রক্তে ইউরিক অ্যাসিড বাড়লে আয়ু কমে!

রক্তে উচ্চ মাত্রার ইউরিক অ্যাসিড মানুষের আয়ু কমিয়ে দিতে পারে। ইউরিক অ্যাসিড এক ধরনের রাসায়নিক যা খাবার হজম করবার সময় শরীরে উৎপন্ন হয়। ইউরিক অ্যাসিডে 'পিউরিনস' নামে এক ধরনের অ্যামিনো অ্যাসিড থাকে যা কিছু কিছু খাবারের মধ্যে পাওয়া যায়।
ইউরিক অ্যাসিড রক্তের সঙ্গে মিশে গিয়ে কিডনিতে পরিশ্রুত হয়ে প্রস্রাবের সঙ্গে বেরিয়ে যায়। কিন্তু মাঝে মধ্যে শরীর এতটা বেশি পরিমাণের ইউরিক অ্যাসিড উৎপাদন করে ফেলে যে তা ঠিক মতো পরিশ্রুত হতে পারে না। পারিবারিক রোগভোগের ইতিহাস, কর্মঠ না হওয়া এবং প্রচুর পরিমাণ আমিষ খাওয়ার ফলে শরীরে অত্যধিক ইউরিক অ্যাসিড উৎপন্ন হতে পারে।
প্রয়োজনের অতিরিক্ত ইউরিক অ্যাসিড যদি নিয়ন্ত্রণ না করা যায় তা হলে বাতের সমস্যা দেখা দিতে পারে এবং কিডনিতে পাথর তৈরি হতে পারে। এমনকি, এ থেকে কিডনি চিরতরে বিকলও হয়ে যেতে পারে। সাধারণত ইউরিক অ্যাসিড হাঁটু এবং বিভিন্ন অস্থিসন্ধিতে জমা হয়। এর ফলে হাঁটু ফুলে যায়। ব্যথা হয়। হাঁটতেও সমস্যা হয়।
অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন এবং অত্যধিক প্রোটিনযুক্ত খাবার খাওয়ার ফলে রক্তে ইউরিক অ্যাসিডের পরিমাণ বেড়ে যায়। অধিকাংশ চিকিৎসকের মতে, যারা নিয়মিত মাছ-মাংস খেয়ে থাকেন, তাদের ইউরিক অ্যাসিড বাড়ার ঝুঁকি বেশি। অত্যধিক মদ্যপানও ইউরিক অ্যাসিডের কারণ হতে পারে।
খাদ্যতালিকা থেকে যা যা বাদ দেবেন
যে সব খাবারে পিউরিনের পরিমাণ বেশি সেই খাবারগুলো কমিয়ে দিতে হবে। ইউরিক অ্যাসিড থেকে মুক্তি পেতে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকা থেকে যা যা বাদ দেবেন-
মাংস, ডিম বা মাছে পিউরিন বেশি মাত্রায় থাকায় খাওয়া কমিয়ে দিতে হবে। এ ছাড়া মাশরুম, মসুরের ডাল, মটর ডাল ও পালংশাক খাওয়াও কমাতে হবে। সেই সঙ্গে শিমের বীজ, বরবটি, কড়াইশুঁটি। খাসির মাংস, মেটের মতো অত্যধিক প্রোটিনযুক্ত খাবার। বিভিন্ন সামুদ্রিক মাছ এবং মাছের ডিম। অ্যালকোহল এবং ক্যাফিন জাতীয় পানীয়। মিষ্টি জাতীয় খাবার এবং ফল।
চিনি থেকে সাবধান। বিভিন্ন ধরনের পানীয় ও মিষ্টি খাবারে ফ্রুক্টোস নামের একটি জিনিস ব্যবহৃত হয়। এই ফ্রুক্টোস কিন্তু ইউরিক অ্যাসিড বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। সমীক্ষায় দেখা গেছে যে যারা বেশি পরিমাণে মিষ্টি পানীয় খান তারা বেশি বাতের সমস্যায় ভোগেন।
কিডনি স্টোনের সমস্যা হলে খাবারে লবণের পরিমাণ কমিয়ে দিন। টমেটোর রস, প্যাকেটজাত খাবার খাবেন না। প্যাকেটজাত খাবারে অধিক পরিমাণে লবণ থাকে।
কৃত্রিম রং, চিনি বা কর্ন সিরাপ দেওয়া খাবার একেবারে বন্ধ করা উচিত। কোলা জাতীয় পানীয়, রং দেওয়া জেলি, জ্যাম, সিরাপ, কৌট বন্দি ফ্রুট জ্যুস খাওয়া চলবে না। স্মোকড ও ক্যানড ফুড খাওয়া চলবে না। আচার, চানাচুর, নোনা মাছ খাওয়া বন্ধ রাখতে হবে।
কী কী খেতে পারবেন
ইউরিক অ্যাসিড বাড়লে এবং কিডনিতে স্টোনের সমস্যা দেখা দিলে অধিক পরিমাণে পানি পান করুন। প্রতিদিন আড়াই থেকে তিন লিটার পানি পান করবেন। পানি দেহের যে কোনো ধরনের বিষকে দূর করতে সহায়তা করে। এ ক্ষেত্রে ইউরিক এসিড নিয়ন্ত্রণেও কার্যকর পানি। ফলে ইউরিক অ্যাসিডের ঘনত্ব কমে এবং তা প্রস্রাবের মাধ্যমে শরীর থেকে বেরিয়ে যায়।
কুসুম ছাড়া ডিমের সাদা অংশ। সবুজ শাক-সব্জি, ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার, অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট সমৃদ্ধ খাবার।
অধিক আঁশযুক্ত খাবার যেমন- সবুজ শাকসবজি এবং ফলমূল। এই আঁশযুক্ত খাবার শরীর থেকে ইউরিক এসিড মল আকারে বের করে দেয়।
ব্ল্যাক চেরির জুস ইউরিক অ্যাসিডের পরিমাণ কম করে। কিডনি স্টোনের সমস্যা থাকলে এই জুস পান করে উপকার পেতে পারেন। ব্ল্যাক চেরিতে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট ও অ্যান্টি ইনফ্ল্যামেটারি গুণ বর্তমান থাকে, যা ইউরিক অ্যাসিড কম করতে সাহায্য করে।
বেশি বেশি টক ফল বা ভিটামিন-সি জাতীয় খাবার খেতে হবে। গ্রিন টি ইউরিক এসিড কমাতে সহায়তা করে। তাই ইউরিক এসিড কমাতে নিয়মিত গ্রিন টি পান করতে পারেন।
চর্বিহীন মাংস খেতে হবে। এ ক্ষেত্রে মুরগির মাংস উত্তম। তবে চামড়া এবং পাখনা খাওয়া যাবে না। কারণ এতে প্রচুর চর্বি থাকে। তাছাড়া পরিমাণ মতো মাছ এবং কুসুম ছাড়া ডিম খাওয়া যাবে। ফ্যাট ছাড়া দুধ বা স্কিম মিল্কও খেতে পারবেন।
স্বাভাবিক অবস্থায় শরীরে ইউরিক অ্যাসিডের নির্দিষ্ট মাত্রা হল, পুরুষের ক্ষেত্রে: ৩.৪–৭.0 এমজি/ডিএল এবং মহিলার ক্ষেত্রে: ২.৪–৬.0 এমজি/ডিএল। এর চেয়ে বেশি হলে তা নিয়ন্ত্রণ করা অত্যন্ত প্রয়োজন। এর জন্য অব্যর্থ টোটকা অ্যাপেল সাইডার ভিনেগার। ১ চা চামচ ভিনেগার নিন, এক গ্লাস পানির সঙ্গে মিশিয়ে দিনে অন্তত ২-৩ বার এই মিশ্রণ পান করুন নিয়মিত। উপকার পাবেন।
(ঢাকাটাইমস/১৩ডিসেম্বর/আরজেড/এজেড)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন












































