কত দিন ইউপিতে যান না সেলিম চেয়ারম্যান?

সৈয়দ ঋয়াদ, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ১১ আগস্ট ২০২২, ১১:৩৯ | প্রকাশিত : ১১ আগস্ট ২০২২, ০৯:৪২

পদ্মা ও মেঘনা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও বিক্রি করে হাজার কোটি টাকার মালিক বনে যাওয়া চাঁদপুরের সেই বিতর্কিত ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান সেলিম খানের হদিস মিলছে না। দুদকের মামলার পরপরই ‘বালুখেকো সেলিম’ খানের আত্মগোপনে যাওয়ার বিষয়টি চাউর হয়।

গত ১ আগস্ট ৩৫ কোটি টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে চাঁদপুরে সদর উপজেলার ১০ নম্বর লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সেলিম খানের বিরুদ্ধে মামলা করেন দুদকের সহকারী পরিচালক আতাউর রহমান সরকার।

দুদকের মামলায় সেলিম খানকে গ্রেপ্তার করা হবে কি-না এই বিষয়ে কিছু বলতে রাজি হননি দুদক সচিব মো. মাহবুব হোসেন।

সেলিম খানকে সর্বশেষ দিন দশেক আগে দেখা গেছে এলাকায়। এর পর থেকে লোকচক্ষুর আড়ালে তিনি। তবে কি সেলিম খান পালিয়ে গেছেন?

ধারণা করা হচ্ছে, অবৈধভাবে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে পাশের দেশ ভারতে আশ্রয় নিয়েছেন সেলিম খান। চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র বলছে, ভারতের চিত্রনায়ক দেবের বাসায় আশ্রয় নিয়েছেন তিনি।

সীমান্ত দিয়ে পাড়ি দেওয়ার কারণ হিসেবে সূত্র জানায়, গত এপ্রিলে আদালতের নির্দেশে তার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়, জব্দ করা হয় পাসপোর্ট। তাই বৈধ পথে তার দেশ ছাড়ার সুযোগ নেই বলে জানান দুদকের তদন্তসংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা।

চেয়ারম্যান সেলিম খান কত দিন ধরে ইউনিয়ন পরিষদে যাচ্ছেন না? এ ব্যাপারে জানতে ইউপি সদস্য (মেম্বার) মনির শেখের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঢাকাটাইমসকে জানান, দশ দিন আগে ইউনিয়ন পরিষদের মিটিংয়ে অংশ নিয়েছিলেন সেলিম খান। তারপর আর তাকে দেখেননি।

ওই ইউপির আরেক সদস্য ফারুক মাঝি ঢাকাটাইমসকে জানান, গত ৩০ জুলাইয়ের দিকে তার সঙ্গে সেলিম চেয়ারম্যানের কথা হয়। মামলার পর আর ইউনিয়ন পরিষদে তাকে দেখেননি।

এদিকে সেলিম খান তার রাজধানীর কাকরাইলের বাসায়ও থাকছেন না বলে জানা গেছে। সেলিম খানের একটি ঘনিষ্ঠ সূত্র ঢাকাটাইমসকে জানান, দুদকের মামলা হওয়ার পর থেকে সেলিম খান বাসায় থাকছেন না। এমনকি কাকরাইলের অফিসেও যান না। তবে দেশ ছেড়ে গেছেন কি-না এমন কোনো তথ্য জানা নেই তার।

সেলিম চেয়ারম্যান নিজ এলাকায় পরিচিত ‘বালুখেকো সেলিম’ নামে। ইউনিয়ন চেয়ারম্যান হলেও নিজের প্রভাব খাটিয়ে চাঁদপুরের নদী দখল থেকে শুরু করে রাজনীতির মাঠ সবই এক হাতে নিয়ন্ত্রণ করেন তিনি।

অভিযোগ আছে, মন্ত্রী-রাজনীতিকদের প্রভাব ব্যবহার করে ২০১৫ সাল থেকে জেলার মেঘনা ও পদ্মার ৪৩ কিলোমিটার এলাকা দখলে রেখে ২০০ ড্রেজার দিয়ে বালু তোলেন তিনি। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করায় খোদ জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশকে অন্যত্র বদলি করানোতে ভূমিকা রাখেন বলে ধারণা করেন চাঁদপুরের মানুষ।

সেলিম খানের অবৈধভাবে বালু তোলার বিষয়টি উচ্চ আদালতেও উঠেছে। গত ৮ আগস্ট সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ সেলিম খানের কাছ থেকে বালু তোলা বাবদ রাজস্ব হিসেবে পাওনা টাকা নির্ধারণ করে তা আদায়ের নির্দেশ দিয়েছেন। চাঁদপুরের জেলা প্রশাসককে এ নির্দেশ বাস্তবায়ন করতে বলা হয়েছে।

প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ নির্দেশনা দিয়ে এই সংক্রান্ত রায় প্রকাশ করেন। রায়ের পরই প্রশ্ন উঠেছে, কত টাকা রাজস্ব ফাঁকি দিয়েছেন বালুখেকো সেলিম খান? আর সরকারকে কত টাকা ফেরত দিতে হবে তার?

চাঁদপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোছাম্মৎ রাশেদা আক্তার ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘হাইকোর্টের রায় আমরা অবশ্যই প্রতিপালন করব। শিগগিরই হয়তো কাজ শুরু করব। তার (সেলিম) কত টাকা দেনা, সেটা নির্ধারণ হলে কীভাবে টাকা আদায় করা যায় সেই প্রক্রিয়া শুরু হবে।’

(ঢাকাটাইমস/১১আগস্ট/মোআ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বিশেষ প্রতিবেদন বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :