিয় মাতৃভাষা বাংলার প্রতি সুগভীর দরদ ও মমত্ববোধ থেকে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন; “আমি মাতৃভাষা বাংলায় বক্তৃতা করতে চাই।”

বিএসএমএমইউর উপাচার্য বলেন, বঙ্গবন্ধু জাতিসংঘে সর্বপ্রথম বাংলায় ভাষণ দিয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘে ১৮ বার বাংলা ভাষণ দিয়েছেন। বঙ্গবন্ধু যেমন বিশ্বের শোষিত মানুষের নেতা ছিলেন। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাও শোষিত মানুষের বিশ্ব নেতা। এজন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ধনী দরিদ্র সকল দেশে মানুষ যাতে সমানভাবে করোনাভাইরাসের টিকা পায় তা নিশ্চিত করতে।

আলোচনা সভায় বিএসএমএমইউর উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) একেএম মোশাররফ হোসেন, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) ছয়েফ উদ্দিন আহমদ, ডেন্টাল অনুষদের ডিন মোহাম্মদ আলী আসগর মোড়ল, শিশু অনুষদের ডিন শাহিন আকতার, নার্সিং অনুষদের ডিন মোহাম্মদ হোসেন, প্রক্টর মো. হাবিবুর রহমান দুলাল, গ্রন্থাগারিক মো. হারিসুল হক, হাসপাতাল শাখার পরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল নজরুল ইসলাম খান, শিশু সার্জারি বিভাগের চেয়ারম্যান একেএম জাহিদ হোসেন, কার্ডিওলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আরিফুল ইসলাম জোয়াদার টিটো বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা বিএসএমএমইউর রেজিস্ট্রার এবিএম আব্দুল হান্নান।

ঢাকাটাইমস/২৫ সেপ্টেম্বর/এএ

সংবাদটি শেয়ার করুন

স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :