লন্ডনে বাংলাদেশি নারী খুন, একজন গ্রেপ্তার

ঢাকাটাইমস ডেস্ক
 | প্রকাশিত : ৩০ মার্চ ২০২২, ১২:০০

পূর্ব লন্ডনে আবাসিক এলাকার একটি জনবহুল ও বহুতল ফ্ল্যাটের নিচতলায় হত্যার শিকার হয়েছেন ইয়াসমীন বেগম নামে একজন ব্রিটিশ বাংলাদেশি নারী।

গত ২৪ মার্চের এই হত্যার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে কাইয়ূম মিয়া (৪০) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করে সোমবার আদালতে হাজির করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে হত্যা, ডাকাতি ও পরিচয় গোপন এবং মিথ্যা তথ্য প্রদান মিলিয়ে চারটি অভিযোগ আনা হয়েছে।

নিহত ইয়াসমীন সিংগেল মাদার (স্বামী পরিত্যাক্তা মা) হিসেবে পাঁচ ও ১০ বছরের দুই সন্তান নিয়ে সেখানে থাকতেন। তার বাড়ি বাংলাদেশের হবিগঞ্জ জেলার আউশকান্দি এলাকায়।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গত ২৪ মার্চ সকালে ইয়াসমীন রজার্স এস্টেটের বাসা থেকে পাশের বঙ্গবন্ধু প্রাইমারি স্কুলে দিয়ে আসেন দুই শিশু সন্তানকে। বড় ছেলে পড়ছে ইয়ার ফাইভে, ছোট ছেলে পড়ছে রিসিপশনে। এসময় অন্য আরেকজন অভিভাবকের সঙ্গে কথা বলেন বড় ছেলের হার্টের অসুখ নিয়ে। ইয়াসমীন ছেলেকে বাংলাদেশে নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন চিকিৎসার জন্য। কারণ এনএইচএসের চিকিৎসায় তিনি ভরসা পাচ্ছিলেন না। তারপর একজন প্রতিবেশী বলছিলেন, উনার সঙ্গে দেখা হয় দুপুর ২টায়।

একই বিল্ডিংয়ের বাসিন্দা সাংবাদিক সৈয়দ জহুরুল হক বলেন, আমার মেয়ে নিহত ইয়াসমীনের ছোট ছেলের সঙ্গে ক্লাসে যায়। একজন প্রতিবেশীর কাছে শুনেছি ইয়াসমীন দুপুর ২টার দিকে উনার বাসায় গিয়েছিলেন। তাহলে বুঝা যাচ্ছে এই হত্যা ২টা থেকে ৩টার মধ্যে হয়েছে।

স্কুল ছুটি হলেও ইয়াসমীন শিশুদের আনতে যাননি। তারপর স্কুল থেকে ফোন করে না পাওয়ায় স্কুল কর্তৃপক্ষ পুলিশে কল করে। পরে পুলিশ বাসায় গিয়ে বিকাল ৪টা ৬ মিনিটে দরজা ভেঙে লাশ উদ্ধার করে।

গোয়েন্দা পুলিশ, ফরেনসিক টিম, স্কটল্যান্ড ইয়ার্ড পুরো এলাকা ঘিরে শুরু করে তদন্ত। ২৬ মার্চ শনিবার ইয়াসমীনের লাশের ময়নাতদন্ত হয়। জানা যায় শরীরে ধারালো কিছু দিয়ে বেশ কয়েকটি আঘাত করা হয়।

হত্যার ৪৮ ঘণ্টা পর ২৬ মার্চ রাতে স্থানীয় এলাকাবাসী ও বায়তুল আমান মসজিদের পক্ষ থেকে এক দোয়ার আয়োজন করা হয়। এসময় স্থানীয় কাউন্সিলর সিরাজুল ইসলাম ছিলেন।

দোয়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত কমিউনিটি ওয়ার্কার ও সাংবাদিক আহাদ চৌধুরী বাবু জানান, এখানে হাঁটা দূরত্বে দুটি স্কুল ও একটি মাদ্রাসা। অথচ রাস্তায় সিসিটিভি কাজ করছে না। এসময় ঘটনাস্থল ভিজিট করতে আসেন মেয়র জন বিগস। তিনি নিশ্চিত করেন বাসিন্দাদের নিরাপত্তা জোরদার করতে কাউন্সিল কাজ করছে প্রতিনিয়ত। তিনি নিহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। সেই সঙ্গে শিশু দুটির ভবিষতের জন্য কাউন্সিল কাজ করে যাবে বলেও জানান তিনি। এসময় বাসিন্দারা এই হত্যায় জড়িত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারে পুলিশের তৎপরতা জোরদারের আহ্বান জানান।

ঘটনার প্রায় ৬৫ ঘণ্টা পর গত রবিবার (২৭ মার্চ) সকাল ৯টার দিকে পুলিশ হত্যাকারী সন্দেহে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে। পরদিন সোমবার সকাল ৮টা ২৩ মিনিটে গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম প্রকাশ করে পুলিশ। গ্রেপ্তার কাইয়ূম মিয়া (৪০) পূর্ব লণ্ডনের হোমারটন হাইস্ট্রিটের বাসিন্দা। কাইয়ুমের বিরুদ্ধে হত্যা ছাড়াও ডাকাতি, দুটি ভুয়া তথ্য দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। কাইয়ূমকে সোমবার বার্কিং সাইড ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে হাজির করা হয়। এই হত্যার পেছনে কী কারণ ছিল তা জানা যায়নি।

(ঢাকাটাইমস/৩০মার্চ/কেএম)

সংবাদটি শেয়ার করুন

প্রবাসের খবর বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :