আরেক দফা বাড়ছে গ্যাস-বিদ্যুতের দাম, ঈদের পর ঘোষণা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ১৯ মার্চ ২০২৩, ০৮:১২

ভর্তুকির চাপ কমাতে আরেক দফা গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বাড়াতে যাচ্ছে সরকার। এ দফায় বিদ্যুতের ৫ শতাংশ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। কিন্তু গ্যাসের দাম কি পরিমান বাড়তে পারে সে বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি। আসন্ন ঈদুল ফিতরের পর গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির ঘোষণা দেওয়া হতে পারে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

চলতি বছরের শুরু থেকেই বাড়ছে বিদ্যুতের দাম। গত ১২ জানুয়ারি বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধির পর ফেব্রুয়ারি শেষ না হতেই তিন ধাপে ১৫ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে বিদ্যুতের দাম। সর্বশেষ ২৮ ফেব্রুয়ারি সরকারের নির্বাহী আদেশে বিদ্যুতের দাম খুচরা পর্যায়ে ৫ শতাংশ বাড়িয়েছে সরকার। এর আগে, গত ৩১ জানুয়ারি সরকারের নির্বাহী আদেশে বিদ্যুতের দাম পাইকারি পর্যায়ে ৮ শতাংশ এবং গ্রাহক পর্যায়ে ৫ শতাংশ বাড়ানো হয়। তার আগে ১২ জানুয়ারি ভোক্তাপর্যায়ে বিদ্যুতের খুচরা দাম গড়ে প্রতি ইউনিটে ৫ শতাংশ বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার।

বিদ্যুতের নতুন দাম কার্যকর হওয়ার পর থেকেই গ্যাসের দাম বাড়ানোর তোড়জোড় শুরু হয়। গ্রাহক পর্যায়ে গ্যাসের দাম সর্বশেষ বাড়ানো হয়েছিল গত বছরের ৫ই জুন। ওই সময় গ্যাসের দাম ২২ শতাংশের বেশি বাড়ানো হয়। এই মূল্যবৃদ্ধির পরও লোকসান হচ্ছে বলে দাবি সংশ্লিষ্ট বিতরণ কোম্পানিগুলোর। ফলে বছর না ঘুরতেই আবারও গ্যাসের দাম বাড়ানোর তোড়জোর চলছে। বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে জ্বালানি বিভাগ। বিদ্যুতের মতো গ্যাসের ক্ষেত্রেও নির্বাহী আদেশে গ্যাসের দাম বাড়ানোর ঘোষণা আসতে পারে।

ভোক্তা পর্যায়ে জ্বালানি তেল, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম নির্ধারণ, পুনর্নিধারণ ও সমন্বয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিধান রয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন আইনে। সে অনুযায়ী যেকোনো সময় দাম সমন্বয়ের ক্ষমতা রাখে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়। গত দুই মাসে বিদ্যুতের দাম বাড়িয়ে সে ক্ষমতা প্রয়োগ করা হয়েছে। তখন বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেছিলেন, ‘প্রতি মাসেই বিদ্যুতের দাম সমন্বয়ের চিন্তা রয়েছে তাদের।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সে প্রক্রিয়ার অংশ হিসাবেই আরেক দফা বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির চিন্তা করা হচ্ছে। তবে রমজান সামনে আসায় সে ঘোষণা আসবে এপ্রিলে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঈদের পরে আরও ৫ শতাংশ দাম বৃদ্ধির ঘোষণা আসতে পারে।

পাওয়ার সেল এর মহাপরিচালক মোহাম্মদ হোসাইন বলেন, ‘সরকার একসময় বিদ্যুতে দশ থেকে ১২ হাজার টাকা ভর্তুকি দিতো। এখন জ্বালানির মূল্য বাড়ার কারণে সে ভর্তুকি হয়ে গেছে ৪০ হাজার কোটি টাকা। সরকারের তো সীমাবদ্ধতা রয়েছে। সরকারের আরও অগ্রাধিকারমূলক খাত রয়েছে। বিদ্যুতের দাম যাই হোক, অর্ধেকের কম দামে কৃষকদের বিদ্যুৎ দেওয়া হচ্ছে। এরকম অনেক জায়গা আছে যেখানে সরকারকে ভর্তুকি দিতে হয়। এটা অনেক বড় চাপ।’ বিদ্যুতকে ব্যয়বহুল উল্লেখ করে মোহাম্মদ হোসাইন আরও বলেন, ‘কোন অবস্থাতেই বিদ্যুতের অপচয় করা যাবে না। যে ১৫ শতাংশ বিদ্যুতের দাম বেড়েছে তা একটু চেষ্টা করলেই ম্যানেজ করে নিতে পারবেন। এতে করে বিদ্যুৎ সাশ্রয় হবে। সরকার একটা ব্যালেন্স করতে পারবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম ২০ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। এখন বিতরণ সংস্থাগুলো ভোক্তা পর্যায়ে ২০ শতাংশ না বাড়ালে তো তারা পিডিবির মতো লোকসানে পড়ে যাবে। এই চিন্তা করেই আরেক দফা বাড়ানো হবে। না বাড়ালে তো সমন্বয় হবে না। যেটুকু বাড়ানো হয়েছে তাতে কিছুটা গ্যাপ কমেছে। আবার জ্বালানির দামও কমতে শুরু করেছে।’

বর্তমান পদ্ধতি অনুযায়ী, বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্র ও আমদানি করা বিদ্যুৎ বেশি দামে কিনে কম দামে বিক্রি করে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)। ফলে প্রতি বছর হাজার হাজার কোটি টাকা লোকসান গুনতে হয় প্রতিষ্ঠানটিকে। অন্যদিকে সিস্টেম লসের নামে চুরি হয় শত কোটি টাকার বিদ্যুৎ। আর এই লোকসান পূরণে সরকারের কাছ থেকে মোটা অংকের ভর্তুকি নেয় রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাটি। আর দিনকে দিন বাড়ছে এই ভুর্তুকির বোঝা।

গেল অর্থবছরে যেখানে ২৯ হাজার ৬৫৮ কোটি টাকা ভর্তুকি, সেখানে চলতি অর্থবছরে ৪৪ হাজার ২০ কোটি টাকা চাওয়া হয়েছে। যদিও সরকার চলতি অর্থবছরে বিদ্যুৎ খাতের জন্য ভর্তুকি বরাদ্দ রেখেছে ১৭ হাজার কোটি টাকা।

পিডিবির এই লোকসানের বোঝা কমাতে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) গত বছরের ২১ নভেম্বর বিদ্যুতের পাইকারি দাম ১৯ দশমিক ৯২ শতাংশ বৃদ্ধি করে। এরপরই গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম গড়ে ২০ শতাংশ বৃদ্ধির আবেদন করে বিতরণ কোম্পানিগুলো। ওই আবেদনের ওপরে গত ৮ জানুয়ারি গণশুনানি করে বিইআরসি। সে ধারবাহিকতায় বিদ্যুতের দাম বাড়িয়ে যাচ্ছে বিদ্যুৎ বিভাগ।

এদিকে গ্যাসের দাম বাড়ানোর যুক্তি হিসেবে আন্তর্জাতিক বাজারে এলএনজির দাম দেখিয়েছি পেট্রোবাংলা। সে কারণে গ্যাসের দাম বাড়ানোর কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিইআরসির এক সদস্য বলেন, ‘গ্যাসের দাম বাড়ানোর চাপ রয়েছে। তবে কি পরিমাণ বাড়ানো হতে পারে তা এখনও জানা যায়নি। সূত্র বলছে, গ্যাস বিতরণ কোম্পানিগুলো মার্জিন বৃদ্ধির আবেদন করেছে। তবে সংস্থাটির কারিগরি কমিটি বলছে, ইউনিট প্রতি বিদ্যমান ২৫ পয়সা চার্জ কোনো কোম্পানির প্রয়োজনীয়তা নেই। ছয় বিতরণ কোম্পানির মধ্যে শুধু কর্ণফুলী ছাড়া অন্য পাঁচ কোম্পানির মার্জিন বাতিলের সুপারিশ করা হয়েছে।

কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক শামসুল আলম বলেন, ‘বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়তি। এই দাম বিবেচনায় নিয়ে ভোক্তা পর্যায়ে গ্যাসের দাম বাড়ানো হলে জনজীবনে আরও অস্থিরতা নেমে আসবে। পরবর্তীতে গ্যাসের দাম কমানো হলে ভোক্তারা সে সুবিধা পাবেন না। অতীতে এর প্রমাণ রয়েছে জ্বালানির দাম কমলেও গাড়ি ভাড়া কমেনি। তাই অন্তত আরেকটু অপেক্ষা করে বিশ্ববাজার দেখে দাম সমন্বয় করা উচিত হবে।’

(ঢাকাটাইমস/১৯মার্চ/আরকেএইচ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

জাতীয় এর সর্বশেষ

বাংলাদেশে ৫০ হাজার টন পেঁয়াজ রপ্তানির অনুমতি ভারতের

প্রতীক নিয়ে নির্বাচনী প্রচারণায় কুমিল্লা ও ময়মনসিংহ মেয়র প্রার্থীরা

রাজধানীজুড়ে আরও পাঁচটি মেট্রোরেল করা হবে: প্রধানমন্ত্রী

ট্র্যাফিক সিগন্যাল লাইটগুলো চালু করতে আইজিপিকে নির্দেশ দিয়েছি: প্রধানমন্ত্রী

প্রথমবারের মতো আমদানি করা হলো ৫০ মেট্রিক টন নারিকেল

নির্বাচন নিয়ে জার্মানি সফরে কেউ প্রশ্ন তোলেনি: প্রধানমন্ত্রী 

১৫শ স্বেচ্ছাসেবী নিয়ে লাউতলা ও রামচন্দ্রপুর খাল উদ্ধারে মেয়র আতিক

নারীর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে বাংলাদেশ থেকে পশ্চিমাদের শিক্ষা নেওয়া উচিত : প্রধানমন্ত্রী

লিবিয়া থেকে ফিরলেন ১৪৪ বাংলাদেশি

জার্মানি সফর নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী

এই বিভাগের সব খবর

শিরোনাম :